top of page

বিজ্ঞাপন বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাজ্যকে নতুনভাবে পরিচিত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উদ্যোগ

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Sep 6
6 min read

কলকাতা, ৬ সেপ্টেম্বর: নতুন পর্যটন প্রচারাভিযানের বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন সেই বিতর্কের বাইরে বড় ছবিটিকেই সামনে আনতে চাইছে। রাজ্যের লক্ষ্য, পশ্চিমবঙ্গকে শুধু উৎসব, পাহাড় বা সুন্দরবনের গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতার রাজ্য হিসেবে তুলে ধরা।


এই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ₹৫০০-কোটি পর্যটন বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তার সঙ্গে এসেছে নতুন ব্র্যান্ড পরিচয়, “West Bengal — Where India Feels Different.” প্রচারের ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়ে মতভেদ থাকলেও সরকারের দাবি, প্রকৃত গুরুত্ব রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটক পরিষেবা, জলপথ পর্যটন এবং রাজ্যের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও দৃশ্যমান করার মধ্যে।


পরিকল্পনার মূল পরিসর বড়। দার্জিলিং পাহাড় থেকে সুন্দরবন, গঙ্গার ঘাট থেকে উপকূলীয় মন্দারমণি, কলকাতার নদীতীর থেকে গঙ্গাসাগর, বেলুড় মঠ, দক্ষিণেশ্বর ও চন্দননগর, একাধিক স্তরে পর্যটনকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে দার্জিলিং পাহাড়ে ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ছে।
পাহাড়, নদী ও সাগরকে একসঙ্গে ধরেই রাজ্যের পর্যটন পরিকল্পনা এগোচ্ছে।

বিজ্ঞাপন বিতর্কের আড়ালে বড় পর্যটন পরিকল্পনা


রাজ্যের নতুন পর্যটন প্রচারের সৃজনশীল উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারও মতে, প্রচারের ভাষা ও ভিজ্যুয়াল ভাবনা নিয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া যেত। কেউ আবার মনে করছেন, নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে জাতীয় পর্যটন মানচিত্রে আলাদা জায়গায় বসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।


কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে যে পরিকল্পনা সামনে এসেছে, তা কেবল বিজ্ঞাপননির্ভর নয়। লক্ষ্য তিনটি স্তরে কাজ করা:


  • পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামো উন্নত করা

  • সরকারি পর্যটন আবাসন ও পরিষেবা আধুনিক করা

  • নদী, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রকৃতিকে মিলিয়ে নতুন পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করা


পর্যটনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বৈচিত্র্য। একই রাজ্যে হিমালয়ের পাহাড়, ডুয়ার্সের অরণ্য, কলকাতার ঔ পনিবেশিক ঐতিহ্য, নদীতীরের ধর্মীয় কেন্দ্র, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ, সমুদ্রসৈকত এবং লোকসংস্কৃতির বিস্তৃত পরিসর রয়েছে। প্রশ্ন ছিল, এই বৈচিত্র্যকে কতটা সুসংগঠিতভাবে বাজারে তুলে ধরা যায়।


নতুন উদ্যোগ সেই উত্তর খুঁজতে চাইছে। রাজ্য সরকার পর্যটনকে শুধু দর্শনীয় স্থানের তালিকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। বরং যাতায়াত, আবাসন, খাবার, স্থানীয় সংস্কৃতি, নিরাপত্তা এবং অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা, সব মিলিয়ে পর্যটকের যাত্রাকে উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


₹৫০০-কোটি বিনিয়োগে কোথায় জোর দেওয়া হচ্ছে


ঘোষিত ₹৫০০-কোটি বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রকল্পের কথা সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি অতিথিশালা আধুনিকীকরণ, নদী পর্যটন সম্প্রসারণ এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উপযোগী করে তোলার প্রস্তুতি।


রাজ্যচালিত পর্যটন অতিথিশালাগুলি বহু জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের ভরসার জায়গা। দার্জিলিং, সুন্দরবন, উপকূলীয় এলাকা এবং অন্যান্য জনপ্রিয় গন্তব্যে এই আবাসনগুলির মানোন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বুকিং ব্যবস্থার সুবিধা, কক্ষের মান, স্থানীয় খাবার এবং পর্যটক সহায়তার মতো দিকগুলি উন্নত হলে সরকারি পর্যটন আবাসন আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।


