top of page

ভারতে ও নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ৭০ জনের মৃত্যু; তীব্র হচ্ছে মৌসুমি বৃষ্টিপাত

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
4 days ago
6 min read

ভারত ও নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে টানা মৌসুমি বৃষ্টির জেরে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬-তে পৌঁছেছে, আর প্রতিবেশী নেপালে ১৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশেই বহু মানুষ ঘরছাড়া, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, এবং নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় প্রশাসন উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।


দুর্যোগের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নদী অববাহিকা, নিচু এলাকা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে। ভারতের উত্তর প্রদেশে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টি ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। নেপালের একাধিক জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্য যেখানে প্লাবিত গ্রামে কাদামাটির জল ঘরবাড়ি ঘিরে রেখেছে
টানা বৃষ্টিতে নদী উপচে পড়ায় বহু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

ভারতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬


ভারতে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মৃতের সংখ্যা ৫৬-তে পৌঁছেছে। উত্তর প্রদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। সেখানে অস্বাভাবিক বৃষ্টি, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা মিলিয়ে বহু জেলায় স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।


স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীর ধার, চর এলাকা এবং কাঁচা বাড়িতে থাকা মানুষদের সতর্ক করা হয়েছে। জলমগ্ন রাস্তা ও ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজের গতি অনেক জায়গায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


উত্তর প্রদেশে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে কারণ রাজ্যের বহু অঞ্চল বড় নদী ও শাখা নদীর ওপর নির্ভরশীল। বর্ষার সময় নদীর জল স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে, কিন্তু এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় নদী বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে উঠেছে বলে স্থানীয় রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।


ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে:


  • নিচু এলাকায় দ্রুত জল ঢুকে পড়া

  • কাঁচা ও দুর্বল বাড়ির ক্ষতি

  • সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া

  • পানীয় জল ও খাদ্য সরবরাহে সমস্যা

  • গবাদি পশু ও ফসলের ক্ষতি

  • নদীর ধারবর্তী বসতিতে ভাঙনের ঝুঁকি


বন্যার জল নামতে সময় লাগলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে। জলবাহিত রোগ, সাপের কামড়, দূষিত পানীয় জল এবং আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড়ের মতো সমস্যা সামনে আসতে পারে। প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, পরিষ্কার জল এবং চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা।


নেপালে ১৪ জন নিহত, আরও কয়েকজন নিখোঁজ


নেপালে টানা বৃষ্টির ফলে বন্যা ও ভূমিধসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে নেপালে ভারী বৃষ্টি দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হলে ভূমিধস নামে, আর সরু নদী ও খাল দ্রুত ফুলে উঠে নিচের বসতি ও রাস্তা ভাসিয়ে দিতে পারে।


নেপালের কর্তৃপক্ষ একাধিক জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি রেখেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি সড়ক, নদীর ধার ও ঢালু এলাকায় চলাচলে বাড়তি সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। অনেক এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে সময় নিচ্ছে, কারণ ভূমিধস রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে বা নদীর স্রোত বাড়িয়ে দিয়েছে।


নেপালে বর্ষাকালে ভূমিধস নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ, রাস্তা কাটার কাজ এবং ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়িয়েছে। যখন পাহাড়ের মাটি দীর্ঘ সময় ধরে ভিজে থাকে, তখন সামান্য অতিরিক্ত বৃষ্টিও বড় ধস নামাতে পারে।


নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তা বাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল একসঙ্গে কাজ করছে। তবু প্রতিকূল আবহাওয়া, অন্ধকার, কাদা এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলছে।


আই-লেভেল দৃশ্য যেখানে পাহাড়ি সড়কে ভূমিধসের কাদা ও পাথর জমে আছে
নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নজর এখন নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ায়


ভারত ও নেপাল, দুই দেশেই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়া, আহতদের চিকিৎসা, ঘরছাড়া পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া এবং খাদ্য ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।


বন্যা পরিস্থিতিতে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। জল দ্রুত বাড়লে মানুষ ঘর ছাড়ার সুযোগ পায় না। অনেক ক্ষেত্রে রাতের বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে যায়। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হঠাৎ নামে, তাই আগাম সতর্কতা ও দ্রুত সাড়া প্রাণ বাঁচাতে পারে।


ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রশাসন সাধারণত কয়েকটি কাজকে অগ্রাধিকার দেয়:


অগ্রাধিকার

কেন জরুরি

মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো

নদীর জল বাড়লে বা ভূমিধসের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত প্রাণহানি কমানো যায়

অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি

ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবারগুলোকে নিরাপদ জায়গা প্রয়োজন হয়

খাদ্য ও পানীয় জল পৌঁছানো

বন্যার জল পানযোগ্য জল দূষিত করতে পারে

চিকিৎসা সহায়তা

আঘাত, সংক্রমণ ও জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে

রাস্তা ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধার

বিচ্ছিন্ন এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার দল পৌঁছানো সহজ হয়


অনেক জায়গায় মানুষ স্কুল, কমিউনিটি হল বা উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। শিশু, বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা জরুরি হয়ে উঠেছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য, ওষুধ ও স্যানিটেশনের প্রয়োজন আরও বাড়ে।


প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও উদ্ধারকাজে ভূমিকা রাখছেন। নৌকা, ট্রাক্টর, দড়ি এবং স্থানীয় পথচেনা মানুষ বহু ক্ষেত্রে প্রথম সাড়া দেন। বড় দুর্যোগে এই স্থানীয় সহায়তা অনেক সময় আনুষ্ঠানিক উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার আগেই জীবন বাঁচায়।


আরও বৃষ্টির পূর্বাভাসে বাড়ছে উদ্বেগ


আবহাওয়া দপ্তরগুলির পূর্বাভাস অনুযায়ী, affected অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে ভিজে থাকা ঢালু জমিতে নতুন করে ভূমিধস নামার ঝুঁকিও রয়ে গেছে।


দুই দেশের প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বিপজ্জনক নদীঘাট, নিম্নাঞ্চল এবং পাহাড়ি সড়কে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। মানুষকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়াতে বলা হচ্ছে, বিশেষ করে জলমগ্ন রাস্তা, ভাঙনপ্রবণ এলাকা ও পাহাড়ি পথে।


ভারী বৃষ্টির পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শুধু তাৎক্ষণিক বন্যা নয়। নদীর জলস্তর ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, আর ভিজে পাহাড়ে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পরও ভূমিধস নামতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সতর্কতা মানা অত্যন্ত জরুরি। বন্যার জল দেখতে স্থির মনে হলেও তার নিচে গর্ত, ভাঙা রাস্তা, বিদ্যুতের তার বা তীব্র স্রোত থাকতে পারে। হাঁটুসমান জলও মানুষকে ফেলে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি স্রোত থাকে।


বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা এবং রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক এলাকায় তথ্যপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। তাই স্থানীয় প্রশাসনের ঘোষণা, প্রাথমিক সতর্কতা বার্তা এবং কমিউনিটি পর্যায়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


ক্লোজ-আপ দৃশ্য যেখানে বৃষ্টির মধ্যে উদ্ধারকারী নৌকায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে
উদ্ধারকারী দল জলমগ্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় চরম আবহাওয়ার চাপ স্পষ্ট হচ্ছে


এই দুর্যোগ আবারও দেখিয়ে দিল দক্ষিণ এশিয়ার নদী অববাহিকা ও পাহাড়ি অঞ্চল কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারত ও নেপাল উভয় দেশই মৌসুমি বৃষ্টির ওপর কৃষি, জলসম্পদ ও পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য নির্ভরশীল। কিন্তু বৃষ্টির ধরন বদলে গেলে একই মৌসুম জীবন ও জীবিকার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়।


বর্ষা দক্ষিণ এশিয়ার স্বাভাবিক জলবায়ুর অংশ। কিন্তু অল্প সময়ে অস্বাভাবিক বেশি বৃষ্টি হলে নদী, খাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পাহাড়ি ঢাল একসঙ্গে চাপে পড়ে। শহরে জলাবদ্ধতা বাড়ে, গ্রামে ফসল নষ্ট হয়, আর পাহাড়ে ধস নামার ঝুঁকি বাড়ে।


বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, জলবায়ু পরিবর্তন চরম আবহাওয়ার ঘটনাকে আরও তীব্র করতে পারে। সব বন্যা বা ভূমিধসের পেছনে একক কারণ থাকে না। তবু অতিবৃষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা, বনভূমি কমে যাওয়া এবং দুর্বল নগর পরিকল্পনা মিলিয়ে ঝুঁকি বেড়ে যায়।


