ভারতের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল সার্জ পার্থ মানে এবং এলাভেনিল আই মিশ্র দল পদক

ভারতের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল অভিযান এখন আর শুধু একটি দলগত রুপোর গল্প নয়। Aichi-Nagoya Asian Games 2026-এ পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ভারত দলগত রুপো দিয়ে শুরু করেছিল, এরপর ব্যক্তিগত বিভাগে হিমাংশু ধিলোঁ জিতেছেন রুপো এবং রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিল পেয়েছেন ব্রোঞ্জ। সব মিলিয়ে এই ইভেন্ট থেকেই ভারতের পদকসংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে তিনে।
এবার নজর ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড টিম ইভেন্টে। ২২ সেপ্টেম্বর যোগ্যতা পর্বে পার্থ মানে এবং এলাভেনিল ভালারিভান ৬৩৪.৯ স্কোর করে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছেন। এই ফল তাঁদের সরাসরি পদক লড়াইয়ে তুলে দিয়েছে। যোগ্যতায় শীর্ষে ছিল চিন, যারা ৬৩৮.৯ স্কোর করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।
ভারতীয় শুটিং শিবিরের জন্য এই মুহূর্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পার্থ মানে পুরুষদের দলগত রুপো জয়ের পর প্রায় বিশ্রামের সুযোগ না পেয়েই নতুন ইভেন্টে ফিরেছেন। এখন তাঁর সামনে এলাভেনিলের সঙ্গে মিক্সড টিম ফাইনালে আরও একটি পদকের সুযোগ।

পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ভারতের তিন পদক
ভারতের পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দল Aichi-Nagoya Asian Games 2026-এ প্রথমে দলগত রুপো জেতে। সেই দলে ছিলেন হিমাংশু ধিলোঁ, রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিল এবং পার্থ মানে। এই ফল ভারতের শুটিং অভিযানে শক্ত শুরু এনে দেয়।
তারপর ব্যক্তিগত ফাইনালে ভারত আরও দুই পদক পায়। হিমাংশু ধিলোঁ রুপো জেতেন, রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিল জেতেন ব্রোঞ্জ। চিনের শেং লিহাও ব্যক্তিগত সোনা জিতে ইভেন্টের শীর্ষে থাকেন।
এই তিনটি পদক দেখিয়ে দিয়েছে যে ভারতের পুরুষ রাইফেল শুটাররা শুধু দলগত শক্তির ওপর নির্ভর করছেন না। ব্যক্তিগত ফাইনালেও তাঁরা ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইভেন্ট | ভারতীয় ফল | পদক |
পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দলগত | হিমাংশু ধিলোঁ, রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিল, পার্থ মানে | রুপো |
পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ব্যক্তিগত | হিমাংশু ধিলোঁ | রুপো |
পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ব্যক্তিগত | রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিল | ব্রোঞ্জ |
এই ধারাবাহিক ফলই India’s 10m Air Rifle Campaign-কে আরও বড় আলোচনায় নিয়ে এসেছে। মিক্সড টিম ইভেন্টে পদকের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভারতের শুটিং দল এখন একাধিক দিক থেকে সাফল্যের পথে এগোচ্ছে।
পার্থ মানে এবং এলাভেনিলের যোগ্যতা পর্বের পারফরম্যান্স
২২ সেপ্টেম্বর ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড টিম যোগ্যতা পর্বে পার্থ মানে এবং এলাভেনিল ভালারিভান ৬৩৪.৯ স্কোর করেন। এই স্কোর তাঁদের দ্বিতীয় স্থানে রেখে পদক ফাইনালে পৌঁছে দেয়।
মিক্সড টিম ইভেন্টে দুই শুটারের স্থিরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে পুরুষ শুটার, অন্যদিকে নারী শুটার, দুজনের স্কোর মিলেই দল এগোয়। কোনও একজনের সামান্য বিচ্যুতি পুরো র্যাঙ্কিং বদলে দিতে পারে। এই জায়গায় ভারতীয় জুটি যোগ্যতা পর্বে নিজেকে নিরাপদ অবস্থানে রেখেছে।
চিন ৬৩৮.৯ স্কোর করে যোগ্যতায় শীর্ষে যায়। ওই স্কোর বিশ্বরেকর্ড হিসেবেও উল্লেখযোগ্য। ভারতের জন্য এর অর্থ পরিষ্কার, ফাইনালে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা ভারতীয় জুটির আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে।
৬৩৪.৯ স্কোর শুধু ফাইনালে ওঠার সংখ্যা নয়। এটি চাপের মধ্যে স্থির থাকার প্রমাণও। যোগ্যতা পর্বে বড় স্কোর মানে ফাইনালে পদক নিশ্চিত নয়, কিন্তু এটি শুটারদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখে।