রাজ্যের পর্যটন পরিকল্পনায় মন্দারমণির নামও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এই সমুদ্রতট ইতিমধ্যেই কলকাতা ও আশপাশের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। তবে সরকার এটিকে আন্তর্জাতিক মানের সৈকত গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। তার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত নির্মাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ জলক্রীড়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুশৃঙ্খল পর্যটক চলাচল।


এই বিনিয়োগের আরেকটি বড় দিক হল গন্তব্যগুলির মধ্যে সংযোগ বাড়ানো। একটি পর্যটন কেন্দ্রকে আলাদা করে উন্নত করলেই পর্যটন বাড়ে না। পর্যটক সাধারণত একাধিক জায়গা একই সফরে দেখতে চান। তাই পাহাড়, নদী, শহর, মন্দির, দ্বীপ ও সমুদ্রকে যুক্ত করে সার্কিট তৈরি করা গেলে থাকার সময় এবং ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে।


আই-লেভেল দৃশ্যে মন্দারমণির সমুদ্রতটে ঢেউ এসে বালিতে ভাঙছে।
মন্দারমণিকে আন্তর্জাতিক মানের সৈকত গন্তব্য করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গঙ্গাকেন্দ্রিক নদী পর্যটন হতে পারে আলাদা পরিচয়


নদী পর্যটন এই পরিকল্পনার সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অংশগুলির একটি। সরকার গঙ্গায় আনন্দভ্রমণের জন্য ১১টি জলযান সংগ্রহের প্রস্তাব করেছে বলে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে দিনভর ও রাত্রিবাস-সহ পর্যটন সার্কিট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।


কলকাতার ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গঙ্গা অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। নদীকে ঘিরে রয়েছে ঘাট, মন্দির, পুরনো বসতি, ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, শিল্পাঞ্চল এবং ধর্মীয় কেন্দ্র। এই নদীপথকে যদি সুশৃঙ্খল পর্যটন অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়া যায়, তবে কলকাতা শুধু শহরভ্রমণের জায়গা থাকবে না। তা নদীভিত্তিক পর্যটনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।


গঙ্গা বরাবর সম্ভাব্য পর্যটন আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে:


  • বেলুড় মঠ

  • দক্ষিণেশ্বর মন্দির

  • চন্দননগর

  • কলকাতার পুরনো ঘাট এলাকা

  • গঙ্গাসাগরের সঙ্গে জলপথ সংযোগ

  • সুন্দরবনের দিকে নদীপথ অভিজ্ঞতা


গঙ্গার ওপর দিনের ক্রুজ, সন্ধ্যার নদীভ্রমণ, ঐতিহ্যভিত্তিক জলপথ ট্যুর এবং রাত কাটানোর ক্রুজ, এই সব ধরনের প্যাকেজের সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটক যদি নদীপথে কলকাতা ও আশপাশের ঐতিহাসিক স্থান দেখতে পারেন, তবে তা সাধারণ সড়কভ্রমণের থেকে আলাদা অভিজ্ঞতা দেবে।


পরিকল্পনায় কলকাতার জন্য ওয়াটার-মেট্রো প্রকল্পের কথাও রয়েছে। এটি শুধু পর্যটন নয়, শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। নদী যদি যাতায়াত ও পর্যটন, দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য হয়, তবে শহরের নদীতীর নতুন গুরুত্ব পাবে।


পশ্চিমবঙ্গের জলপথের বিস্তারই তাকে অন্য অনেক রাজ্যের থেকে আলাদা করে। সেই জলপথকে পর্যটকবান্ধব করে তুলতে পারলে রাজ্যের পর্যটন পণ্যে একটি স্বতন্ত্র চরিত্র যোগ হতে পারে।

তবে নদী পর্যটনের সাফল্য নির্ভর করবে কয়েকটি বাস্তব বিষয়ের ওপর। নিরাপত্তা মান, জেটি অবকাঠামো, জলযানের রক্ষণাবেক্ষণ, আবহাওয়াজনিত সতর্কতা, টিকিটিং ব্যবস্থা এবং নদীতীরের পরিচ্ছন্নতা, সবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জলযান কেনা যথেষ্ট নয়। নদীপথকে একটি নির্ভরযোগ্য পর্যটন ব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে।


