top of page

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দেয়াল নিয়ে এবিভিপি ও বাম দলগুলোর সংঘর্ষে গ্রাফিতি যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Sep 6
6 min read

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল ৫ সেপ্টেম্বর। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি-র কর্মীরা ক্যাম্পাসের দেওয়ালে “Free PoK”, “Free Aksai Chin”, “Akhand Bharat” এবং “Make JU nationalist again” সহ একাধিক স্লোগান লেখার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েক দিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্যালেস্টাইন, কাশ্মীর, কার্ল মার্ক্স এবং বামপন্থী রাজনৈতিক বিষয়বস্তু ঘিরে লেখা কিছু বিতর্কিত দেওয়ালচিত্র ও স্লোগান মুছে দেয়। তার পরই বাম ছাত্র সংগঠনগুলির “Reclaim the Wall” প্রচারের পাল্টা হিসেবে এবিভিপি-র এই পদক্ষেপ সামনে এসেছে।


এই ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দেওয়াল লিখন আবারও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রকাশ্য সংঘর্ষের জায়গা হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন ছাত্র রাজনীতি, প্রতিবাদ এবং মত প্রকাশের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, জাতীয়তাবাদী বক্তব্য, বাম ছাত্র রাজনীতি এবং মত প্রকাশের সীমা নিয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দেওয়ালে নতুন রাজনৈতিক স্লোগান দেখা যাচ্ছে
ক্যাম্পাসের দেওয়াল এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের দৃশ্যমান ক্ষেত্র।

৫ সেপ্টেম্বর কী ঘটল


৫ সেপ্টেম্বর এবিভিপি-র কর্মীরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়ালে কয়েকটি স্লোগান লেখেন। সেগুলির মধ্যে ছিল “Free PoK”, “Free Aksai Chin”, “Akhand Bharat” এবং “Make JU nationalist again”। এই স্লোগানগুলি সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। বিশেষ করে “Free PoK” এবং “Free Aksai Chin” ভারতের সীমান্ত, ভূখণ্ড এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল বিষয়কে সামনে আনে।


এবিভিপি-র এই দেওয়াল লিখন এমন সময়ে হয়েছে, যখন বাম ছাত্র সংগঠনগুলি ক্যাম্পাসের মুছে দেওয়া দেওয়াল লিখন ফেরানোর জন্য সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছিল। ফলে বিষয়টি একক কোনও দেওয়াল লিখনের ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি এখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দেওয়াল দখল নিয়ে প্রতীকী এবং প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে দেওয়াল শুধুই স্থাপত্যের অংশ নয়। বিভিন্ন সময় আন্দোলন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, শ্রমিক অধিকার, রাষ্ট্রনীতি, শিক্ষানীতি, মানবাধিকার এবং মতাদর্শের বার্তা এই দেওয়ালেই লেখা হয়েছে। এবারের বিতর্ক সেই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই তীব্র হয়েছে।


বিতর্কের সূত্রপাত হয় আগস্টের শেষে


বিতর্কের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে আগস্টের শেষ দিকে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপত্তির পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের কিছু রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মুরাল, স্লোগান এবং গ্রাফিতি সাদা রং করে মুছে দেয়। মুছে দেওয়া লেখার মধ্যে প্যালেস্টাইন, কাশ্মীর, কার্ল মার্ক্স এবং বামপন্থী রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর উল্লেখ ছিল বলে ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি।


এই পদক্ষেপের পর বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি, বিশেষ করে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া বা এসএফআই, “Reclaim the Wall” নামে প্রচার শুরু করে। তাদের বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেওয়াল লিখন বহু দশক ধরে মত প্রকাশের মাধ্যম। প্রশাসনের সাদা রং করা তারা ছাত্রদের রাজনৈতিক অভিব্যক্তির উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছে।


