top of page

জাপানে টাইফুন দুর্যোগে মারাত্মক ভূমিধস ও বন্যায় চারজনের মৃত্যু, বহু নিখোঁজ।

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Sep 22
5 min read

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জাপানের কয়েকটি অঞ্চলে ভয়াবহ বৃষ্টি, ভূমিধস ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা কাদা, ধ্বংসস্তূপ ও প্লাবিত এলাকা পেরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চালাচ্ছেন।


সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে টোকিওর কাছাকাছি কান্টো অঞ্চলের কিছু অংশ। সেখানে পাহাড়ি ঢল ও কাদাধসে ঘরবাড়ি চাপা পড়েছে, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহু পরিবার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছে।


ঘূর্ণিঝড়টি অঞ্চল থেকে দূরে সরে গেলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ভারী বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় নতুন ভূমিধসের ঝুঁকি এখনও বেশি। প্রশাসন মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে বন্যায় ডুবে যাওয়া জাপানের একটি আবাসিক এলাকা।
কান্টো অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় পানি ও কাদায় রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কান্টো অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর


টোকিওর কাছে অবস্থিত কান্টো অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢল নামে। এরপর ভূমিধসে একাধিক বাড়ি কাদার নিচে চাপা পড়ে। এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা অন্তত চার। নিখোঁজদের মধ্যে এমন মানুষও থাকতে পারেন, যারা ধসে পড়া বাড়ি বা বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকা পড়েছেন।


স্থানীয় প্রশাসন বলছে, উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে অস্থিতিশীল মাটি। অনেক এলাকায় রাস্তার ওপর কাদা, পাথর ও ভাঙা গাছ পড়ে আছে। কিছু সেতু ও ছোট সংযোগপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে।


কান্টো অঞ্চল জাপানের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। টোকিও মহানগরীর আশপাশে থাকা উপশহর, পাহাড়ি এলাকা ও নদীর ধারের বসতিগুলো ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ ধরনের এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বৃষ্টি হলে পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে যায়। পাহাড়ি ঢালে জমে থাকা পানি মাটি আলগা করে দেয়। তখন ভূমিধসের ঝুঁকি হঠাৎ বেড়ে যায়।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাতের বেলায় তীব্র বৃষ্টি ও মাটির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে। কিছু এলাকায় মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পেরেছেন। অন্যত্র বৃষ্টির তীব্রতা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।


ভূমিধস ও বন্যায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে


জরুরি সেবার কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে দিনরাত কাজ করছেন। পুলিশ, দমকল বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। অনেক জায়গায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় হাতে কাদা সরিয়ে খোঁজ চালাতে হচ্ছে।


বন্যার পানি কিছু এলাকায় কমতে শুরু করলেও বিপদ কমেনি। পানি নেমে যাওয়ার পরও কাদা, ভাঙা কাঠামো, ছেঁড়া বিদ্যুৎ লাইন ও দুর্বল রাস্তা বড় ঝুঁকি তৈরি করে। উদ্ধারকারীরা তাই ধীরে এবং সতর্কভাবে এগোচ্ছেন।


প্রশাসনের জন্য এখন দুটি কাজ সবচেয়ে জরুরি:


  • নিখোঁজদের খুঁজে বের করা

    ভূমিধসের এলাকা, ভেঙে পড়া ঘর এবং বিচ্ছিন্ন বসতিতে অনুসন্ধান চলছে।


  • ক্ষতিগ্রস্ত সেবা পুনরুদ্ধার করা

    বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, সড়কপথ এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।


  • মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা

    যেসব এলাকায় নতুন ধসের ঝুঁকি আছে, সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজারো পরিবার এখনও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে যোগাযোগ, খাবার সংরক্ষণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই কারণে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


চোখের সমতলের দৃশ্যে কাদায় চাপা পড়া একটি ঘরের সামনে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন।
উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া ঘর ও কাদার স্তূপে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন।

