top of page

রায়গড় ও অমরাবতীতে আদানি প্রকল্পের জন্য বনভূমি ব্যবহারের অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার।

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Aug 11
6 min read

মহারাষ্ট্রে আদানি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৩,৭০০ বর্গফুট বনভূমি অন্য কাজে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। কর্মকর্তাদের মতে, এই জমির মধ্যে রায়গড়ের আলিবাগে প্রস্তাবিত সিমেন্ট টার্মিনালের জন্য সংরক্ষিত বনভূমি ও ম্যানগ্রোভ জমিও রয়েছে। আরেকটি প্রকল্প জড়িত অমরাবতী জেলায়।


খবরটি শুধু একটি শিল্প প্রকল্পের অনুমোদনের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বনভূমি ব্যবহারের নিয়ম, উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, ম্যানগ্রোভ রক্ষা, স্থানীয় অর্থনীতি এবং বড় পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য কোথায় টানা হবে, এই সিদ্ধান্ত সেই প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে উপকূলের পাশে ম্যানগ্রোভ বন দেখা যাচ্ছে
আলিবাগের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে


রাজ্য সরকারের অনুমোদন অনুযায়ী, আদানি গ্রুপের কোম্পানিগুলির দুটি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৩,৭০০ বর্গফুট বনভূমি অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে। এই ধরনের সিদ্ধান্তকে সাধারণভাবে বনভূমি ‘ডাইভারশন’ বলা হয়। অর্থাৎ জমিটি বন হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে সেটি অ-বন প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হয়।


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রায়গড় জেলায় আলিবাগের একটি প্রস্তাবিত সিমেন্ট টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত বন এবং ম্যানগ্রোভ জমির অংশ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অমরাবতীতেও আদানি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।


এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। বনভূমি ডাইভারশন মানেই সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্প নির্মাণ শুরু হয়ে যাবে, এমন নয়। ভারতে বনভূমি ব্যবহার নিয়ে একাধিক স্তরের অনুমোদন, শর্ত, ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন এবং আইনি প্রক্রিয়া থাকে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে, তবে প্রকল্পভেদে আরও পরিবেশগত ও নিয়ন্ত্রক শর্ত যুক্ত হতে পারে।


এই কারণেই State Govt Approves Forest Land Diversion for Adani Projects in Raigad and Amravati শিরোনামের খবরটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পরিবেশগত পর্যালোচনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।


বনভূমি ডাইভারশন বলতে আসলে কী বোঝায়


ভারতে কোনও বনভূমি যদি রাস্তা, রেল, বন্দর, বিদ্যুৎ, শিল্প বা অন্য কোনও অ-বন প্রকল্পে ব্যবহার করতে হয়, তখন তা আইন ও নিয়মের আওতায় আসে। বনভূমির চরিত্র বদলানো সহজ প্রশাসনিক কাগজপত্রের বিষয় নয়। কারণ বন শুধু গাছের জমি নয়, এটি জলধারা, মাটি, জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় আবহাওয়া এবং মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।


বনভূমি ডাইভারশনের ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েকটি বিষয় দেখা হয়:


  • প্রকল্পের জন্য ওই বনভূমি ব্যবহার অপরিহার্য কি না

  • বিকল্প জমি পাওয়া সম্ভব কি না

  • ওই জমিতে কী ধরনের বন বা পরিবেশ আছে

  • সেখানে বন্যপ্রাণী, জলাভূমি বা ম্যানগ্রোভ আছে কি না

  • ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের ব্যবস্থা কী হবে

  • প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব কতটা


এই প্রক্রিয়ায় সরকারি দপ্তর, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, বন বিভাগ এবং কখনও কখনও আদালতের পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ বা সংরক্ষিত বনভূমির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।


আলিবাগের সিমেন্ট টার্মিনাল কেন আলোচনায়


আলিবাগ রায়গড় জেলার উপকূলীয় অংশে অবস্থিত। মুম্বই মহানগর অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ার কারণে রায়গড় দীর্ঘদিন ধরে বন্দর, শিল্প, পর্যটন ও আবাসন প্রকল্পের চাপ অনুভব করছে। এই অঞ্চলে উপকূল, খাঁড়ি, ম্যানগ্রোভ এবং ছোট বসতিগুলি পাশাপাশি রয়েছে।