ভারত ও নেপালের মতো দেশে এই ঝুঁকি আরও বড়। কারণ বহু মানুষ নদীর কাছে, পাহাড়ি ঢালে বা দুর্বল অবকাঠামোর এলাকায় বসবাস করেন। জীবিকা, জমি, কাজ ও সামাজিক সম্পর্কের কারণে মানুষ সব সময় নিরাপদ জায়গায় সরতে পারেন না। ফলে দুর্যোগ প্রস্তুতি শুধু সতর্কতা জারি করার বিষয় নয়, এটি পরিকল্পনা, আবাসন, অবকাঠামো ও স্থানীয় সক্ষমতার বিষয়।


ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র এখনও অসম্পূর্ণ


মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিষ্কার হলেও মোট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। অনেক এলাকায় জল নামার পরই বোঝা যাবে কত ঘরবাড়ি ভেঙেছে, কত জমি নষ্ট হয়েছে, কত রাস্তা বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


বন্যার পর ফসলের ক্ষতি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়ায়। জমিতে দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হতে পারে। গবাদি পশু হারালে গ্রামীণ পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে। বহু পরিবারকে ঘর মেরামত, খাদ্য সংগ্রহ এবং দৈনন্দিন আয়ের পথ ফের শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগে।


শহর ও বড় জনপদে ক্ষতি অন্য রকম। ড্রেনেজ চাপ সামলাতে না পারলে রাস্তা, দোকান, স্কুল, হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হয়। বন্যার জল নেমে গেলেও কাদা, আবর্জনা ও দূষিত জল জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।


দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে প্রয়োজন হবে:


  • ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির নিরাপদ মূল্যায়ন

  • রাস্তা, সেতু ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মেরামত

  • কৃষকদের সহায়তা

  • পরিষ্কার পানীয় জল ও স্যানিটেশন

  • ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা

  • শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা


সতর্কতার বার্তা সাধারণ মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ


দুর্যোগের সময় সরকারি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রস্তুতিও প্রাণ বাঁচাতে পারে। প্লাবনপ্রবণ এলাকায় যারা থাকেন, তাঁদের স্থানীয় সতর্কতা মেনে চলা দরকার। নদীর জল বাড়লে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে।


ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় পাহাড়ি ঢালে ফাটল, হঠাৎ মাটি সরে যাওয়া, অস্বাভাবিক শব্দ, গাছ হেলে পড়া বা ছোট পাথর গড়ানোর মতো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় যাওয়া উচিত। রাতে ভারী বৃষ্টির সময় ঝুঁকি বেশি থাকে, কারণ দৃশ্যমানতা কম থাকে এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।


জলমগ্ন রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা না করা সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে স্রোতের মধ্যে ঢোকা বিপজ্জনক। বিদ্যুতের খুঁটি, ভাঙা তার বা ডুবে থাকা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকেও দূরে থাকা জরুরি।


প্রাথমিক জরুরি প্রস্তুতি হিসেবে পরিবারগুলো শুকনো খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চ, মোবাইল চার্জার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজের কপি এবং শিশু বা বয়স্কদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখতে পারে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র কোথায়, সেই তথ্য জানা থাকাও জরুরি।


হাই-অ্যাঙ্গেল দৃশ্য যেখানে নদীর ধারে প্লাবিত মাঠ ও বিচ্ছিন্ন ঘর দেখা যাচ্ছে
নদী অববাহিকায় জল বাড়তে থাকায় গ্রাম ও কৃষিজমি ঝুঁকিতে রয়েছে।

সামনে কী হতে পারে


ভারত ও নেপালে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনের বৃষ্টির ওপর। যদি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তাহলে নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে আরও ভূমিধসের আশঙ্কা থাকবে। বৃষ্টি কমলেও নদীর জল নামতে সময় লাগতে পারে।


দুই দেশের প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে নিখোঁজদের খোঁজ, বিচ্ছিন্ন এলাকার তথ্য এবং আবহাওয়ার উন্নতির ওপর। এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, পরিষ্কার জল, চিকিৎসা সহায়তা এবং নির্ভরযোগ্য সতর্কতা।


এই বিপর্যয় শুধু চলতি মৌসুমের একটি দুর্যোগ নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় সতর্কবার্তা। নদী, পাহাড়, শহর ও গ্রাম, সব জায়গায় বৃষ্টির নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রস্তুতি দরকার। বন্যা ও ভূমিধস রোধ করা সব সময় সম্ভব নয়, কিন্তু আগাম সতর্কতা, নিরাপদ অবকাঠামো এবং দ্রুত সাড়া অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারে।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page