মাটি অস্থিতিশীল থাকায় নতুন ধসের আশঙ্কা


ঘূর্ণিঝড় চলে গেলেই দুর্যোগ শেষ হয়ে যায় না। বিশেষ করে পাহাড়ি ও ঢালু এলাকায় ভারী বৃষ্টির পর মাটি কয়েক দিন পর্যন্ত অস্থিতিশীল থাকতে পারে। মাটির ভেতরে পানি জমে থাকলে ওপরের স্তর দুর্বল হয়ে যায়। তারপর সামান্য কম্পন, অতিরিক্ত বৃষ্টি, বা পানি সরার চাপেও নতুন ভূমিধস হতে পারে।


এই কারণেই কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল, নদীর পাড়, পাহাড়ের নিচের বসতি এবং কাদাধসের কাছাকাছি এলাকায় থাকা নিরাপদ নয়। উদ্ধারকর্মীরা কিছু এলাকায় প্রবেশ সীমিত রেখেছেন, যাতে আরও প্রাণহানি না ঘটে।


আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি শুধু বৃষ্টির পরিমাণে সীমাবদ্ধ থাকে না। কোনো এলাকায় আগে কতটা বৃষ্টি হয়েছে, মাটির ধরন কেমন, পাহাড়ের ঢাল কতটা খাড়া, নদী বা নালার পানি নামার পথ খোলা আছে কি না, এসব বিষয়ও বড় ভূমিকা রাখে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে যাকে torrential rains বলা হয়, সেই ধরনের প্রবল বর্ষণ অল্প সময়ে স্বাভাবিক জলপ্রবাহের সীমা ছাড়িয়ে যায়।


জাপানে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে ভারী বৃষ্টি নতুন বিষয় নয়। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যখন ভূমিধস ও বন্যা একসঙ্গে ঘটে, তখন ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত বাড়ে। পাহাড়ি অঞ্চলে বাড়ি চাপা পড়লে উদ্ধার অভিযান সময়সাপেক্ষ হয়। নদী উপচে পড়লে আশপাশের রাস্তা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও অবকাঠামোর ক্ষতি জনজীবন ব্যাহত করেছে


বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত। ঘরবাড়িতে আলো নেই, অনেক জায়গায় মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না, ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হয়েছে। বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং চিকিৎসা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।


ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কিছু রাস্তায় কাদা জমে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভাঙা গাছ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় পানি জমে থাকার কারণে রাস্তার নিচের মাটি দুর্বল হয়ে গেছে। এর ফলে উদ্ধারকারী গাড়ি ও বিদ্যুৎ মেরামতকারী দলকে সতর্কভাবে চলতে হচ্ছে।


রেল ও স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থাও প্রভাবিত হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে ট্র্যাকের পাশে ভূমিধসের ঝুঁকি আছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরীক্ষা ছাড়া পূর্ণমাত্রায় চলাচল শুরু করে না। এতে মানুষ কর্মস্থল, স্কুল, হাসপাতাল বা আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে পারে।


খাবার, পানি, শুকনো কাপড়, ওষুধ এবং ব্যাটারিচালিত আলো এখন জরুরি প্রয়োজনের তালিকায় রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবু রাস্তা বন্ধ থাকলে ত্রাণ পৌঁছাতে সময় লাগে।


উঁচু কোণ থেকে দেখা যাচ্ছে কাদা ও ভাঙা গাছপালায় আটকে থাকা একটি সরু পাহাড়ি রাস্তা।
কিছু এলাকায় রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও বিদ্যুৎ মেরামতের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

এনএইচকের তথ্য ও সরকারি সতর্কতা


এনএইচকের প্রতিবেদনে প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবর সামনে আসার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জোরদার করেছে। মানুষকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে। যেসব এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি না বুঝে বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


জরুরি নির্দেশনা সাধারণত স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ সড়ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের তথ্য স্থানীয়ভাবে জানানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বলা হয়েছে, তারা যেন নদী, পাহাড়ি ঢাল, কাটা রাস্তা এবং ধসে পড়া কাঠামোর কাছাকাছি না যান।


দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সঠিক তথ্য দ্রুত পৌঁছানো। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে টেলিভিশন বা ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করা কঠিন হয়। তাই অনেক এলাকায় স্থানীয় সম্প্রচার, মোবাইল সতর্কবার্তা, সাইরেন, কমিউনিটি সেন্টার এবং আশ্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে তথ্য দেওয়া হয়।