বার্ডস-আই ভিউতে গঙ্গার ওপর একটি পর্যটন নৌকা কলকাতার ঘাটের পাশ দিয়ে যাচ্ছে।
নদী পর্যটন রাজ্যের নতুন পর্যটন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পাহাড় থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত একাধিক সার্কিটের ভাবনা


পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনকে একক গন্তব্যভিত্তিক না রেখে সার্কিটভিত্তিক করার ভাবনা নতুন নয়, কিন্তু নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা এটিকে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিতে পারে। পর্যটকরা সাধারণত সময়, যাতায়াত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সফর সাজান। সেই দিক থেকে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের আলাদা শক্তি রয়েছে।


দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ি পর্যটনের পরিচিত কেন্দ্র। চা-বাগান, পাহাড়ি শহর, মেঘলা আবহাওয়া এবং হিমালয়ের দৃশ্য বহু দশক ধরে পর্যটকদের টেনে এনেছে। সেখানে অতিথিশালা ও পর্যটক সুবিধা উন্নত হলে উচ্চ মরসুমের চাপ সামলানো সহজ হতে পারে।


সুন্দরবন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি হিসেবে। এখানে পর্যটনের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত নির্মাণ বা অনিয়ন্ত্রিত নৌযান চলাচল পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। তাই সুন্দরবনে উন্নয়ন হলে সেটি কম প্রভাবের, স্থানীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক এবং প্রকৃতি সংবেদনশীল হওয়া দরকার।


উপকূলীয় বঙ্গে দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরের মতো গন্তব্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলিকে যদি পরিষ্কার সৈকত, সুশৃঙ্খল হোটেল এলাকা, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় খাবারের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবে সপ্তাহান্তের পর্যটনের বাইরে দীর্ঘ সফরের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে।


ধর্মীয় ও ঐতিহ্য পর্যটনের ক্ষেত্রেও রাজ্যের শক্তি কম নয়। দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ, গঙ্গাসাগর, তারাপীঠ, নবদ্বীপ-মায়াপুর, চন্দননগর ও মুর্শিদাবাদের মতো এলাকা ভ্রমণ, ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা এবং সংস্কৃতির আলাদা মিশ্রণ তৈরি করে। এগুলিকে ভালো তথ্যব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, পথনির্দেশ এবং সহজ যাতায়াতের মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় করা যায়।


সংস্কৃতিকে সামনে রাখার রাজনৈতিক ও পর্যটন তাৎপর্য


নতুন প্রচারে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কেন্দ্রে রাখার কথাও বলা হয়েছে। পর্যটন দপ্তরের কর্মীদের নির্দিষ্ট ১২টি উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাক পরার পরিকল্পনা সেই ভাবনারই অংশ। এর মধ্যে পয়লা বৈশাখের মতো দিন রয়েছে।


এই পদক্ষেপের লক্ষ্য কেবল পোশাকে পরিবর্তন আনা নয়। সরকারি পর্যটন পরিষেবার সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির দৃশ্যমান সংযোগ তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। পর্যটকরা যখন কোনও রাজ্যে যান, তারা শুধু স্থান দেখেন না। তারা ভাষা, খাবার, পোশাক, উৎসব, আচার, সঙ্গীত এবং গল্পের সঙ্গেও পরিচিত হন।


বাংলার ক্ষেত্রে এই সাংস্কৃতিক পুঁজি বিস্তৃত। দুর্গাপুজো এখন বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেয়েছে। বাংলা নববর্ষ, রবীন্দ্রসংস্কৃতি, লোকসঙ্গীত, টেরাকোটা মন্দির, বালুচরি, শোলা শিল্প, মিষ্টি, নদী ও সাহিত্য, সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্যাকেজ তৈরি করা যায়।


তবে সংস্কৃতিকে পর্যটনের ভাষায় ব্যবহার করার সময় সতর্কতা দরকার। সংস্কৃতি যেন শুধু সাজসজ্জার উপাদান না হয়ে যায়। স্থানীয় শিল্পী, কারিগর, হোমস্টে, গাইড, রান্না এবং উৎসবের সঙ্গে বাস্তব অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি করলে তবেই তার সুফল ছড়াবে।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে বাংলার মাটির ঘোড়া ও হাতে তৈরি কারুশিল্প একটি স্থানীয় হাটে রাখা আছে।
স্থানীয় সংস্কৃতি ও কারুশিল্পকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

