top of page

আরও ৫টি এস-৪০০ সিস্টেম কিনবে ভারত, পাঠিয়েছে রাশিয়া; পাঠিয়েছে খরচের প্রস্তাব।

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Sep 5
6 min read

নয়াদিল্লি থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে আরও পাঁচটি S-400 Triumf দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে গেছে। রাশিয়া ইতিমধ্যে ভারতের কাছে খরচের প্রস্তাব বা Bill of Quantities পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পর্যালোচনায় রয়েছে।


প্রতিরক্ষা মহলে এই পদক্ষেপকে বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ S-400 এখন ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক সামরিক মূল্যায়নে, বিশেষ করে Operation Sindoor-এর অভিজ্ঞতার পর, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।


যদি এই প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পায়, তাহলে ভারতের S-400 স্কোয়াড্রনের সংখ্যা পাঁচ থেকে বেড়ে দশে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশের সংবেদনশীল সীমান্ত, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত সম্পদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে একটি দীর্ঘ-পাল্লার এয়ার ডিফেন্স মিসাইল লঞ্চার খোলা সমতলে অবস্থান করছে
দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

রাশিয়ার প্রস্তাবে কী রয়েছে


রাশিয়ার পাঠানো প্রস্তাবে অতিরিক্ত পাঁচটি S-400 Triumf সিস্টেমের সম্ভাব্য খরচ, সরবরাহের কাঠামো, প্রযুক্তিগত উপাদান এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জামের বিবরণ থাকার কথা। প্রতিরক্ষা কেনাকাটার ভাষায় এ ধরনের নথিকে Bill of Quantities বলা হয়।


সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল্য ₹50,000 কোটির বেশি হতে পারে। দাম চূড়ান্ত নয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রস্তাবটি পরীক্ষা করার পর রাশিয়ার সঙ্গে মূল্য নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে।


এই পর্যায়ে চুক্তি এখনও অনুমোদিত নয়। আলোচনা, দাম যাচাই, সামরিক প্রয়োজনের মূল্যায়ন, অর্থনৈতিক অনুমোদন এবং সরকারের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের মতো কয়েকটি ধাপ বাকি আছে।


বিষয়

বর্তমান অবস্থা

প্রস্তাব

রাশিয়া ভারতের কাছে খরচের প্রস্তাব পাঠিয়েছে

সম্ভাব্য মূল্য

₹50,000 কোটির বেশি হতে পারে

পরবর্তী ধাপ

দুই দেশের মধ্যে মূল্য আলোচনা

চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও সরকারের সিদ্ধান্তের পরে

সম্ভাব্য ফল

ভারতের S-400 স্কোয়াড্রন ৫ থেকে ১০ হতে পারে


ভারতের মতো বড় ভৌগোলিক দেশের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা কেবল একটি সামরিক প্রয়োজন নয়। এটি সীমান্ত সুরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ শহর, বিমানঘাঁটি, নৌঘাঁটি এবং কৌশলগত স্থাপনা রক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।


কেন আরও S-400 চাইছে ভারত


Operation Sindoor-এর সময় ভারতের সামরিক বাহিনী আকাশপথের হুমকি মোকাবিলার গুরুত্ব নতুন করে মূল্যায়ন করেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধবিমান নয়, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন, সশস্ত্র UAV এবং কম উচ্চতায় উড়ে আসা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।


S-400-এর মতো দূরপাল্লার ব্যবস্থা এই ঝুঁকির নির্দিষ্ট অংশ মোকাবিলায় ব্যবহার করা যায়। এটি বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপরের স্তরে কাজ করে। অর্থাৎ দূর থেকে হুমকি শনাক্ত করা, ট্র্যাক করা এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করার ক্ষমতা এতে থাকে।


অতিরিক্ত সিস্টেমগুলো ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কয়েকভাবে শক্তিশালী করতে পারে।


  • সীমান্তে বিস্তৃত মোতায়েন

    বেশি স্কোয়াড্রন থাকলে সংবেদনশীল সীমান্তের আরও বেশি অংশ কভার করা সম্ভব হবে।


  • গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির সুরক্ষা

    বিমানঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, সামরিক অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদের চারপাশে প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা সহজ হবে।


  • ড্রোন ও মিসাইল হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি

    আধুনিক সংঘাতে ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধ এখন বড় অগ্রাধিকার।


  • বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করা

    S-400 একা পুরো আকাশ প্রতিরক্ষার সমাধান নয়। কিন্তু এটি দেশীয় ও অন্যান্য আমদানি করা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলে প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী হয়।


এই কারণেই India to Buy 5 More S-400 Systems Russia Sends Cost Proposal খবরটি শুধু নতুন কেনাকাটার বিষয় নয়। এটি ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার একটি বড় ইঙ্গিত।


লো-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে একটি সামরিক রাডার যান আকাশের দিকে ঘুরে আছে
আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষায় রাডার ও সেন্সর নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