প্রশাসনের মূল সতর্কতা হলো, দৃশ্যত আবহাওয়া শান্ত হলেও মাটির ভেতরের ঝুঁকি রয়ে যেতে পারে। মানুষ অনেক সময় বৃষ্টি থামলেই ঘরে ফিরতে চান। কিন্তু ভূমিধসের ক্ষেত্রে ঠিক এই সময়টিও বিপজ্জনক হতে পারে।


নিখোঁজদের সন্ধান এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার


নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধারকারীরা সম্ভাব্য সব জায়গায় অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। ধসে পড়া বাড়ি, কাদায় ঢেকে যাওয়া আঙিনা, নদীর ধারের এলাকা এবং বিচ্ছিন্ন বসতিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় মানুষও কিছু এলাকায় উদ্ধারকারী দলকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করছেন।


নিখোঁজের সংখ্যা বদলাতে পারে। দুর্যোগের পর প্রথম দিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। অনেক সময় যাদের নিখোঁজ ভাবা হয়, পরে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাওয়া যায়। আবার ধ্বংসস্তূপ সরালে নতুন তথ্যও সামনে আসে। তাই কর্মকর্তারা পরিস্থিতিকে চলমান বলে দেখছেন।


এই ধরনের উদ্ধারকাজে সময়ের গুরুত্ব অনেক। প্রথম কয়েক ঘণ্টা ও প্রথম কয়েক দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবু ভূমিধসের ক্ষেত্রে তল্লাশি ধীরে এগোয়, কারণ কাদার নিচে ফাঁকা জায়গা থাকতে পারে, আবার নতুন ধসের ঝুঁকিও থাকে। উদ্ধারকারীদের নিজেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়।


পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজদের খবরের অপেক্ষায় আছেন। স্থানীয় প্রশাসন সাধারণত নাম, অবস্থান এবং উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য যাচাই না করে প্রকাশ করে না, যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়। এই সময় ভুল তথ্য বা অনিশ্চিত দাবি পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে।


ঘূর্ণিঝড় দূরে গেলেও বিপদ কাটেনি


ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র অঞ্চল থেকে সরে গেলেও ভারী বৃষ্টির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। নদীর পানি কমতে সময় লাগে। পাহাড়ি এলাকায় পানি মাটির ভেতর দিয়ে নিচে নামতে থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন, দুর্বল সেতু, কাদা ভরা রাস্তা এবং ভেঙে পড়া ঘর পুনরায় পরীক্ষা না করা পর্যন্ত সেগুলো নিরাপদ বলা যায় না।


Japan সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনরুদ্ধার কাজ একসঙ্গে চলছে। কোথাও নিখোঁজদের খোঁজে কাজ চলছে, কোথাও বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে, কোথাও রাস্তা পরিষ্কার করা হচ্ছে।


এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো মানুষের নিরাপত্তা। যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছেন, তাদের স্থানীয় নির্দেশনা মেনে চলা দরকার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফেরার আগে প্রশাসনিক অনুমতি ও নিরাপত্তা তথ্য দেখা জরুরি।


এই দুর্যোগ আবারও দেখিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি শুধু বাতাসে সীমাবদ্ধ নয়। ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা একসঙ্গে ঘটলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকার জীবন থমকে যেতে পারে।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে বৃষ্টিভেজা জরুরি সতর্কতা বোর্ডের পাশে জমে থাকা কাদা ও পানি।
কর্তৃপক্ষ ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে।

সামনে কী হতে পারে


উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা বদলাতে পারে। কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনও নির্ধারণ করছে। বিদ্যুৎ সংযোগ, রাস্তা, বাড়িঘর এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।


পরবর্তী কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ হবে। মাটি শুকাতে সময় লাগবে, নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করতে হবে, এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঢাল পরীক্ষা করতে হবে। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলেও নতুন ভূমিধসের আশঙ্কা থাকলে মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকতে হতে পারে।


এনএইচকে ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আপডেটে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি, নিখোঁজদের অবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনরুদ্ধার সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। আপাতত জরুরি সেবা, উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য একটাই, নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদে রাখা।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page