এসএফআই এবং অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা মুছে দেওয়া জায়গায় নতুন করে রাজনৈতিক বার্তা লেখেন। এর মধ্যে প্যালেস্টাইন সংক্রান্ত লেখাও ছিল। “Free Palestine” স্লোগান মুছে দেওয়ার পর ছাত্ররা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্যালেস্টাইনের অধিকার নিয়ে আগের অবস্থানের উল্লেখ করে পোস্টারও দেখায়। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছিল, প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গে অবস্থান নেওয়া শুধু বামপন্থী রাজনীতির বিষয় নয়, ভারতের বৃহত্তর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেও এর জায়গা রয়েছে।


এই পর্যায় থেকেই ক্যাম্পাসে এক ধরনের চক্র তৈরি হয়। দেওয়াল লেখা হচ্ছে, প্রশাসন তা মুছছে, আবার ছাত্র সংগঠনগুলি নতুন করে লিখছে। প্রতিটি স্তরেই রাজনৈতিক বার্তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে সাদা রং করা দেওয়ালের উপর নতুন রঙের স্তর দেখা যাচ্ছে
বারবার মুছে দেওয়া ও পুনরায় লেখার ফলে দেওয়ালে জমেছে রাজনৈতিক বার্তার স্তর।

শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পর “Free PoK” স্লোগান নতুন মাত্রা পেল


সাম্প্রতিক “Free PoK” গ্রাফিতি রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর জনসমক্ষে করা প্রশ্নের পর। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ছাত্ররা যদি “Free Palestine” লিখতে পারে, তা হলে “Free PoK” কেন লিখতে পারবে না। এই মন্তব্যের কিছু সময় পর এবিভিপি কর্মীদের দেওয়ালে “Free PoK” লেখা দেখা যায়।


তবে উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারী এবিভিপি কর্মীদের এই স্লোগান লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমন কোনও যাচাই করা প্রমাণ নেই। ফলে তাঁর মন্তব্যকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু সরাসরি নির্দেশ হিসেবে নয়।


এই অবস্থানটি বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যাদবপুরের সাম্প্রতিক গ্রাফিতি সংঘাত এখন শুধু ছাত্র সংগঠন বনাম প্রশাসনের প্রশ্নে আটকে নেই। এর সঙ্গে রাজ্য রাজনীতি, জাতীয়তাবাদী বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংহতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং বিরোধী রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে।


এবিভিপি কী বার্তা দিল


এবিভিপি-র লেখাগুলি বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দেওয়াল পুনর্দখল প্রচারের সরাসরি পাল্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। “Akhand Bharat” এবং “Make JU nationalist again” স্লোগান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তোলে। এই বার্তাগুলি ইঙ্গিত করে যে এবিভিপি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক পরিচিতিকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে।


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রবিরোধী নয়, বরং রাষ্ট্রনীতির সমালোচনামূলক আলোচনার জায়গা হিসেবে পরিচিত। এই পরিচিতি নিয়েই বিজেপি এবং ডানপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে বহুদিন ধরে আপত্তি রয়েছে। এবারের দেওয়াল লিখন সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধেরই নতুন প্রকাশ।


এবিভিপি-র স্লোগানগুলির মধ্যে “Free PoK” বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। একদিকে এটি “Free Palestine” স্লোগানের পাল্টা ভাষা ব্যবহার করে। অন্যদিকে এটি কাশ্মীর নিয়ে জাতীয় রাজনীতির সংবেদনশীল অবস্থানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এনে রাখে। ফলে প্যালেস্টাইন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সংহতির ভাষা ও ভারতের ভূরাজনৈতিক দাবির ভাষা একই ক্যাম্পাসে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।


বাম ছাত্র সংগঠনগুলির যুক্তি


বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মূল যুক্তি, ক্যাম্পাসের দেওয়াল ছাত্র রাজনীতির ঐতিহাসিক অংশ। তাদের মতে, কোনও একটি রাজনৈতিক মতের প্রতি আপত্তি থাকলে তার জবাব রাজনৈতিকভাবে দেওয়া উচিত, প্রশাসনিকভাবে মুছে ফেলা নয়।


