সুপ্রিম কোর্ট ১৪২ ধারার অধীনে দায়ের করা নিট (NEET) প্রতিবাদের এফআইআর খারিজ করেছে। কারা সুবিধা পাবেন?

NEET-UG পেপার লিক বিতর্ক ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে যে ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল, তার পরে বহু শিক্ষার্থী ও প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলাগুলির একটি বড় অংশে গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ করে। আদালত সংবিধানের Article 142 ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ NEET প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR খারিজ করার নির্দেশ দেয়।

এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব শুধু একটি পরীক্ষার বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেখায়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগকে আদালত কীভাবে আলাদা করে দেখে। একই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, আইনি প্রক্রিয়ার ভার এবং রাষ্ট্রের আশ্বাসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও বড় বার্তা দেয়।
এই লেখা তথ্যভিত্তিক সাধারণ ব্যাখ্যা। এটি কোনও আইনি পরামর্শ নয়।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কী ঘটল
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার কথিত অনিয়ম ও পেপার লিক বিতর্ক ঘিরে হওয়া প্রতিবাদের পর দায়ের হওয়া নির্দিষ্ট FIR খারিজ করার নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশের কেন্দ্রে ছিল শিক্ষার্থী ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরা।
আদালতের সামনে কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং কয়েকটি রাজ্য সরকার যৌথভাবে অনুরোধ জানায় যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। যুক্তি ছিল, এই ধরনের মামলা তাদের ভবিষ্যৎ পড়াশোনা, ভর্তি প্রক্রিয়া, চাকরির সুযোগ এবং সামাজিক অবস্থানে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালত সেই অবস্থান বিবেচনায় নেয় এবং Article 142 প্রয়োগ করে “complete justice” বা সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেয়। এর ফলে বিভিন্ন রাজ্য ও পুলিশি এলাকায় ছড়িয়ে থাকা যোগ্য মামলাগুলি একই নীতির আওতায় বন্ধ করার পথ তৈরি হয়।

এই রায়ের মূল দিকটি পরিষ্কার। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া মানুষকে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু গুরুতর বা সহিংস অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি।
Article 142 কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
Article 142 হল ভারতের সংবিধানের এমন একটি বিধান, যার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট কোনও মামলায় সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে। সাধারণ আইনি পথ অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন রাজ্য, আদালত বা তদন্ত সংস্থার কারণে ধীর হয়ে যায়। Article 142 সেই জটিলতার মধ্যে একক ও কার্যকর সমাধান দেওয়ার সুযোগ দেয়।
এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, NEET প্রতিবাদের সময় যাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে গেলে তা শিক্ষার্থীদের উপর অযথা চাপ তৈরি করবে। অনেকের বয়স কম। অনেকেই ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়াশোনা, উচ্চশিক্ষা বা সরকারি-বেসরকারি চাকরির পথে যেতে চাইবেন। একটি pending criminal case তাদের জীবনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে আটকে দিতে পারে।
সরকার আরও জানায়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে না বলে আগে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা মানা দরকার। সুপ্রিম কোর্টের Article 142 ব্যবহার সেই আশ্বাসকে বাস্তব রূপ দেয়।
এখানে একটি বড় বাস্তব সমস্যা ছিল। FIR গুলি এক জায়গায় হয়নি। দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছিল। আলাদা আলাদা রাজ্যে আলাদা পদ্ধতিতে মামলা বন্ধ করতে গেলে সময় লাগত। Article 142 ব্যবহার করে আদালত একই ধরনের যোগ্য মামলার জন্য একরকম পথ দেখায়।
আদালতের নির্দেশে কী বলা হয়েছে
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মূল বক্তব্য তিনটি ভাগে বোঝা যায়।
বিষয় | আদালতের অবস্থান | ফলাফল |
