top of page

পশ্চিমবঙ্গ দুর্গা পূজা অষ্টমী শুষ্ক দিবস ঘোষণা করেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Sep 7
6 min read

দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন পশ্চিমবঙ্গে মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ঘোষণায় বলা হয়েছে, আসন্ন পুজোয় অষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে সব মদের দোকান বন্ধ থাকবে। একই দিনে বার ও রেস্তোরাঁতেও মদ পরিবেশন করা যাবে না।


সরকারি নির্দেশ কার্যকর হলে এ বছর দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে দুই দিন ড্রাই ডে থাকবে। আগে সাধারণত ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত মদের দোকান খোলা থাকত, আর দশমী বা দশেরার দিনে দোকান বন্ধ থাকত। নতুন নির্দেশে অষ্টমীও সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে।


এই বছর অষ্টমী পড়েছে সোমবার, ১৯ অক্টোবর। ফলে ওই দিন পুজোমণ্ডপ, বাজার, রেস্তোরাঁ ও শহরের রাতের ভিড়ের মাঝেও মদ বিক্রি ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।


Wide-angle view of a Durga Puja pandal entrance in West Bengal with evening lights and visitors walking calmly
অষ্টমীর দিন পুজোর ভিড়ের সঙ্গে এবার ড্রাই ডে-র নিয়মও জুড়ছে।

অষ্টমীর দিন কী বন্ধ থাকবে


ঘোষণা অনুযায়ী, অষ্টমীর দিন কয়েকটি পরিষ্কার বিধিনিষেধ থাকবে।


  • রাজ্যের সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে

  • বার এবং রেস্তোরাঁয় মদ পরিবেশন করা যাবে না

  • হোটেল, ক্লাব বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত আতিথেয়তা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি তারা মদ পরিবেশনের লাইসেন্সের আওতায় পড়ে

  • দশমীর ড্রাই ডে আগের মতোই থাকবে


এর অর্থ, পুজোর ব্যস্ত সময়ে অষ্টমী এবং দশমী, এই দুই দিন মদ কেনা বা প্রকাশ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানে তা পরিবেশন করা যাবে না।


দুর্গাপুজোর সময় রাজ্যে সাধারণত মানুষের চলাচল, কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া এবং রাতজাগা বেড়ে যায়। কলকাতা থেকে জেলা শহর, মফস্‌সল থেকে গ্রাম, পুজোর কয়েক দিন স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ে। এই অবস্থায় অষ্টমীর দিন ড্রাই ডে ঘোষণা প্রশাসনিকভাবে একটি বড় সিদ্ধান্ত।


সরকারি পদক্ষেপটির তাৎপর্য এখানেই যে, অষ্টমী দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। বহু মানুষ এই দিন অঞ্জলি দিতে যান, পরিবার নিয়ে প্যান্ডেল ঘোরেন এবং সন্ধ্যার পর এলাকায় এলাকায় ভিড় আরও বাড়ে। তাই মদ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে জনশৃঙ্খলা ও উৎসবের পরিবেশ রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে।


আগে নিয়ম কী ছিল


পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর সময় মদের দোকান খোলা বা বন্ধ থাকার নিয়ম সাধারণ মানুষের কাছে নতুন বিষয় নয়। তবে পুজোর সব দিন একই নিয়ম থাকে না।


ব্রিফ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আগে ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত মদের দোকান খোলা থাকত। দশমী বা দশেরার দিন মদের দোকান বন্ধ থাকত। সেই হিসেবে পুজোর প্রধান চার দিনের মধ্যে শুধু দশমী ছিল নিশ্চিত ড্রাই ডে।


নতুন নির্দেশের ফলে ছবিটা বদলাচ্ছে। অষ্টমীও ড্রাই ডে হওয়ায় পুজোর সময় মদ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিন নিষিদ্ধের তালিকায় থাকবে।


