top of page

২০২৬ সালের দুর্গাপূজা সামনে রেখে খাদ্য নিরাপত্তা পরিদর্শন জোরদার করল পশ্চিমবঙ্গ।

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Sep 7
6 min read

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যজুড়ে খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে নজরদারি জোরদার করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। কলকাতার রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, মলগুলির ফুড কোর্ট, খাদ্য-প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট এবং পানীয় জল বোতলজাতকারী সংস্থাগুলিকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি ও পরীক্ষা। মূল লক্ষ্য, পুজোর ভিড়ের সময়ে বাসি, মেয়াদোত্তীর্ণ বা অনিরাপদ খাবার যাতে ক্রেতাদের কাছে না পৌঁছয়।


কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার প্রতিটি রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের রান্নাঘর অন্তত একবার করে পরীক্ষা করা পুরসভার লক্ষ্য। রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তরও একই সঙ্গে জেলায় জেলায় অভিযান চালাচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ইতিমধ্যে ১,৭৩০টি অভিযান হয়েছে এবং তার মধ্যে ১,৫২৫টি ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে কলকাতার একটি ব্যস্ত খাবারের দোকানের রান্নাঘর পরিদর্শন চলছে।
পুজোর আগে রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখছে পরিদর্শক দল।

কলকাতায় প্রতিটি রান্নাঘর পরীক্ষা করার লক্ষ্য নিয়েছে পুরসভা


কলকাতা পুরসভা পুজোর আগে শহরের খাদ্য ব্যবসার উপর বিশেষ নজর দিয়েছে। দুর্গাপুজোর সময় শহরে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় বেরোন। প্যান্ডেল দেখা, রাতভর ঘোরাঘুরি, বাইরে খাওয়া, মল ও ফুড কোর্টে ভিড়, সব মিলিয়ে খাবারের চাহিদা বহু গুণ বাড়ে। সেই সময় খাবারের মান কমে গেলে বা সংরক্ষণে ত্রুটি থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


এই প্রেক্ষাপটে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানের রান্নাঘরে ঢুকে সরাসরি পরীক্ষা করছে। শুধু ডাইনিং এরিয়া দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। রান্নাঘরে খাবার কীভাবে রাখা হচ্ছে, ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না, কাঁচা মাংস ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


পরিদর্শনের আওতায় এসেছে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার-পাড়া ও বাণিজ্যিক এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে:


  • বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট

  • ওয়াটারলু স্ট্রিট

  • পার্ক স্ট্রিট

  • বড় মলগুলির ভিতরে থাকা রেস্তোরাঁ ও ফুড কোর্ট

  • অন্যান্য ব্যস্ত বাজার ও খাবারের এলাকা


কলকাতার বহু পুরোনো খাবারের দোকান ও জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ পুজোর সময় অতিরিক্ত চাপ সামলায়। প্রশাসনের মতে, সেই চাপের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি।


বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে মাংস ফেলে দেওয়ার নির্দেশ


বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের নিউ আলিয়া হোটেলে পরিদর্শনের সময় প্রায় ২০ কেজি মুরগির মাংস ও খাসির মাংস ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।


এই ঘটনাটি প্রশাসনের বৃহত্তর অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। খাবার ব্যবসায় কাঁচা মাংস, মাছ, দুধজাত পণ্য এবং রান্না করা খাবার সবচেয়ে বেশি সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হয়। ফ্রিজে ঠিক তাপমাত্রা না থাকলে, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা হলে, বা দীর্ঘ সময় খাবার খোলা অবস্থায় থাকলে দূষণের ঝুঁকি বাড়ে।


খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তরের পরিদর্শকেরা সাধারণত কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে দেখেন:


  • খাবার ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না

  • মাংস ও মাছ ঢেকে রাখা হচ্ছে কি না

  • মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে কি না

  • রান্নার তেল বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে কি না

  • রান্নাঘরে পোকামাকড় বা ইঁদুরের চিহ্ন আছে কি না

  • কর্মীদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা মানা হচ্ছে কি না

  • খাবার পরিবেশনের জায়গা পরিষ্কার রাখা হচ্ছে কি না


খাবারের নিরাপত্তা শুধু রান্নার স্বাদ বা রেসিপির বিষয় নয়। এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। পুজোর মতো বড় উৎসবে সামান্য অবহেলাও অনেক মানুষের অসুস্থতার কারণ হতে পারে।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে একটি রেস্তোরাঁর ফ্রিজে রাখা কাঁচা মাংসের প্যাকেট পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মাংস ও মাছ সংরক্ষণের পদ্ধতি এখন নজরদারির কেন্দ্রে।

রাজ্যজুড়ে ১,৭৩০টি অভিযান, ১,৫২৫ ক্ষেত্রে অনিয়ম


শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তর অভিযান চালিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে ১,৭৩০টি অভিযান হয়েছে। তার মধ্যে ১,৫২৫টি ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিয়ম পাওয়া গিয়েছে। সংখ্যাটি প্রশাসনের কাছে সতর্কবার্তা, কারণ পুজোর আগে খাদ্য ব্যবসার পরিসর আরও বাড়বে।