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থী | আইনি স্বস্তি | FIR খারিজ বা বন্ধ করার নির্দেশ |
ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ অংশগ্রহণ | ভবিষ্যৎ ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা | রাজ্য ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে মামলা প্রত্যাহার বা বন্ধ করতে বলা |
গুরুতর বা সহিংস অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি | কোনও সুরক্ষা নয় | prosecution চলবে |
আদালত স্পষ্ট করে দেয়, এই নির্দেশ সবার জন্য নয়। শুধু NEET-UG পেপার লিক বিতর্কে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের বিষয়েই সুরক্ষা প্রযোজ্য।
অন্যদিকে যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, সহিংসতা, ভয়াবহ আক্রমণ বা অন্যান্য heinous offences-এর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চলবে। কয়েকটি প্রতিবেদনে এমন ব্যক্তিদের “hardened criminals” হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। আদালত সেই শ্রেণির কাউকে এই নির্দেশের আওতায় আনেনি।
এই বিভাজনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আদালত প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান দিয়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বা গুরুতর অপরাধের প্রশ্নে সাধারণ ছাড় দেয়নি।

কে আইনি স্বস্তি পাবেন
এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে তাঁদের উপর, যাঁরা NEET-UG ২০২৬ বিতর্কে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁদের নাম FIR-এ এসেছে।
যাঁরা স্বস্তি পেতে পারেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণত নিচের বৈশিষ্ট্য দেখা যাবে।
তাঁরা ছাত্র বা সাধারণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী।
তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মূলত প্রতিবাদে অংশ নেওয়া, জমায়েত করা বা বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত।
তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর সহিংসতা, আক্রমণ বা heinous offence-এর অভিযোগ নেই।
মামলা NEET-UG পেপার লিক বিতর্কের প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত।
সংশ্লিষ্ট FIR ওই ধরনের প্রতিবাদ-সম্পর্কিত মামলার মধ্যে পড়ে।
এর মানে এই নয় যে প্রত্যেকটি FIR স্বয়ংক্রিয়ভাবে একইভাবে বিবেচিত হবে। পুলিশ ও রাজ্য কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে কোন মামলা আদালতের নির্দেশের আওতায় পড়ে এবং কোন মামলা পড়ে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ একটি পরিষ্কার নীতি স্থির করেছে।
এই নীতির সবচেয়ে বড় লাভ হল শিক্ষার্থীদের উপর থাকা দীর্ঘমেয়াদি আইনি অনিশ্চয়তা কমবে। একটি FIR অনেক সময় কেবল আদালতে হাজিরা বা কাগজপত্রের বিষয় নয়। এটি মানসিক চাপ তৈরি করে। পরিবারে উদ্বেগ বাড়ায়। ভবিষ্যৎ আবেদন বা যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তোলে। আদালত এই বাস্তব প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়েছে।
এই কারণেই Supreme Court Quashes NEET Protest FIRs Under Article 142 Who Gets Relief প্রশ্নের উত্তর সরল হলেও সীমিত। স্বস্তি পাবেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও প্রতিবাদকারী। স্বস্তি পাবেন না গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তরা।
কারা এই সুরক্ষার বাইরে থাকবেন
আদালত যে সীমা টেনেছে, তা রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির একটি। Article 142 ব্যবহার করে FIR খারিজ করা হলেও, আদালত জানান যে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে সেই মামলা বন্ধ হবে না।
সুরক্ষার বাইরে থাকতে পারেন এমন ব্যক্তিরা হলেন:
যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।
যাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ বা সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে।
যাঁদের বিরুদ্ধে heinous offences বা ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ আছে।
যাঁদের প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ ছাত্র হিসেবে নয়, বরং গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যেসব ঘটনায় স্বাধীনভাবে তদন্ত বা prosecution চালানো প্রয়োজন।