তারা বলছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের প্রতিবাদী সংস্কৃতি নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা নীতি, ফি বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দেওয়াল লিখন হয়েছে। সেই ধারাকে বন্ধ করার চেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বরকে দুর্বল করবে বলে তাদের দাবি।


“Reclaim the Wall” প্রচারের মাধ্যমে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি এই বার্তাই দিতে চাইছে যে দেওয়াল মুছে দিলেই রাজনৈতিক বক্তব্য মুছে যায় না। বরং তা আরও জোরালোভাবে ফিরে আসে। তাদের মতে, প্রশাসনের নিরপেক্ষ থাকা উচিত, কিন্তু রাজনৈতিক লেখার বেছে বেছে অপসারণ নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে।


আই-লেভেল দৃশ্যে কয়েকজন ছাত্র সাদা দেওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে আলোচনায় ব্যস্ত
দেওয়াল লিখন নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে চলছে তর্ক ও আলোচনা।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে এখন কঠিন পরিস্থিতি। একদিকে ক্যাম্পাসে শান্তি এবং স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব রয়েছে। অন্যদিকে যাদবপুরের মতো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মত প্রকাশের দীর্ঘ ঐতিহ্যও রয়েছে। কোন দেওয়াল লিখন গ্রহণযোগ্য, কোনটি নয়, কে সেই সিদ্ধান্ত নেবে, এই প্রশ্নই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।


উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ছাত্রদের এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের প্রতি সংযম বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের অবস্থান মূলত সংঘাত যাতে আরও না বাড়ে, সেই দিকে নজর রাখার। কিন্তু ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে আস্থার অভাব থাকলে শুধু আবেদন দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।


প্রশাসন যদি সব রাজনৈতিক দেওয়াল লিখন একসঙ্গে নিষিদ্ধ করতে চায়, তা হলে যাদবপুরের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে। আবার যদি কিছু লেখা সরিয়ে কিছু লেখা রেখে দেওয়া হয়, তা হলে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠতে পারে। এই দ্বন্দ্বই এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে।


দেওয়াল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেওয়াল শুধু প্রচারের জায়গা নয়। এটি বহু ছাত্রের কাছে স্মৃতি, আন্দোলন এবং পরিচয়ের অংশ। কোনও ছাত্র সংগঠনের ঘর, পোস্টার বা সভার বাইরে দেওয়ালই সবচেয়ে দৃশ্যমান রাজনৈতিক পরিসর। সেখানে লেখা স্লোগান প্রতিদিন হাজারো ছাত্র, শিক্ষক, কর্মী এবং দর্শনার্থীর চোখে পড়ে।


এই কারণেই দেওয়াল দখল মানে শুধু জায়গা দখল নয়। এটি রাজনৈতিক উপস্থিতি জানানোর উপায়। কোন বার্তা দৃশ্যমান থাকবে, কোন বার্তা মুছে যাবে, তা নিয়ে লড়াই আসলে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক স্বর নিয়েই লড়াই।


সাম্প্রতিক ঘটনায় দুই পক্ষই এই প্রতীকী গুরুত্ব বুঝে পদক্ষেপ করছে। বাম ছাত্র সংগঠনগুলি মুছে দেওয়া স্লোগানের পুনরুদ্ধারকে মত প্রকাশের অধিকারের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। এবিভিপি পাল্টা স্লোগান লিখে জানাচ্ছে, ক্যাম্পাসে একমাত্র বাম রাজনৈতিক ভাষাই থাকবে না।


