top of page

বিক্রির চাপে ভারতীয় শেয়ার বাজার টানা ২৫ বছরের সাপ্তাহিক লোকসানের ধারায় পড়েছে

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
15 hours ago
6 min read

ভারতের শেয়ারবাজারে চাপ আরও গভীর হয়েছে। বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ এবং সেনসেক্স টানা আট সপ্তাহ ধরে পতনের মুখে রয়েছে, যা প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সাপ্তাহিক পতনের ধারা হিসেবে বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


সপ্তাহের শেষে নিফটি ৫০ কমেছে ৩.১ শতাংশ, আর বিএসই সেনসেক্স নেমেছে ২.৭ শতাংশ। গত আট সপ্তাহের হিসাবে নিফটির পতন প্রায় ৮.৭ শতাংশ এবং সেনসেক্সের পতন প্রায় ৮.৪ শতাংশ। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রি, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার উপরে থাকা, মার্কিন বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি এবং রুপির দুর্বলতা বাজারের উপর চাপ তৈরি করেছে।


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে রেকর্ড ২৭.৮ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসও বিনিয়োগকারীদের জন্য কঠিন ছিল। ওই মাসে নিফটি এবং সেনসেক্স দুটিই প্রায় ৬ শতাংশ করে পড়ে যায়। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ₹৪৪,০০০ কোটি টাকার ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করেছেন।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে একটি জনাকীর্ণ বাজার এলাকার বাইরে বড় স্টক টিকার বোর্ডে লাল সংখ্যার সারি দেখা যাচ্ছে।
টানা পতনে বাজারের মেজাজ দুর্বল হয়েছে।

আট সপ্তাহের পতনে কী বোঝা যাচ্ছে


নিফটি ৫০ এবং সেনসেক্স ভারতের শেয়ারবাজারের প্রধান মাপকাঠি। এই দুই সূচকের দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী থাকা সাধারণ বিনিয়োগকারী, ফান্ড ম্যানেজার এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হয়।


সাধারণ সাপ্তাহিক ওঠানামা বাজারে স্বাভাবিক। কিন্তু টানা আট সপ্তাহের পতন বিরল। এতে বোঝা যায়, বিক্রির চাপ শুধু এক বা দুই খাতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং বৈদেশিক প্রবাহ, জ্বালানি খরচ, মুদ্রা বাজার এবং বৈশ্বিক সুদের হারের মতো বড় কারণগুলি একসঙ্গে বাজারকে প্রভাবিত করছে।


এই পরিস্থিতি Indian Stock Market Hits 25 Year Weekly Losing Streak Amid Selling Pressure শিরোনামের বাজার বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। স্থানীয় আয়ের সম্ভাবনা, উৎসব মরসুমের চাহিদা এবং কর্পোরেট ফলাফলের আশা থাকলেও বৈশ্বিক চাপ এখন বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।


গত আট সপ্তাহের সারাংশ নিচে দেওয়া হল।


সূচক

সর্বশেষ সপ্তাহে পতন

আট সপ্তাহে মোট পতন

নিফটি ৫০

৩.১%

প্রায় ৮.৭%

সেনসেক্স

২.৭%

প্রায় ৮.৪%


এই পতন বাজারের মূল্যায়ন নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কয়েক মাস আগে পর্যন্ত ভারতীয় শেয়ারবাজারে প্রিমিয়াম ভ্যালুয়েশন নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ সেই উচ্চ মূল্যায়নের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন বলে বাজার মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে।


বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি সবচেয়ে বড় চাপ


ভারতীয় ইক্যুইটি বাজারে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা যখন ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রি করেন, তখন বড় সূচকগুলিতে দ্রুত চাপ পড়ে। বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক পরিষেবা, অটো, ভোক্তা পণ্য এবং মূলধনী পণ্য সংস্থার মতো বড় ওজনের শেয়ারগুলোতে বিক্রি হলে সূচকের পতন আরও স্পষ্ট হয়।


রয়টার্সের উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় ইক্যুইটি থেকে ২৭.৮ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। এটি বাজারের জন্য বড় অঙ্ক। সেপ্টেম্বরে বিক্রির গতি আরও বেশি নজরে এসেছে, যখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ₹৪৪,০০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বলে জানানো হয়েছে।


বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত কয়েকটি বিষয় দেখে বাজারে অর্থ রাখেন বা তুলে নেন।


  • মার্কিন সুদের হার ও বন্ড ইল্ড

  • ডলারের শক্তি

  • উদীয়মান বাজারের মুদ্রার স্থিতি

  • তেলের দাম

  • স্থানীয় বাজারের মূল্যায়ন

  • বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি


এগুলির মধ্যে একাধিক বিষয় একসঙ্গে প্রতিকূল হলে ভারতসহ উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বর্তমানে সেই চিত্রই দেখা যাচ্ছে।


অপরিশোধিত তেলের দাম রুপির উপর চাপ বাড়াচ্ছে


ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি ভারতের আমদানি বিল, মুদ্রাস্ফীতি এবং রুপির উপর চাপ তৈরি করে।


তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার উপরে থাকলে জ্বালানি, পরিবহণ, রাসায়নিক, পেইন্ট, বিমান এবং ভোক্তা পণ্যের খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কোম্পানিগুলো সেই বাড়তি খরচ পুরোপুরি গ্রাহকদের উপর চাপাতে না পারলে মুনাফার মার্জিন কমে যায়। শেয়ারবাজার সেই সম্ভাবনাকে আগেভাগে দামেই প্রতিফলিত করতে শুরু করে।


রুপির দুর্বলতাও একই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ায়। রুপি দুর্বল হলে আমদানি ব্যয় বাড়ে। বিশেষ করে তেল আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়। এর ফলে চলতি হিসাব ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে বন্দরের পাশে কালো তেলের ব্যারেল সারি করে রাখা আছে।
তেলের দাম ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।

ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকও উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকির দিকে নজর রাখবে বলে বাজারের প্রত্যাশা। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি থাকলে সুদের হার দ্রুত কমানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। ফলে শেয়ারবাজারে তারল্য ও মূল্যায়ন নিয়ে চাপ থাকতে পারে।


মার্কিন বন্ড ইল্ড বৃদ্ধির প্রভাব ভারতেও পড়ছে


মার্কিন বন্ড ইল্ড বাড়লে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে বেশি আকৃষ্ট হন। তখন ভারতসহ উদীয়মান বাজারের শেয়ার তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ মনে হতে পারে। এর ফলে বিদেশি অর্থপ্রবাহ কমে যায় বা উল্টো বেরিয়ে যায়।


মার্কিন ইল্ড বেশি থাকলে ডলারও শক্তিশালী হতে পারে। শক্তিশালী ডলার উদীয়মান বাজারের মুদ্রার উপর চাপ সৃষ্টি করে। রুপির দুর্বলতা সেই চাপেরই একটি অংশ।


এই কারণে ভারতীয় বাজারের বিনিয়োগকারীরা শুধু দেশীয় কর্পোরেট ফলাফল বা স্থানীয় অর্থনৈতিক তথ্য দেখছেন না। তারা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি, মার্কিন বন্ড বাজার এবং ডলারের গতি নিয়েও সতর্ক রয়েছেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির ধারা থামতে হলে অন্তত কয়েকটি ক্ষেত্রে স্থিতি দরকার। তেলের দাম কমা, রুপির স্থিতি, মার্কিন ইল্ডে চাপ কমা এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি কমা বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।


সেপ্টেম্বর মাস বিনিয়োগকারীদের জন্য কঠিন ছিল


সেপ্টেম্বর মাসে নিফটি ও সেনসেক্স উভয়ই প্রায় ৬ শতাংশ করে কমেছে। এক মাসে এমন পতন খুচরা বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা সাম্প্রতিক উচ্চ দামে বাজারে প্রবেশ করেছিলেন।


মাসজুড়ে বিদেশি বিক্রির চাপ বাজারের গতি বদলে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং মিউচুয়াল ফান্ডের প্রবাহ বাজারকে সহায়তা করলেও বিদেশি বিক্রির আকার এত বড় ছিল যে প্রধান সূচকগুলিতে চাপ কমেনি।


খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপির মাধ্যমে নিয়মিত বিনিয়োগের প্রবণতাও শক্তিশালী। কিন্তু টানা কয়েক সপ্তাহের পতন বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য পরীক্ষা করে। বাজারে দ্রুত লাভের প্রত্যাশা নিয়ে যারা এসেছিলেন, তাদের জন্য এই সময় বেশি কঠিন।


এখানে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী সাধারণত আয়, মূল্যায়ন এবং সম্পদ বণ্টনের দিকে তাকান। স্বল্পমেয়াদি ট্রেডাররা সূচকের গতি, স্টপ লস এবং বাজারের মনোভাব দেখেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের কৌশল এক নয়।


প্রায় সব খাতেই বিক্রির চাপ


সর্বশেষ সপ্তাহে প্রায় সব বড় খাতেই পতন দেখা গেছে। অটো এবং কনজিউমার ডিউরেবলস শেয়ার সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে ছিল। এই দুই খাত সরাসরি চাহিদা, সুদের হার, জ্বালানি খরচ এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।


অটো খাতের ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম, ঋণের খরচ এবং উৎসব মরসুমের বিক্রির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। খরচ বাড়লে এবং ঋণের সুদ বেশি থাকলে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যেতে পারে। একইভাবে কনজিউমার ডিউরেবলস খাতে টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন বা এয়ার কন্ডিশনারের মতো পণ্যের বিক্রি বাড়তি খরচ ও অনিশ্চয়তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


তথ্যপ্রযুক্তি খাত সামান্য লাভ করতে পেরেছে। আইটি কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশ ডলারে আয় করে। রুপি দুর্বল হলে তাদের আয় অনুবাদে সহায়ক প্রভাব পড়তে পারে। যদিও বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যয় এবং ক্লায়েন্ট বাজেট নিয়েও বাজার সতর্ক থাকে।


স্মল-ক্যাপ এবং মিড-ক্যাপ শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। এই অংশে গত কয়েক বছরে দ্রুত বৃদ্ধি হয়েছিল। মূল্যায়ন বেশি হলে বাজারের সংশোধনের সময় ছোট ও মাঝারি সংস্থার শেয়ারে পতন বেশি হতে পারে।


আই-লেভেল দৃশ্যে একটি রাস্তার সংবাদপত্র স্টলে আর্থিক পাতায় লাল মার্কার দিয়ে পতনের সংখ্যা ঘেরা আছে।
খাতভিত্তিক পতনের খবর বাজারজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

যে কয়েকটি বিষয়ের দিকে বাজার এখন তাকিয়ে


বর্তমান বাজার পরিস্থিতি শুধু এক দিনের ঘটনা নয়। কয়েকটি বড় সূচক আগামী সপ্তাহগুলিতে বাজারের দিক নির্ধারণ করতে পারে।


তেলের দাম


অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে মুদ্রাস্ফীতি ও আমদানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ চলতে পারে। তেলের দামে বড় পতন বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।


বিদেশি ফান্ড প্রবাহ


বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিক্রি কমাচ্ছেন কি না, তা বাজার নিবিড়ভাবে দেখবে। ধারাবাহিক বিক্রি থামলে সূচকে স্থিতি আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


রুপির গতি


রুপি আরও দুর্বল হলে তেলের আমদানি খরচ বাড়তে পারে। স্থিতিশীল রুপি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।


মার্কিন সুদের হার


মার্কিন বন্ড ইল্ড ও সুদের হারের প্রত্যাশা ভারতীয় বাজারের উপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলে। ইল্ড কমলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ ফিরতে পারে।


ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা


বৈশ্বিক উত্তেজনা তেলের দাম, ডলার এবং বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি গ্রহণের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে। তাই আন্তর্জাতিক খবরও ভারতীয় বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


রিজার্ভ ব্যাংকের ভূমিকা


ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক এখন মুদ্রাস্ফীতি ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকবে বলে বাজারের ধারণা। উচ্চ জ্বালানি মূল্য ভোক্তা মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। খাদ্য ও জ্বালানি খরচ বেশি থাকলে সাধারণ পরিবারের ব্যয়ও বাড়ে।