এই অভিযানে কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপের কথাও সামনে এসেছে। ১৩টি খাদ্য-প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাঁচটি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। ছয়টি পরিশোধিত জল বোতলজাতকারী প্ল্যান্টও বন্ধ করা হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।


পদক্ষেপ

রিপোর্ট অনুযায়ী সংখ্যা

কী বোঝায়

মোট অভিযান

১,৭৩০

রাজ্যজুড়ে পরিদর্শন চালানো হয়েছে

অনিয়ম ধরা পড়েছে

১,৫২৫

অধিকাংশ অভিযানে ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে

খাদ্য-প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বন্ধ

১৩

গুরুতর নিয়মভঙ্গ বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ

রেস্তোরাঁর লাইসেন্স স্থগিত

৫

খাদ্য ব্যবসা চালানোর অনুমতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব

পরিশোধিত জল বোতলজাত প্ল্যান্ট বন্ধ

৬

পানীয় জলের নিরাপত্তা নিয়েও নজরদারি


পরিদর্শনকারীরা শুধু বড় রেস্তোরাঁ নয়, ছোট খাবারের দোকান, ক্যাটারিং সংস্থা, ফুড কোর্ট এবং খাদ্য সরবরাহকারী ইউনিটের দিকেও নজর দিচ্ছেন। পুজোর সময়ে অনেক ব্যবসা অস্থায়ীভাবে উৎপাদন বাড়ায়। সেই সময় নিয়ম মানা না হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।


পরিদর্শনে কী কী পরীক্ষা করা হচ্ছে


অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি ও FSSAI মানদণ্ড। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় FSSAI লাইসেন্স ও নিয়ম মেনে চলা খাদ্য ব্যবসার জন্য বাধ্যতামূলক। পরিদর্শকেরা সেই মানদণ্ডের ভিত্তিতেই নথি, রান্নাঘর, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং কর্মীদের আচরণ পরীক্ষা করছেন।


এই food-safety inspection অভিযানে কয়েকটি ক্ষেত্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা


রান্নাঘরের মেঝে, দেওয়াল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কাটিং বোর্ড, ছুরি, হাঁড়ি, কড়াই এবং পরিবেশন সরঞ্জাম পরিষ্কার কি না দেখা হচ্ছে। রান্নাঘরের গন্ধ, আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণও পরীক্ষা করা হচ্ছে।


খাবারের সংরক্ষণ


কাঁচা খাবার ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা হচ্ছে কি না, খাবার খোলা পড়ে আছে কি না, ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজ কাজ করছে কি না, এসব বিষয় পরিদর্শনের অংশ। মাংস, মাছ, ডিম, দুধজাত পণ্য এবং সসের মতো দ্রুত নষ্ট হতে পারে এমন খাবার নিয়ে বেশি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।


মেয়াদোত্তীর্ণ ও বাসি খাবার


মেয়াদোত্তীর্ণ সস, মশলা, প্যাকেটজাত উপকরণ বা পুরোনো রান্না করা খাবার ব্যবহার হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেক সময়ে খাবারের গন্ধ বা রঙ স্বাভাবিক থাকলেও তা নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই লেবেল, তারিখ এবং সংরক্ষণের ধরন পরীক্ষা করা জরুরি।


রান্নার তেল


তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করলে তার মান নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে ভাজাভুজির দোকান ও ফাস্ট ফুড কাউন্টারে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শকেরা রান্নার তেলের অবস্থা এবং ব্যবহার পদ্ধতির দিকেও নজর দিচ্ছেন।


কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি


খাবার প্রস্তুতকারী কর্মীরা গ্লাভস, হেয়ারনেট বা অ্যাপ্রন ব্যবহার করছেন কি না, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আছে কি না, অসুস্থ কর্মী খাবার তৈরি করছেন কি না, এসব বিষয়ও দেখা হচ্ছে। খাবার নিরাপদ রাখতে শুধু উপকরণ নয়, মানুষের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।


আই-লেভেল দৃশ্যে একটি ফুড কোর্টের রান্নার কাউন্টারে স্বাস্থ্যবিধি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মল ও ফুড কোর্টও পুজোর আগে বিশেষ নজরদারির আওতায়।

রেস্তোরাঁ শিল্প পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছে


রেস্তোরাঁ শিল্পের প্রতিনিধিরা সাধারণভাবে এই অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, পুজোর আগে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কড়া নজরদারি থাকলে গ্রাহকদের আস্থা বাড়ে। একই সঙ্গে সৎ ব্যবসায়ীরাও লাভবান হন, কারণ নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র পরিষ্কার হয়।