প্রস্তাবিত সিমেন্ট টার্মিনালের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত বন ও ম্যানগ্রোভ জমির অংশ জড়িত থাকায় পরিবেশগত প্রশ্ন উঠছে। সিমেন্ট টার্মিনাল সাধারণত পণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। এমন প্রকল্পে রাস্তা, জেটি, গুদাম, কনভেয়ার, পরিবহন যান এবং ধুলিকণার মতো বিষয় নিয়ে নজরদারি দরকার হয়।


পরিবেশগত উদ্বেগের কয়েকটি সম্ভাব্য দিক হলো:


  • ম্যানগ্রোভ এলাকার ক্ষতি

  • উপকূলীয় জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহে প্রভাব

  • জলাশয় বা খাঁড়ির উপর চাপ

  • নির্মাণকাজের সময় মাটি ও পলি জমার সমস্যা

  • সিমেন্ট সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় ধুলিকণা নিয়ন্ত্রণ

  • স্থানীয় মাছধরা বা উপকূলনির্ভর জীবিকার উপর প্রভাব


এই উদ্বেগের মানে এই নয় যে প্রকল্পটি চলতেই পারে না। বরং এর মানে হলো, প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব কী হবে তা স্বচ্ছভাবে বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।


আই-লেভেল দৃশ্যে কাদামাটির তীরে ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূল দেখা যাচ্ছে
ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূল উপকূলীয় মাটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ম্যানগ্রোভ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ


ম্যানগ্রোভকে অনেক সময় ছোট জঙ্গল বলে দেখা হয়। কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলে এগুলির ভূমিকা অনেক বড়। ম্যানগ্রোভ ঝড়ের ঢেউয়ের চাপ কমাতে সাহায্য করে, উপকূলের মাটি ধরে রাখে এবং বহু মাছ, কাঁকড়া, পাখি ও ছোট জীবের আশ্রয় তৈরি করে।


মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে দ্রুত নগরায়ন, শিল্পায়ন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের চাপ রয়েছে। মুম্বই, নবি মুম্বই, রায়গড় ও থানের আশপাশে ম্যানগ্রোভ রক্ষা নিয়ে বহু বছর ধরেই জনস্বার্থ মামলা, আদালতের নির্দেশ এবং নাগরিক আন্দোলন দেখা গেছে।


ম্যানগ্রোভ হারালে ক্ষতি শুধু গাছ কাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব দেখা দিতে পারে:


  • উপকূল ভাঙনে

  • বৃষ্টির জল ও জোয়ারের পানি নিষ্কাশনে

  • মাছের প্রজননস্থলে

  • স্থানীয় জীবিকার ওপর

  • ঝড় ও বন্যার ঝুঁকিতে


এই কারণেই আলিবাগের মতো অঞ্চলে যে কোনও ম্যানগ্রোভ-সংলগ্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশগত মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।


অমরাবতীর প্রকল্পের দিকেও নজর দরকার


খবরে অমরাবতীর একটি প্রকল্পের কথাও উল্লেখ রয়েছে। অমরাবতী উপকূলীয় জেলা নয়, কিন্তু সেখানে বনভূমি ব্যবহারের প্রশ্ন আলাদা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বিদর্ভ অঞ্চলে বন, কৃষি জমি, খরা, জলসম্পদ এবং শিল্প উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।


অমরাবতীতে বনভূমি ডাইভারশনের ফলে কোন এলাকায় কতটা জমি প্রভাবিত হবে, প্রকল্পের প্রকৃতি কী, স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর প্রভাব পড়বে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর জনপরিসরে পরিষ্কার হওয়া দরকার। বনভূমি কম পরিমাণে হলেও তার অবস্থান যদি সংবেদনশীল হয়, প্রভাব বড় হতে পারে।


একটি সরু বনপথ, জলধারার পাশে থাকা গাছপালা বা বন্যপ্রাণীর চলাচলের করিডর অনেক সময় আয়তনের বিচারে ছোট হলেও পরিবেশগতভাবে বড় ভূমিকা রাখে। তাই শুধু মোট জমির পরিমাণ নয়, জমির প্রকৃতি ও অবস্থানও বিচার করা দরকার।