পুজোর দিন

আগের অবস্থা

নতুন অবস্থার মূল পরিবর্তন

ষষ্ঠী

মদের দোকান খোলা থাকত

পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি

সপ্তমী

মদের দোকান খোলা থাকত

পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি

অষ্টমী

মদের দোকান খোলা থাকত

এবার ড্রাই ডে ঘোষণা

নবমী

মদের দোকান খোলা থাকত

পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি

দশমী

ড্রাই ডে

আগের মতোই বন্ধ


এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে অষ্টমীর দিন সন্ধ্যা ও রাতের ব্যবসায়। পুজোর সময় বহু রেস্তোরাঁ ও বার অতিরিক্ত ভিড় পায়। অষ্টমীর মতো দিনে মদ পরিবেশন বন্ধ থাকলে তাদের পরিষেবা পরিকল্পনা বদলাতে হবে।


বার, রেস্তোরাঁ ও দোকানের জন্য এর মানে কী


অষ্টমীর ড্রাই ডে ঘোষণা শুধু মদের দোকানের জন্য নয়। বার ও রেস্তোরাঁর ওপরও সরাসরি প্রভাব পড়বে। কারণ ঘোষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ওই দিন বার এবং রেস্তোরাঁয় মদ পরিবেশন করা যাবে না।


রেস্তোরাঁগুলি খাবার পরিবেশন করতে পারবে, কিন্তু মদ্যপ পানীয়ের পরিষেবা বন্ধ রাখতে হবে। ফলে তাদের মেনু, স্টক ব্যবস্থাপনা এবং কর্মীদের শিফট পরিকল্পনায় পরিবর্তন দরকার হতে পারে।


মদের দোকানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সরাসরি। অষ্টমীর দিন দোকান বন্ধ রাখতে হবে। দোকান মালিকদের আগে থেকেই গ্রাহকদের জানানো, স্টক সংরক্ষণ এবং লাইসেন্স শর্ত মেনে চলা জরুরি হবে।


এই ধরনের ড্রাই ডে-তে সাধারণত প্রশাসন নজরদারি বাড়ায়। বিশেষ করে উৎসবের সময়, যখন রাস্তায় মানুষের ভিড় থাকে এবং একাধিক এলাকা রাত অবধি সক্রিয় থাকে। নিয়ম ভাঙলে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হতে পারে।


West Bengal Durga Puja Ashtami Dry Day Announced by Suvendu Adhikari सरकार শিরোনামের এই ঘোষণা তাই পুজোর ব্যবসা, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের উৎসব পরিকল্পনা, তিন দিকেই প্রভাব ফেলতে পারে।


Close-up view of a locked liquor shop shutter on a festival street in West Bengal
অষ্টমীতে রাজ্যজুড়ে মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন অষ্টমীকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে


অষ্টমী দুর্গাপুজোর এক বিশেষ দিন। এই দিন সকালে অঞ্জলি, দুপুরে পারিবারিক খাওয়াদাওয়া, সন্ধ্যায় প্যান্ডেল ভ্রমণ এবং রাতের ভিড়, সব মিলিয়ে উৎসবের চাপ অনেক বেশি থাকে। অনেক জায়গায় স্থানীয় মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।


এই কারণে অষ্টমীর দিন প্রশাসনিক নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগম সামলানো বড় কাজ হয়ে দাঁড়ায়। মদ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সরকার সম্ভবত এই বৃহত্তর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখছে।


ড্রাই ডে সাধারণত তিনটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


প্রথমত, জনশৃঙ্খলা। বড় উৎসবে ভিড় বেশি থাকে। মদ্যপ অবস্থায় অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, রাস্তার ঝামেলা বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।


দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ। অষ্টমী পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অনেক পরিবার এই দিনটিকে বিশেষভাবে পবিত্র মনে করে। তাই মদ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সামাজিকভাবে সহজে ব্যাখ্যা করা যায়।


তৃতীয়ত, পুলিশ ও প্রশাসনের চাপ। দুর্গাপুজোয় রাস্তা, প্যান্ডেল, ট্রাফিক, ভিড় এবং নিরাপত্তা একসঙ্গে সামলাতে হয়। ড্রাই ডে থাকলে অন্তত মদ্যপান সংক্রান্ত কিছু ঝুঁকি কমানোর সুযোগ প্রশাসন পেতে পারে।


তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তে ব্যবসায়িক প্রভাবও থাকে। বার, রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং মদের দোকান পুজোর দিনগুলোতে বেশি বিক্রি আশা করে। অষ্টমীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে বিক্রি বন্ধ থাকলে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়ম কার্যকর করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আগাম স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