সুদের হার কমানোর প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি, বৃদ্ধি, মুদ্রা স্থিতি এবং বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে। তেলের দাম বেশি থাকলে আর রুপি দুর্বল হলে নীতিগত সিদ্ধান্ত আরও জটিল হয়।


শেয়ারবাজারের জন্য কম সুদের হার সহায়ক হতে পারে, কারণ ঋণের খরচ কমে এবং কোম্পানির মূল্যায়ন বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির পরিবেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে দ্রুত নরম নীতি নেওয়া কঠিন হতে পারে।


বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে


বাজারের টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। অনেকে নগদ অর্থের অংশ বাড়াচ্ছেন। কেউ কেউ উচ্চ মূল্যায়নের শেয়ার থেকে তুলনামূলক স্থিতিশীল ব্যবসায় সরছেন। আবার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা ভালো মানের শেয়ারে ধাপে ধাপে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন।


তবে বাজারের পতন মানেই সব শেয়ার একইভাবে দুর্বল নয়। বড় সূচকের পতনের মধ্যে কিছু সংস্থা তাদের আয়, ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার অবস্থানের কারণে তুলনামূলক ভালো টিকে থাকতে পারে। আবার দুর্বল ব্যালান্স শিট বা অতিরিক্ত মূল্যায়নের শেয়ারে বেশি চাপ পড়তে পারে।


এই সময়ে বাজার অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি বিষয় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।


  • কোম্পানির আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা

  • নগদ প্রবাহ

  • ঋণের পরিমাণ

  • কাঁচামালের খরচ

  • রপ্তানি আয় ও মুদ্রা প্রভাব

  • মূল্যায়ন কতটা যুক্তিসঙ্গত


খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক খাতে বেশি বিনিয়োগ, স্বল্পমেয়াদি ধার নিয়ে ট্রেডিং বা দ্রুত লাভের আশায় ছোট শেয়ারে অতিরিক্ত ঝুঁকি এই সময়ে ক্ষতির মাত্রা বাড়াতে পারে।


টপ-ডাউন দৃশ্যে ভারতীয় রুপি নোটের পাশে একটি জ্বালানি পাম্পের নোজল রাখা আছে।
রুপি এবং জ্বালানি খরচ এখন বাজারের কেন্দ্রে।

সামনে কী হতে পারে


বাজারে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একাধিক ইতিবাচক সংকেত দরকার হতে পারে। তেলের দাম কমলে, বিদেশি বিক্রির চাপ কমলে এবং রুপি স্থিতিশীল হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরতে পারে। পাশাপাশি কর্পোরেট ফলাফল যদি প্রত্যাশার তুলনায় ভালো হয়, তাহলে নির্দিষ্ট খাত ও শেয়ারে ক্রয় আগ্রহ দেখা যেতে পারে।


কিন্তু ঝুঁকিও রয়ে গেছে। তেলের দাম আরও বাড়লে, মার্কিন বন্ড ইল্ড উচ্চ থাকলে বা বৈশ্বিক উত্তেজনা বাড়লে বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ অংশে মূল্যায়ন নিয়ে সতর্কতা আরও বাড়তে পারে।


বড় প্রশ্ন এখন একটাই, বিদেশি বিক্রি কি কমবে, নাকি আরও কিছুদিন চলবে। ভারতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির গল্প এখনও বাজারের পক্ষে একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থপ্রবাহ এবং জ্বালানি খরচই সূচকের গতি বেশি নির্ধারণ করছে।


এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক সংবাদ বিশ্লেষণ। এটি কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। বাজারে বিনিয়োগের আগে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, সময়সীমা এবং আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।


টানা আট সপ্তাহের পতন ভারতীয় বাজারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। এখন বাজারের নজর তেলের দাম, রুপি, বিদেশি ফান্ড প্রবাহ, মার্কিন সুদের হার এবং রিজার্ভ ব্যাংকের অবস্থানের উপর। এই সূচকগুলিতেই আগামী দিনের দিকনির্দেশ লুকিয়ে আছে।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page