S-400 সিস্টেমের কৌশলগত গুরুত্ব


S-400 Triumf রাশিয়ার তৈরি একটি দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি যুদ্ধবিমান, মিসাইল এবং অন্যান্য আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য পরিচিত। ভারত ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পাঁচটি S-400 সিস্টেম কেনার জন্য $5.43 বিলিয়ন মূল্যের চুক্তি করেছিল। সরবরাহ শুরু হয় ২০২১ সালে।


এর পর থেকে S-400 ধীরে ধীরে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় এটি মূলত শত্রু বিমান ও মিসাইলকে দূরেই আটকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য।


একটি বড় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শুধু এক ধরনের অস্ত্র দিয়ে সব কাজ হয় না। বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন সিস্টেম কাজ করে।


  • দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধ করে।

  • মাঝারি পাল্লার ব্যবস্থা নির্দিষ্ট অঞ্চল রক্ষা করে।

  • স্বল্প পাল্লার ব্যবস্থা সামনের সারির ইউনিট, ঘাঁটি বা স্থাপনাকে রক্ষা করে।

  • রাডার, সেন্সর, কমান্ড ব্যবস্থা এবং ইন্টারসেপ্টর একসঙ্গে কাজ করলে পুরো কাঠামো কার্যকর হয়।


ভারত এই ধরনের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা জাল গড়তে চাইছে। S-400 সেই জালের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অংশ।


প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বেশি S-400 স্কোয়াড্রন থাকলে মোতায়েনের নমনীয়তা বাড়বে। এক অংশ সীমান্তে রাখা যেতে পারে, অন্য অংশ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চলে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং ঘুরিয়ে মোতায়েনের ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।


কোন ধরনের হুমকির কথা মাথায় রাখা হচ্ছে


ভারতের নিরাপত্তা পরিবেশ জটিল। পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক সতর্কতা বজায় রাখতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তির ঝুঁকি।


ড্রোন এখন শুধু নজরদারির সরঞ্জাম নয়। সশস্ত্র ড্রোন, স্বল্প খরচের আক্রমণকারী UAV এবং ছোট আকারের উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু আধুনিক যুদ্ধে বড় মাথাব্যথা। ক্রুজ মিসাইল কম উচ্চতায় উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। যুদ্ধবিমান দ্রুত আক্রমণ করে সরে যেতে পারে।


এই বাস্তবতায় ভারত এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাইছে যা আগাম সতর্কতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং বিস্তৃত কভারেজ দিতে পারে। S-400 এই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।


অতিরিক্ত পাঁচটি স্কোয়াড্রন অনুমোদিত হলে ভারতের S-400 বহর দ্বিগুণ হতে পারে, যা দেশের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতায় বড় বৃদ্ধি আনবে।

তবে বড় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও থাকে। দাম, সরবরাহের সময়, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ, সবই গুরুত্বপূর্ণ।


রাশিয়া থেকে সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়েও সাবধানে পরিকল্পনা করতে হয়। ভারত অতীতে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছে, কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিটি বড় চুক্তি বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়।


আই-লেভেল দৃশ্যে মরুভূমির পথে একটি মিসাইল পরিবহন যান এগিয়ে যাচ্ছে
দীর্ঘ সরবরাহ ও মোতায়েন পরিকল্পনা বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ।

ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রেক্ষাপট


ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরোনো। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর বহু প্ল্যাটফর্ম রুশ উৎসের। যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার এবং মিসাইল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।


S-400 চুক্তিও সেই দীর্ঘ সম্পর্কের অংশ। ২০১৮ সালের চুক্তি তখন আন্তর্জাতিকভাবে অনেক নজর কাড়ে। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির সময় যুক্তরাষ্ট্রের CAATSA নিষেধাজ্ঞা আইনের প্রসঙ্গ উঠেছিল। তবু ভারত জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনের কথা জানিয়ে চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যায়।


রাশিয়ার কাছ থেকে নতুন করে আরও পাঁচটি ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা দেখায় যে ভারত তার বিদ্যমান S-400 কাঠামো আরও বড় করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ভারত দেশীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচিও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষা, মিসাইল ব্যবস্থা, রাডার এবং কমান্ড নেটওয়ার্কে দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর বাড়ছে।


এই দুই পথ একসঙ্গে চলছে। একদিকে জরুরি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যাটফর্ম বিদেশ থেকে কেনা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।


দাম নিয়ে আলোচনা কেন গুরুত্বপূর্ণ


₹50,000 কোটির বেশি সম্ভাব্য মূল্য যে কোনো প্রতিরক্ষা কেনাকাটার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড়। তাই প্রস্তাব হাতে পেলেই চুক্তি হয় না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সাধারণত সামরিক প্রয়োজন, মূল্য, জীবনচক্র খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, স্পেয়ার পার্টস, প্রশিক্ষণ এবং সরবরাহ সূচি পরীক্ষা করে।