জাতীয় রাজনীতির ছায়া ক্যাম্পাসে


যাদবপুরের এই ঘটনা বৃহত্তর রাজনৈতিক আবহ থেকেও আলাদা নয়। প্যালেস্টাইন, কাশ্মীর, PoK, অক্ষাই চিন এবং অখণ্ড ভারত, প্রতিটি বিষয়ই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বড় প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। এই বিষয়গুলিকে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা হয়, তখন তা স্থানীয় ছাত্র রাজনীতির সীমানা ছাড়িয়ে যায়।


“Free Palestine” স্লোগান সাধারণত আন্তর্জাতিক সংহতির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। “Free PoK” বা “Free Aksai Chin” স্লোগান ভারতের ভৌগোলিক দাবি এবং জাতীয়তাবাদী ভাষার সঙ্গে যুক্ত। ফলে একই ক্যাম্পাসে দুই ধরনের রাজনৈতিক ভাষা এখন মুখোমুখি অবস্থান করছে।


এই সংঘাতের আরেকটি দিক হল, কার রাজনৈতিক বক্তব্যকে বৈধ হিসেবে দেখা হবে। এক পক্ষ বলছে, প্যালেস্টাইন নিয়ে লেখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রশ্নে অবস্থান। অন্য পক্ষ বলছে, যদি আন্তর্জাতিক প্রশ্নে লেখা যায়, তবে ভারতের ভূখণ্ড নিয়ে জাতীয়তাবাদী অবস্থানও লেখা যাবে। এই তর্ক এখন দেওয়াল ছাড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।


লো-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে ক্যাম্পাসের পুরনো দেওয়ালের পাশে রঙের বালতি রাখা আছে
নতুন করে রং করার প্রস্তুতি দেখাচ্ছে যে সংঘাত এখনও থামেনি।

সামনে কী হতে পারে


এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নির্ভর করছে প্রশাসন এবং ছাত্র সংগঠনগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। যদি প্রশাসন আবার দেওয়াল মুছে দেয়, তা হলে বাম এবং ডানপন্থী দুই পক্ষের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। যদি প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকে, তা হলে ক্যাম্পাসে আরও পাল্টা দেওয়াল লিখনের সম্ভাবনা থাকবে।


বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক প্রতিবাদ যাদবপুরের সংস্কৃতির অংশ হলেও, ক্রমাগত পাল্টা-পাল্টি সংঘাত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ না ঘটলেও রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।


এই বিতর্কের একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসে কোন দেওয়ালে, কী ধরনের রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক লেখা করা যাবে, তার ন্যায্য ও স্বচ্ছ নিয়ম তৈরি করতে পারে। কিন্তু এমন নীতি কার্যকর করতে হলে সব পক্ষের আস্থা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


যাদবপুরের দেওয়াল এখন বৃহত্তর প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে


যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিতি বিতর্ক আপাতদৃষ্টিতে দেওয়াল লেখা নিয়ে শুরু হলেও, এর ভিতরে রয়েছে অনেক বড় প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মত প্রকাশের সীমা কোথায়, প্রশাসন কতটা হস্তক্ষেপ করবে, ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্য কীভাবে রক্ষা পাবে, এবং জাতীয় রাজনীতির সংঘাত ক্যাম্পাসে কতদূর ঢুকবে, এই সব প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে এসেছে।


৫ সেপ্টেম্বর এবিভিপি-র নতুন স্লোগান সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। বাম সংগঠনগুলির “Reclaim the Wall” প্রচার এবং তার পাল্টা ডানপন্থী দেওয়াল লিখন দেখিয়ে দিল, যাদবপুরের দেওয়াল এখন শুধু রং করা পৃষ্ঠ নয়। এটি রাজনৈতিক অবস্থান, প্রতিবাদ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরিচয়ের প্রকাশ্য মঞ্চ।


পরিস্থিতি শান্ত হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংযম, সংলাপ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উপর। আপাতত একটাই স্পষ্ট, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল নিয়ে লড়াই থামেনি, বরং তা নতুন রাজনৈতিক ভাষা পেয়ে আরও দৃশ্যমান হয়েছে।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page