এই পার্থক্য না করলে নির্দেশের অপব্যবহার হতে পারত। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থী এবং সহিংস ঘটনার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একইভাবে দেখা ন্যায়বিচারের সঙ্গে মানানসই নয়। সুপ্রিম কোর্ট সেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
এখানেই রায়ের নৈতিক ও আইনি বার্তা স্পষ্ট। প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু প্রতিবাদের নামে সহিংসতা হলে তা আলাদা আইনি প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত প্রথমটিকে সুরক্ষা দিয়েছে, দ্বিতীয়টিকে দেয়নি।
NEET-UG ২০২৬ পেপার লিক বিতর্কের পটভূমি
NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার কথিত অনিয়ম ও পেপার লিক ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। মেডিক্যাল প্রবেশিকার মতো উচ্চ-ঝুঁকির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তার প্রভাব খুব গভীর হয়। পরীক্ষার্থীরা বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন। পরিবারগুলি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিনিয়োগ করে। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থী সমাজে দ্রুত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ হয়। দিল্লিতেও বড় আকারে বিক্ষোভ দেখা যায়। কিছু জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর আসে এবং তার পরে বহু FIR দায়ের হয়। এর মধ্যে অনেক FIR ছিল শিক্ষার্থী ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে।
আগের শুনানিগুলিতে ইঙ্গিত ছিল যে সরকারগুলি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে পারে। একই সঙ্গে স্পষ্ট ছিল, গুরুতর অপরাধের মামলা অক্ষত থাকবে। ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ সেই অবস্থানকে আরও পরিষ্কার করে এবং সর্বভারতীয়ভাবে প্রয়োগযোগ্য দিকনির্দেশ দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লি পুলিশও কেন্দ্র ও কয়েকটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে আদালতে যৌথ অনুরোধের অংশ ছিল। দিল্লিতে প্রতিবাদের পর বহু FIR দায়ের হওয়ায় তাদের অবস্থান আদালতের সামনে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দিল্লি পুলিশ ও রাজ্যগুলির করণীয় কী
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কাজ শুধু আদালতের কাগজে শেষ হয় না। বাস্তব প্রয়োগের দায়িত্ব পড়ে রাজ্য সরকার, পুলিশ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলির উপর।
তাদের মূল কাজ হবে:
কোন FIR শান্তিপূর্ণ NEET প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত তা চিহ্নিত করা।
কোন মামলায় গুরুতর বা সহিংস অপরাধের অভিযোগ আছে তা আলাদা করা।
যোগ্য মামলাগুলি প্রত্যাহার, বন্ধ বা quash করার প্রক্রিয়া শুরু করা।
গুরুতর অপরাধের মামলায় তদন্ত বা prosecution চালিয়ে যাওয়া।
একই ধরনের মামলায় একই নীতি প্রয়োগ করা।
এই প্রক্রিয়ায় সতর্কতা দরকার। কারণ ভুলভাবে কোনো গুরুতর মামলাকে বন্ধ করা যেমন সমস্যা, তেমনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীকে অকারণে মামলার মধ্যে রেখে দেওয়াও অন্যায়। আদালতের নির্দেশের আসল লক্ষ্য হল ন্যায়সঙ্গত বাছাই।
দিল্লি পুলিশের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে থাকবে, কারণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর বহু মামলা হয়েছিল। আদালতের সামনে দিল্লি পুলিশের অবস্থান ছিল যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ফৌজদারি ঝুঁকি রাখা উচিত নয়। এখন সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য এর অর্থ কী
এই নির্দেশ অনেক শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য মানসিক স্বস্তি আনতে পারে। একটি criminal case সাধারণ ছাত্রজীবনের সঙ্গে যায় না। আদালতে যাতায়াত, আইনজীবীর খরচ, পুলিশের নোটিস, ভবিষ্যৎ যাচাই, এই সবকিছু মিলিয়ে একজন তরুণ শিক্ষার্থীর উপর বড় চাপ তৈরি হয়।
সুপ্রিম কোর্ট সেটি বুঝেছে। আদালত সরাসরি বলেছে এমন নয় যে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া মানেই কোনও প্রশ্ন থাকবে না। বরং আদালত বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণে ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার মতো পরিণতি তৈরি করা ঠিক নয়।