সুযোগ বড়, কিন্তু বাস্তব পরীক্ষা আরও বড়


পরিকল্পনা বড় হলেও তার বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা। পশ্চিমবঙ্গে পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পর্যটকের অভিজ্ঞতা অনেক সময় অসমান থাকে। কোথাও ভালো আবাসন আছে কিন্তু সংযোগ দুর্বল, কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে কিন্তু শৌচালয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়।


নতুন বিনিয়োগ কার্যকর করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে ধারাবাহিক নজর দরকার।


পরিষেবা মান


পর্যটক একটি গন্তব্য সম্পর্কে মত গড়েন ছোট ছোট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। বুকিং সহজ কি না, পৌঁছনোর পথ পরিষ্কার কি না, স্থানীয় পরিবহণ নির্ভরযোগ্য কি না, খাবার ও পানীয় নিরাপদ কি না, এসবই গুরুত্বপূর্ণ।


পরিবেশ সংরক্ষণ


সুন্দরবন, পাহাড় ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটন বাড়লে পরিবেশের ওপর চাপ পড়বে। পরিকল্পিত নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক না হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হবে।


স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ


পর্যটনের অর্থনীতি স্থানীয় মানুষের কাছে না পৌঁছলে উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থাকবে। গাইড, নৌচালক, হোমস্টে মালিক, কারিগর, ক্ষুদ্র রেস্তরাঁ, স্থানীয় পরিবহণকর্মী, সবাইকে এই ব্যবস্থার অংশ করতে হবে।


নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রবাহ


নদী পর্যটন, সমুদ্র পর্যটন এবং অরণ্যভ্রমণে নিরাপত্তা প্রোটোকল অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বহু ভাষায় তথ্য, অনলাইন বুকিং এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তা কেন্দ্র পর্যটকদের আস্থা বাড়াতে পারে।


রাজ্যের নতুন ব্র্যান্ডিং কতটা কাজে দেবে


“West Bengal — Where India Feels Different” স্লোগানটি রাজ্যকে ভারতের ভেতরে এক আলাদা অভিজ্ঞতার জায়গা হিসেবে তুলে ধরতে চায়। এই ভাবনা পর্যটনের জন্য কার্যকর হতে পারে, কারণ পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় সত্যিই বহুমাত্রিক। এখানে পাহাড়ি সকাল, কলকাতার পুরনো ঘাট, নদীর ক্রুজ, সুন্দরবনের নৌভ্রমণ, সমুদ্রের ছুটি এবং উৎসবের নাগরিক অভিজ্ঞতা, সব একসঙ্গে পাওয়া যায়।


তবে ব্র্যান্ডিং তখনই সফল হয়, যখন তা বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে। যদি পর্যটক প্রচারে দেখা ছবির সঙ্গে মাটির অভিজ্ঞতার মিল পান, তাহলে রাজ্যের ভাবমূর্তি শক্তিশালী হবে। যদি না পান, তবে প্রচার উল্টো প্রশ্ন তুলবে।


এই কারণে বিজ্ঞাপন বিতর্কের চেয়েও বড় বিষয় হল বাস্তব পর্যটন ব্যবস্থার মান। সৃজনশীল প্রচার আলোচনার জন্ম দিতে পারে, কিন্তু পর্যটন বৃদ্ধি ঘটায় যোগাযোগ, পরিষেবা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।


পশ্চিমবঙ্গের হাতে সেই উপাদান রয়েছে। এখন প্রয়োজন সেগুলিকে যুক্ত করা, উন্নত করা এবং ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা। ₹৫০০-কোটি বিনিয়োগ সেই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। নদী, পাহাড়, অরণ্য, সমুদ্র ও সংস্কৃতিকে যদি একই পরিকল্পনার ভেতরে আনা যায়, তবে বিজ্ঞাপন বিতর্কের বাইরে গিয়ে রাজ্য সত্যিই নতুন পর্যটন পরিচয় গড়তে পারে।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page