কম সময়ের ব্যবধানে পার্থ মানের বড় চ্যালেঞ্জ
পার্থ মানের জন্য এই পর্বটি বিশেষভাবে কঠিন। পুরুষদের দলগত রুপো জয়ের পর তিনি দ্রুত আবার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। বড় মঞ্চে পদক জয়ের আবেগ সামলানো সহজ নয়। সেই সঙ্গে পরের ইভেন্টে নতুন সঙ্গী, নতুন ফরম্যাট এবং নতুন লক্ষ্য থাকে।
শুটিংয়ে শারীরিক ক্লান্তি অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কিন্তু মনোযোগের চাপ দীর্ঘস্থায়ী। প্রতিটি শটে নিশ্বাস, দৃষ্টি, ট্রিগার কন্ট্রোল এবং শরীরের ভারসাম্য একইভাবে ধরে রাখতে হয়। আগের ইভেন্টের ফল যাই হোক, নতুন ফাইনালে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়।
পার্থের ক্ষেত্রে আরেকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দলগত সাফল্যের অংশ ছিলেন, এবার মিক্সড টিমে এলাভেনিলের সঙ্গে আলাদা দায়িত্বে আছেন। এই ইভেন্টে যোগাযোগ, রিদম এবং ধারাবাহিকতা খুব জরুরি। দুজনকে একই সঙ্গে স্কোর ধরে রাখতে হবে।
এলাভেনিল ভালারিভান ভারতের অভিজ্ঞ রাইফেল শুটারদের মধ্যে পরিচিত নাম। তাঁর সঙ্গে পার্থের জুটি যোগ্যতা পর্বে দ্রুত ছন্দ পেয়েছে। এটাই ফাইনালের আগে ভারতের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।
চিনের বিশ্বরেকর্ড এবং ফাইনালের প্রেক্ষাপট
যোগ্যতা পর্বে চিনের ৬৩৮.৯ স্কোর ফাইনালের আগে প্রতিযোগিতার মান স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিশ্বরেকর্ড মানের স্কোরের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতের জুটি জানে, পদক জিততে হলে ফাইনালে ভুলের সুযোগ কম থাকবে।
তবে ফাইনাল সবসময় যোগ্যতা পর্বের পুনরাবৃত্তি নয়। শুটিং ফাইনালে চাপ আলাদা হয়। প্রতিটি সিরিজের পর র্যাঙ্কিং বদলাতে পারে। দর্শক, সময়, স্কোরবোর্ড এবং প্রতিপক্ষের গতি, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনেক দ্রুত পাল্টায়।
ভারতীয় জুটির দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ। তারা শীর্ষ দলের খুব পিছনে থাকলেও, পদকের লড়াইয়ে ঢোকার মতো শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। যোগ্যতা পর্বে স্থিরতা দেখানোর পর ফাইনালে শুরুটা পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে জরুরি হবে।
এই পর্যায়ে ভারতের কৌশল হতে পারে প্রথম কয়েক শটে নিরাপদ স্কোর গড়া, তারপর প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়ানো। কিন্তু শুটিংয়ে অতিরিক্ত আগ্রাসন অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে। তাই ছন্দ না হারানোই প্রধান কাজ।