দাম নিয়ে ভারতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হবে। ২০১৮ সালের চুক্তির সঙ্গে বর্তমান প্রস্তাবের তুলনা করা হতে পারে, যদিও সময়, মুদ্রার মূল্য, যন্ত্রাংশ, লজিস্টিক খরচ এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি বদলে গেছে।


এই আলোচনায় কয়েকটি বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে।


  • মোট চুক্তিমূল্য কত হবে

  • সরবরাহ কত বছরে সম্পন্ন হবে

  • যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্যাকেজ কেমন হবে

  • ভারতীয় বাহিনীকে কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে

  • বিদ্যমান S-400 সিস্টেমের সঙ্গে নতুন সিস্টেম কীভাবে যুক্ত হবে

  • পেমেন্ট কাঠামো কী হবে


সরকারি অনুমোদনের আগে চুক্তির প্রতিটি অংশ পর্যালোচনা করা হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন থাকলেও, এত বড় পরিমাণ অর্থের ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।


দশ স্কোয়াড্রন হলে কী বদলাতে পারে


ভারতের হাতে বর্তমানে পাঁচটি S-400 স্কোয়াড্রন থাকার কথা। নতুন পাঁচটি অনুমোদিত হলে সংখ্যা দাঁড়াবে দশে। এর সরাসরি অর্থ, ভারতের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা কভারেজ আরও বিস্তৃত হবে।


বেশি স্কোয়াড্রন থাকার ফলে কয়েকটি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।


এক, দেশের বিভিন্ন দিকের নিরাপত্তা প্রয়োজন একসঙ্গে সামাল দেওয়া সহজ হবে। ভারতকে একই সময়ে পশ্চিম, উত্তর এবং সামুদ্রিক দিকের নিরাপত্তা মাথায় রাখতে হয়।


দুই, কৌশলগত স্থাপনার চারপাশে গভীর প্রতিরক্ষা বলয় গড়া যেতে পারে। শুধু সীমান্ত নয়, অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলও সুরক্ষার আওতায় আসতে পারে।


তিন, মোতায়েনের চাপ কমবে। কোনো একটি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ চললেও অন্য ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা যাবে।


চার, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি বাড়বে। সংকটের সময় দ্রুত পুনর্বিন্যাস করা গেলে সামরিক কমান্ডারদের হাতে বেশি বিকল্প থাকে।


তবে দশ স্কোয়াড্রনের অর্থ শুধু বেশি লঞ্চার নয়। এর সঙ্গে রাডার, কমান্ড পোস্ট, মিসাইল, পরিবহন যান, প্রশিক্ষিত কর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় কাঠামো জড়িত। তাই বহর বাড়ানো মানে সম্পূর্ণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো।


হাই-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে একটি মিসাইল প্রতিরক্ষা ইউনিট পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে
সংবেদনশীল অঞ্চলে মোতায়েনের ক্ষমতা বাড়ানোই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

এখন কী হতে পারে


বর্তমান পর্যায়ে রাশিয়ার প্রস্তাব ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে রয়েছে। মন্ত্রক প্রস্তাব পরীক্ষা করবে। এরপর দুই দেশের মধ্যে মূল্য আলোচনা শুরু হতে পারে। আলোচনা শেষ হলে বিষয়টি সরকারি অনুমোদনের জন্য এগোবে।


এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে এত বড় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক সব দিক বিবেচনা করতে হয়। সরবরাহের সময়সূচিও বড় প্রশ্ন। S-400-এর মতো জটিল ব্যবস্থা তৈরি, পরীক্ষা, পরিবহন এবং মোতায়েন করতে দীর্ঘ সময় লাগে।


ভারতের জন্য বিষয়টি জরুরি হলেও তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এই ধরনের চুক্তি বহু বছরের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অংশ। একবার অনুমোদন হলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে।


বড় প্রতিরক্ষা বার্তা


ভারতের আরও পাঁচটি S-400 কেনার পরিকল্পনা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। আকাশ প্রতিরক্ষা এখন দেশের সামরিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রয়েছে। যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের যুগে আকাশসীমা রক্ষা করা শুধু প্রতিরক্ষা নয়, কৌশলগত স্থিতিশীলতার প্রশ্নও।


রাশিয়ার খরচের প্রস্তাব পর্যালোচনার পর ভারত যদি চূড়ান্তভাবে এগোয়, তাহলে S-400 বহর দ্বিগুণ হতে পারে। এতে ভারতের দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা বলয় আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে বিদেশি প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করে বহুস্তরীয় সুরক্ষা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আরও স্পষ্ট হবে।


এখন নজর থাকবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পর্যালোচনা, ভারত-রাশিয়া মূল্য আলোচনা এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। চুক্তি এগোলে এটি ভারতের সাম্প্রতিক আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অন্যতম বড় পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page