পুজো কমিটিগুলিকে ₹১ লক্ষ অনুদান


ড্রাই ডে ঘোষণার পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় ক্লাব বা পাড়ার যে পুজো কমিটিগুলি দুর্গাপুজোর আয়োজন করে, তাদের সরকার ₹১ লক্ষ করে দেবে।


এই সিদ্ধান্তে আগের সরকারের ধারাবাহিকতার ইঙ্গিতও আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা আলোচনায় আসে। শুভেন্দু অধিকারীও সেই পথে চলার কথা জানিয়েছেন।


তবে তিনি বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির কাছে একটি আবেদন করেছেন। যাদের পুজোর অর্থের প্রয়োজন নেই, তারা যেন সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন না করে। এতে ছোট ও মাঝারি পুজো কমিটিগুলি বেশি সুবিধা পেতে পারে।


₹১ লক্ষ অনুদান স্থানীয় পুজো আয়োজকদের জন্য বড় সহায়তা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুজো কমিটি চাঁদা, স্থানীয় দান এবং ছোট স্পনসরশিপের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য এই অর্থ কয়েকটি কাজে লাগতে পারে।


  • প্যান্ডেল নির্মাণ

  • আলো এবং বিদ্যুতের খরচ

  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা

  • প্রতিমা ও পূজার সামগ্রী

  • সাফাই এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  • স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের খরচ


পুজোর বাজেট বছর বছর বাড়ছে। বাঁশ, কাপড়, আলো, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি, সাউন্ড সিস্টেম, নিরাপত্তা, সব ক্ষেত্রেই খরচ থাকে। অনেক পাড়ার পুজো কমিটির কাছে ₹১ লক্ষ অনুদান সেই চাপ কিছুটা কমাতে পারে।


Eye-level view of a small neighbourhood Durga Puja committee arranging lights and decorations near a pandal
ছোট পুজো কমিটিগুলির জন্য ₹১ লক্ষ অনুদান সহায়ক হতে পারে।

বড় বাজেটের পুজোগুলির কাছে আবেদন কেন তাৎপর্যপূর্ণ


বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলি সাধারণত বেশি স্পনসরশিপ পায়। তাদের নিজস্ব তহবিল, প্রকাশ্য প্রচার, থিম প্যান্ডেল এবং দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। এই ধরনের পুজোগুলির জন্য সরকারি অনুদান প্রয়োজনীয় না-ও হতে পারে।


শুভেন্দু অধিকারীর আবেদন সেই কারণে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক, দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বড় পুজো কমিটিগুলিকে বলেছেন, প্রয়োজন না থাকলে তারা যেন অনুদানের জন্য আবেদন না করে।


এই আবেদন কার্যকর হলে সীমিত সরকারি অর্থ তুলনায় ছোট পুজোগুলির কাছে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে গ্রামের পুজো, মফস্‌সলের পাড়ার পুজো বা শহরের পুরনো কিন্তু ছোট পুজো কমিটিগুলি বেশি উপকৃত হতে পারে।


তবে আবেদন আর বাধ্যতামূলক নিয়ম এক জিনিস নয়। বড় পুজোগুলি বাস্তবে আবেদন না করলে তবেই এই পরিকল্পনার সামাজিক প্রভাব দেখা যাবে। তাই অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, আবেদন পদ্ধতি এবং যোগ্যতার মানদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


সরকার যদি স্পষ্ট করে জানায় কারা আবেদন করতে পারবে, কী নথি লাগবে, কীভাবে টাকা দেওয়া হবে এবং খরচের হিসাব কীভাবে দেখাতে হবে, তাহলে বিতর্ক কমতে পারে। পুজো কমিটিগুলিরও দায়িত্ব থাকবে অনুদানের টাকা উৎসবের প্রয়োজনীয় কাজেই ব্যবহার করা।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও নজরে থাকবে


এই ঘোষণার রাজনৈতিক দিক অস্বীকার করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসর। পুজো কমিটির সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতি, ক্লাব সংস্কৃতি এবং নাগরিক জীবনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে।