ভারতের শুটিং দলে ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত
ভারতের শুটিং দল সাম্প্রতিক বড় প্রতিযোগিতাগুলিতে একাধিক ইভেন্টে পদকের দাবি তুলেছে। এই প্রতিযোগিতাতেও ১০ মিটার এয়ার রাইফেল বিভাগ থেকে দ্রুত পদক এসেছে। এর ফলে দলের ভিতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
দলগত রুপো, ব্যক্তিগত রুপো, ব্যক্তিগত ব্রোঞ্জ, এরপর মিক্সড টিম ফাইনাল, এই ধারাবাহিকতা হঠাৎ তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে প্রস্তুতি, নির্বাচন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ফাইনাল সামলানোর মানসিক শক্তি।
হিমাংশু ধিলোঁর ব্যক্তিগত রুপো ভারতের জন্য বড় সাফল্য। রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিলের ব্রোঞ্জও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই ইভেন্টে একাধিক ভারতীয় শুটারের পদক পাওয়া দলের গভীরতা বোঝায়। পার্থ মানে সেই দলগত সাফল্য থেকে সরাসরি মিক্সড টিম পদক লড়াইয়ে এসেছেন।
এই পরিস্থিতি ভারতীয় শুটিংয়ের জন্য স্বস্তির। কারণ বড় গেমসে এক বা দুই তারকার ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘ অভিযানে চাপ বাড়ে। এখানে একাধিক শুটার ফল দিচ্ছেন। সেটাই ভারতের পদক সম্ভাবনাকে বিস্তৃত করছে।
মিক্সড টিম ফাইনালে কী নজরে থাকবে
১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড টিম ফাইনালে ভারতের জন্য কয়েকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রথমটি শুরু। প্রথম কয়েক শটে স্থির স্কোর ফাইনালের গতি ঠিক করে দিতে পারে।
দ্বিতীয়টি জুটির ভারসাম্য। পার্থ এবং এলাভেনিলের মধ্যে একজন যদি সামান্য পিছিয়ে পড়েন, অন্যজনকে স্থির থাকতে হবে। অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করলে স্কোরে ওঠানামা হতে পারে।
তৃতীয়টি মানসিক চাপ। চিন যোগ্যতায় বিশ্বরেকর্ড করেছে। এই তথ্য ফাইনালে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু ভারতীয় জুটি যদি নিজেদের রুটিনে থাকে, তাহলে প্রতিপক্ষের স্কোরের চেয়ে নিজেদের শট এক্সিকিউশনে বেশি মন রাখা সম্ভব হবে।
চতুর্থটি শেষ পর্ব। ফাইনালের শেষ কয়েক শটে অনেক সময় পদকের রং বদলে যায়। সেই সময় অভিজ্ঞতা এবং শান্ত থাকা বড় ভূমিকা নেয়।
ভারতের জন্য লক্ষ্য এখন পরিষ্কার। যোগ্যতা পর্বের দ্বিতীয় স্থানকে পদকে বদলানো। দল ইতিমধ্যেই পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল থেকে তিন পদক পেয়েছে। মিক্সড টিমে আরেকটি পদক এলে এই অভিযান আরও শক্তিশালী রূপ নেবে।
পরের আপডেটে নজর থাকবে আরও দুই ইভেন্টে
মিক্সড টিম ফাইনালের পর ভারতের শুটিং অভিযানে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে আছে মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল এবং পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল ৩ পজিশনস।
মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল আলাদা দক্ষতার পরীক্ষা। এখানে রাইফেলের মতো শরীরের ভর এবং সাপোর্টের ধরন ভিন্ন নয়, পিস্তল শুটিংয়ে হাতের স্থিরতা এবং ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি চোখে পড়ে। ভারতের পিস্তল শুটারদের ফল তাই আলাদা নজর কাড়বে।
পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল ৩ পজিশনস আরও কঠিন ফরম্যাট। এখানে শুটারদের নিলিং, প্রোন এবং স্ট্যান্ডিং, তিন অবস্থায় লড়তে হয়। এই ইভেন্টে শারীরিক সহনশীলতা এবং টেকনিক দুটিই বড় বিষয়।
তবু এই মুহূর্তে সব নজর পার্থ মানে এবং এলাভেনিল ভালারিভানের ওপর। তাঁরা পদক ফাইনালে উঠেছেন, এবং ভারতীয় শুটিং দলের চলতি সাফল্যে নতুন অধ্যায় যোগ করার সুযোগ পেয়েছেন।

ভারতীয় শুটিং শিবিরের জন্য বড় মুহূর্ত
ভারতের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল অভিযান দলগত রুপো দিয়ে শুরু হলেও এখন সেটি আরও বড় গল্পে পরিণত হয়েছে। হিমাংশু ধিলোঁর ব্যক্তিগত রুপো, রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিলের ব্রোঞ্জ এবং পার্থ মানের দলগত সাফল্য ভারতের পদক তালিকায় স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
এবার পার্থ মানে এবং এলাভেনিল ভালারিভানের মিক্সড টিম ফাইনাল সেই ধারাবাহিকতার পরের পরীক্ষা। চিন যোগ্যতায় বিশ্বরেকর্ড করেছে, কিন্তু ভারত দ্বিতীয় স্থানে থেকে পদকের দরজা খুলেছে।
পরের বড় আপডেট হবে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড টিম ফাইনাল। তারপর নজর যাবে মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল এবং পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেল ৩ পজিশনসের দিকে। ভারতীয় শুটিং দল এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি ফাইনাল নতুন পদকের সম্ভাবনা এনে দিচ্ছে।




Comments