এটি শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বার্তা দেয়।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়
যদি প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হয় এবং কোনো গুরুতর অপরাধ না ঘটে, তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অযথা আইনি ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।
আইনের সীমা মানা জরুরি
প্রতিবাদের অধিকার আছে, কিন্তু সহিংসতা, ভাঙচুর বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে আদালতের সুরক্ষা মিলবে না।
আদালত বাস্তব জীবনের প্রভাব বিবেচনা করতে পারে
FIR কেবল একটি কাগজ নয়। এর প্রভাব শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও মানসিক স্বাস্থ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। Article 142 ব্যবহার করে আদালত সেই বাস্তবতার দিকে নজর দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত প্রতিবাদের অধিকারের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে ছাত্র আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, ভর্তি প্রক্রিয়া, ফি, সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বহুবার পথে নেমেছেন। এই সিদ্ধান্ত সেই ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করে, কারণ এখানে আদালত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে আইনি সুরক্ষার যোগ্য হিসেবে দেখেছে।
তবে রায়টি কোনও blanket immunity নয়। অর্থাৎ প্রতিবাদ করলেই সব মামলা খারিজ হবে, এমন নয়। আদালত কেবল সেইসব FIR নিয়ে কথা বলেছে, যা NEET-UG পেপার লিক বিতর্কের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত এবং যেখানে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নেই।
এই সীমাবদ্ধতাই রায়টিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে। একদিকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও গুরুতর অপরাধের প্রশ্নে রাষ্ট্রের ক্ষমতা অক্ষত রাখা হয়েছে।
আদালতের বার্তা ছিল স্পষ্ট: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে দীর্ঘমেয়াদি ফৌজদারি বোঝায় পরিণত করা যাবে না, কিন্তু সহিংসতার অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
সামনে কী হতে পারে
এখন নজর থাকবে বাস্তব প্রয়োগের দিকে। রাজ্য ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত FIR যাচাই করতে হবে। যোগ্য মামলাগুলি বন্ধ করতে হবে। যেসব মামলায় গুরুতর অভিযোগ আছে, সেগুলিকে আলাদা করে prosecution চালাতে হবে।
সম্ভাব্য কয়েকটি ধাপ দেখা যেতে পারে।
রাজ্যভিত্তিক FIR তালিকা পর্যালোচনা।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী ও গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের শ্রেণিবিভাগ।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহার বা closure report।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি অবস্থান পরিষ্কার করা।
গুরুতর মামলায় তদন্তের অগ্রগতি বজায় রাখা।
শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সংশ্লিষ্ট FIR সত্যিই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের আওতায় পড়ে কি না তা জানা। কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে, কারণ প্রতিটি FIR-এর ভাষা, অভিযোগ ও প্রমাণ আলাদা।

শেষ কথা
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত NEET প্রতিবাদ FIR মামলাগুলিতে বড় আইনি মোড়। Article 142 ব্যবহার করে আদালত শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে FIR খারিজের পথে হাঁটল। কেন্দ্র, দিল্লি পুলিশ এবং বিভিন্ন রাজ্যের যৌথ অনুরোধ এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই রায়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, আদালত প্রতিবাদের অধিকার ও আইনের শাসনকে একসঙ্গে বিবেচনা করেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার চেষ্টা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুতর বা সহিংস অপরাধে অভিযুক্তদের জন্য কোনও সুরক্ষা রাখা হয়নি।
NEET-UG বিতর্ক এখনও পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রশ্ন তুলে ধরে। কিন্তু এই নির্দেশ অন্তত একটি দিক পরিষ্কার করেছে: শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তোলা যেন তরুণদের ভবিষ্যতের উপর স্থায়ী ফৌজদারি ছায়া না ফেলে।




Comments