উন্নয়ন বনাম পরিবেশ নয়, প্রশ্ন হলো দায়বদ্ধতা


বড় শিল্প প্রকল্পের পক্ষে সাধারণ যুক্তি হলো, এগুলি বিনিয়োগ আনে, চাকরি তৈরি করে, পণ্য সরবরাহ সহজ করে এবং পরিকাঠামো উন্নত করে। সিমেন্টের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে টার্মিনাল থাকলে নির্মাণ শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায় সুবিধা হতে পারে।


অন্যদিকে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তা হলো, এই সুবিধার দাম কে দেবে। যদি ম্যানগ্রোভ কমে যায়, খাঁড়ির জলপ্রবাহ বদলে যায়, মাছধরার জায়গা চাপের মুখে পড়ে বা ধুলিকণা ও যানবাহনের চাপ বাড়ে, তবে স্থানীয় সমাজই সেই প্রভাব আগে অনুভব করবে।


এখানে মূল প্রশ্ন উন্নয়ন হবে কি হবে না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, উন্নয়ন কীভাবে হবে।


একটি দায়িত্বশীল প্রকল্পের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট থাকা দরকার:


  • পরিবেশগত মূল্যায়ন জনসমক্ষে সহজ ভাষায় প্রকাশ করা

  • স্থানীয় মানুষের মতামত শোনা

  • ম্যানগ্রোভ ও খাঁড়ি এলাকার সীমানা পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা

  • নির্মাণ ও পরিচালনার সময় দূষণ নিয়ন্ত্রণের বাস্তব ব্যবস্থা রাখা

  • ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন কাগজে নয়, মাঠে নিশ্চিত করা

  • নিয়ম ভাঙলে শাস্তি ও সংশোধনের ব্যবস্থা রাখা


শুধু অনুমোদন থাকলেই দায় শেষ হয় না। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি দরকার।


হাই-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে উপকূলের কাছে শিল্প নির্মাণের জন্য খালি জমি দেখা যাচ্ছে
উপকূলীয় এলাকায় প্রকল্প পরিকল্পনায় জমির প্রকৃতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় মানুষের ভূমিকা কেন জরুরি


যে অঞ্চলে প্রকল্প হয়, সেখানে স্থানীয় মানুষই প্রথম পরিবর্তন লক্ষ করেন। মাছধরার পথ বদলেছে কি না, জোয়ারের পানি আটকে যাচ্ছে কি না, ধুলো বাড়ছে কি না, গাছ কাটা হচ্ছে কি না, এসব প্রাথমিক তথ্য অনেক সময় স্থানীয়দের কাছ থেকেই আসে।


তাই প্রকল্প অনুমোদনের পর স্থানীয় নজরদারি কমে যাওয়া উচিত নয়। বরং তখন বেশি প্রয়োজন:


  • গ্রামসভা বা স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ

  • সরকারি নথি ও অনুমোদনের শর্ত জানা

  • ম্যানগ্রোভ কাটা বা ভরাটের অভিযোগ নথিভুক্ত করা

  • পরিবেশ দপ্তর ও বন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো

  • আদালত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যাওয়ার আগে তথ্য সংগ্রহ করা


ভারতে পরিবেশ সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ সাধারণ মানুষের তথ্য ও নাগরিক উদ্যোগ থেকে শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ করার ক্ষেত্রেও তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।


এই সিদ্ধান্তের আইনি ও প্রশাসনিক গুরুত্ব


বনভূমি ডাইভারশন বিষয়টি সাধারণত বন সংরক্ষণ আইন, পরিবেশ সংক্রান্ত নিয়ম এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় অনুমোদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। কোনও প্রকল্পে সংরক্ষিত বন বা ম্যানগ্রোভ জমি থাকলে বিষয়টি আরও জটিল হয়।


মহারাষ্ট্রে ম্যানগ্রোভ রক্ষা নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আগেও ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ম্যানগ্রোভ কাটা, ভরাট বা নির্মাণকাজের আগে বিশেষ অনুমতি দরকার হয়। তাই আলিবাগের প্রকল্পে কোন শর্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।


এই সিদ্ধান্তের পর যে প্রশ্নগুলি সামনে থাকবে:


  • প্রকল্পের জন্য ঠিক কতটা জমি ব্যবহার হবে

  • জমির কোন অংশ সংরক্ষিত বন এবং কোন অংশ ম্যানগ্রোভ

  • ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন কোথায় হবে

  • ম্যানগ্রোভের ক্ষতি কীভাবে এড়ানো বা কমানো হবে

  • স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া হয়েছে কি না

  • পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত কী


এই প্রশ্নগুলির উত্তর প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য জরুরি। কারণ পরিবেশগত অনুমোদন শুধু দপ্তরের প্রক্রিয়া নয়, জনস্বার্থের বিষয়।


আদানি প্রকল্প নিয়ে জনমতের প্রেক্ষাপট


আদানি গ্রুপ ভারতের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী। বন্দর, বিদ্যুৎ, খনি, লজিস্টিক্স, বিমানবন্দর ও অবকাঠামো সহ বহু খাতে তাদের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে গোষ্ঠীটির কোনও বড় প্রকল্পে জমি, পরিবেশ এবং সরকারি অনুমোদন নিয়ে জনমনে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।


এই ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে দুটি দিক থেকে আলোচনা হবে। একদিকে শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের যুক্তি থাকবে। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠবে, বনভূমি ও ম্যানগ্রোভের মতো সংবেদনশীল পরিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


এমন প্রকল্পে বিশ্বাস তৈরি হয় স্বচ্ছতা দিয়ে। অনুমোদনের শর্ত, প্রভাব মূল্যায়ন, মানচিত্র, ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা এবং পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট সহজে পাওয়া গেলে অনিশ্চয়তা কমে। তথ্য গোপন থাকলে সন্দেহ বাড়ে।


সামনে কী হতে পারে


রাজ্য সরকারের অনুমোদনের পর পরবর্তী ধাপে প্রকল্পের নির্দিষ্ট শর্ত, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যদি প্রকল্প এলাকায় ম্যানগ্রোভ থাকে, তবে তার সীমানা নির্ধারণ, সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ নজর থাকবে।


এই ধরনের প্রকল্পে সাধারণত তিনটি স্তরে নজরদারি দরকার হয়।


প্রথম স্তর হলো অনুমোদনের আগে মূল্যায়ন। এখানে প্রকল্পের প্রয়োজন, বিকল্প, জমির প্রকৃতি ও পরিবেশগত প্রভাব বিচার করা হয়।


দ্বিতীয় স্তর হলো নির্মাণকালের নিয়ন্ত্রণ। এখানে মাটি ফেলা, গাছ কাটা, জলপ্রবাহ বদল, শব্দ ও ধুলো নিয়ন্ত্রণের বিষয় থাকে।


তৃতীয় স্তর হলো পরিচালনাকালের নজরদারি। প্রকল্প চালু হওয়ার পরে পরিবহন, ধুলো, বর্জ্য, জল ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রভাব দেখা জরুরি।


যদি এই তিন স্তর দুর্বল হয়, তাহলে অনুমোদনের কাগজ পরিবেশ রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে বনবিভাগের সীমানা চিহ্নের পাশে সবুজ গাছপালা দেখা যাচ্ছে
বনভূমির সঠিক সীমানা চিহ্নিত করা প্রকল্প মূল্যায়নের মূল ধাপ।

শেষ কথা


রায়গড় ও অমরাবতীতে আদানি গ্রুপের প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৩,৭০০ বর্গফুট বনভূমি ডাইভারশনের অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে আলিবাগের প্রস্তাবিত সিমেন্ট টার্মিনালের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত বন ও ম্যানগ্রোভ জমি জড়িত থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।


উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজন থাকতে পারে, কিন্তু বনভূমি ও ম্যানগ্রোভের ক্ষতি সহজে পূরণ করা যায় না। তাই পরের ধাপে সবচেয়ে জরুরি হলো স্বচ্ছতা, কঠোর শর্ত, বাস্তব নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ।


একটি অনুমোদন খবরের শিরোনাম তৈরি করে। কিন্তু প্রকল্পটি পরিবেশের সঙ্গে কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করবে, সেটাই শেষ পর্যন্ত আসল পরীক্ষা।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page