তাঁরা কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। ভালো রেফ্রিজারেশন, পরিষ্কার রান্নাঘর, নিয়মিত পেস্ট কন্ট্রোল, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি এবং খাবারের সঠিক লেবেলিং, এই সবই খাদ্য ব্যবসার ন্যূনতম শর্ত হওয়া উচিত বলে শিল্পমহলের মত।


তবে পুজোর আগে চাপ বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ হয়। অস্থায়ী রান্নাঘর বা বাড়তি স্টোরেজ ব্যবস্থাও তৈরি হয়। এই সময় প্রশিক্ষণ ও নজরদারি না থাকলে ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই শিল্প প্রতিনিধিদের মতে, পরিদর্শন শুধু শাস্তিমূলক না হয়ে সচেতনতামূলকও হওয়া দরকার।


কেন পুজোর আগে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ


দুর্গাপুজো পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলির একটি। কলকাতার রাস্তা, প্যান্ডেল, মেট্রো স্টেশন, বাজার, রেস্তোরাঁ এবং মলে মানুষের ঢল নামে। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে খাবারের চাহিদা থাকে। কাবাব, বিরিয়ানি, রোল, চাউমিন, কাটলেট, মিষ্টি, পানীয়, প্যাকেটজাত খাবার, সব ধরনের খাবারের বিক্রি বাড়ে।


এই বাড়তি চাহিদা অনেক সময় সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলে। মাংস ও মাছ বেশি পরিমাণে মজুত করা হয়। রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় রাখা হয়। একসঙ্গে অনেক অর্ডার সামলাতে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের আশঙ্কা, এই জায়গাগুলিতেই অনিয়ম ঘটতে পারে।


খাদ্যবাহিত অসুস্থতার সাধারণ কারণগুলির মধ্যে থাকে দূষিত জল, অপরিষ্কার রান্নাঘর, অপর্যাপ্ত রান্না, ভুল সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ। পুজোর সময় জনসমাগম বেশি থাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বহু মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।


এই কারণেই প্রশাসন উৎসবের আগে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে জোর দিচ্ছে। অভিযান শেষ মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং পুজোর আগে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা।


ব্যবসায়ীদের জন্য বার্তা পরিষ্কার


এই অভিযানের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট। লাইসেন্স থাকলেই দায়িত্ব শেষ নয়। রোজকার কাজের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে।


খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁর জন্য কয়েকটি নিয়মিত অভ্যাস জরুরি:


  • ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা

  • কাঁচা মাংস, মাছ ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা

  • পুরোনো তেল বদলানো

  • মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ সরিয়ে ফেলা

  • রান্নাঘর ও ড্রেনেজ পরিষ্কার রাখা

  • পেস্ট কন্ট্রোলের রেকর্ড রাখা

  • কর্মীদের হাত ধোয়া ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করা

  • FSSAI লাইসেন্স ও নথি আপডেট রাখা


নিয়ম মানা শুধু জরিমানা এড়ানোর জন্য নয়। এটি গ্রাহকের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। পুজোর সময়ে একবার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ উঠলে তার প্রভাব বড় হতে পারে।


টপ-ডাউন দৃশ্যে একটি পরিষ্কার রান্নাঘরের টেবিলে ঢাকা খাবারের পাত্র ও পরীক্ষা নথি রাখা আছে।
নিয়মিত রেকর্ড রাখা ও পরিষ্কার সংরক্ষণ ব্যবস্থাই খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি।

সামনে কী হতে পারে


পুজোর আগে এই অভিযান আরও চলতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে ইঙ্গিত। কলকাতার পাশাপাশি জেলার বাজার, মেলা চত্বর, অস্থায়ী খাবারের স্টল এবং বড় রেস্তোরাঁ চেইনও নজরদারির আওতায় থাকতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পুজোর সময় বেশি ভিড় হয়, সেখানে পরিদর্শনের গুরুত্ব বাড়বে।


যেসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে খাবার বাজেয়াপ্ত করা, লাইসেন্স স্থগিত করা বা ইউনিট বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ছোটখাটো ত্রুটির ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা, সংশোধনের নির্দেশ এবং পুনরায় পরিদর্শনের সম্ভাবনাও থাকে।


গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। খাবারের দোকান পরিষ্কার কি না, খাবার ঢেকে রাখা হয়েছে কি না, অস্বাভাবিক গন্ধ বা রঙ আছে কি না, এসব বিষয় খেয়াল করা উচিত। সন্দেহজনক খাবার এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।


পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাক-পুজো খাদ্য নিরাপত্তা অভিযান প্রশাসনের একটি বড় পরিসরের জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ। কলকাতা থেকে জেলা, রেস্তোরাঁ থেকে বোতলজাত জল প্ল্যান্ট, সব জায়গায় বার্তা একই: উৎসবের আনন্দের সঙ্গে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করাও জরুরি। দুর্গাপুজোর ভিড়ের আগে এই নজরদারি যদি নিয়মিত মানোন্নয়নে সাহায্য করে, তা হলে লাভ হবে ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং পুরো খাদ্য পরিষেবা ব্যবস্থার।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page