সরকারি অনুদানকে অনেকেই পুজো আয়োজনে সহায়তা হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, সরকারি অর্থ ধর্মীয় উৎসবে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত। অতীতে এই ধরনের অনুদান নিয়ে জনপরিসরে বিতর্ক হয়েছে।


শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণায় একদিকে ড্রাই ডে-র প্রশাসনিক বার্তা আছে, অন্যদিকে পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তার রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তাও আছে। ফলে পুজোর আগে এই সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে আলোচনা বাড়বে।


ড্রাই ডে নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও একরকম হবে না। কেউ এটিকে অষ্টমীর মর্যাদা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখবেন। কেউ ব্যবসার ক্ষতির কথা তুলবেন। কেউ আবার বলবেন, শুধু এক দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আচরণ বদলায় না, দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণও প্রয়োজন।


এই সকল মতের মাঝেও সরকারি নির্দেশ একবার কার্যকর হলে তা মানা বাধ্যতামূলক। তাই সাধারণ মানুষ, দোকানদার, বার মালিক, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এবং পুজো কমিটিগুলির জন্য আগাম প্রস্তুতিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।


সাধারণ মানুষের কী জানা দরকার


অষ্টমীর দিন বাইরে বেরোলে বা পরিবার নিয়ে পুজো দেখতে গেলে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা ভালো।


অষ্টমী সোমবার, ১৯ অক্টোবর। ওই দিন মদের দোকান বন্ধ থাকবে এবং বার-রেস্তোরাঁয় মদ পরিবেশন করা হবে না।


খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ, প্যান্ডেল, বাজার এবং বিনোদনের জায়গা খোলা থাকতে পারে, কিন্তু মদ পরিবেশনের নিয়ম আলাদা থাকবে। ফলে রেস্তোরাঁয় বুকিং করলে আগে থেকেই পরিষেবার বিষয়টি জেনে নেওয়া ভালো।


দশমীর দিনও ড্রাই ডে থাকবে। তাই পুজোর মধ্যে অষ্টমী এবং দশমী, এই দুই দিন মদ বিক্রি ও পরিবেশন বন্ধ থাকবে বলে ধরে পরিকল্পনা করা উচিত।


পুজো কমিটির ক্ষেত্রে সরকারি অনুদানের আবেদন পদ্ধতি, সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ দেখাই সবচেয়ে নিরাপদ। শুধু ঘোষণার ওপর নির্ভর না করে সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশ অনুসরণ করা উচিত।


High-angle view of a busy but orderly Durga Puja street with families walking past illuminated pandals
পুজোর ভিড় সামলাতে প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি।

সামনে কী দেখা উচিত


এই ঘোষণার পর নজর থাকবে সরকারি বিজ্ঞপ্তির ভাষা, প্রয়োগের নিয়ম এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ওপর। অষ্টমীর ড্রাই ডে ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, কোন কোন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান এর আওতায় পড়বে এবং নজরদারি কীভাবে হবে, তা প্রশাসনিক নির্দেশে আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার।


পুজো কমিটিগুলির ₹১ লক্ষ অনুদানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আবেদন কীভাবে হবে, বড় বাজেটের পুজোগুলি আবেদন না করলে সেই অর্থ অন্য কমিটিতে যাবে কি না, এবং খরচের হিসাব নেওয়া হবে কি না, তা জানা জরুরি।


দুর্গাপুজো পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় জনউৎসবগুলির একটি। তাই যে কোনও নতুন নিয়মের ফল শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা দোকানদার, রেস্তোরাঁ, পুজো কমিটি, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে।


অষ্টমীর ড্রাই ডে ঘোষণার মূল বার্তা পরিষ্কার। পুজোর আনন্দ চলবে, কিন্তু অষ্টমীর দিন মদ বিক্রি ও পরিবেশন বন্ধ থাকবে। আর পুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদান থাকবে, যদিও সামর্থ্যবান বড় বাজেটের কমিটিগুলিকে সেই সহায়তা না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।


এই দুই সিদ্ধান্ত, একদিকে নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে সহায়তা। পুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় তাই অষ্টমীর ড্রাই ডে এবং ₹১ লক্ষ অনুদান, দুটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page