top of page

তীব্র সমালোচনার মুখে বিতর্কিত আরটিআই (RTI) ছাড়ের নির্দেশ প্রত্যাহার করল তামিলনাড়ু

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
5 days ago
6 min read

চেন্নাই: জনরোষ, বিরোধী দলগুলির চাপ এবং স্বচ্ছতা কর্মীদের তীব্র আপত্তির মুখে তামিলনাড়ু সরকার বিতর্কিত একটি Government Order (G.O.) প্রত্যাহার করেছে। ওই আদেশে Public (Law and Order) Department-কে Right to Information Act, 2005 বা RTI আইনের আওতার বাইরে রাখার পথ তৈরি করা হয়েছিল।


২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি হওয়া আদেশে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বিভাগকে RTI আইনের Section 24 অনুযায়ী “intelligence and security organisation” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর ফলে, ওই বিভাগের বহু নথি ও তথ্য সাধারণ নাগরিকের RTI আবেদনের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারত।


সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন ওঠে, আইনশৃঙ্খলা, পুলিশি পদক্ষেপ, সংঘর্ষ, হেফাজতে মৃত্যু বা প্রতিবাদ দমনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারি জবাবদিহি কমে যাবে কি না। চাপ বাড়তেই সরকার আদেশটি প্রত্যাহার করে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের ক্ষেত্রে RTI অ্যাক্সেস পুনরায় কার্যকর থাকে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে চেন্নাইয়ের একটি সরকারি ভবনের বাইরে সাধারণ মানুষের চলাচল দেখা যাচ্ছে।
বিতর্কিত আদেশ ঘিরে নজর পড়ে তামিলনাড়ু সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়।

কী ছিল বিতর্কিত আদেশ


২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের Government Order অনুযায়ী, Public (Law and Order) Department-কে RTI আইনের Section 24-এর অধীনে একটি “intelligence and security organisation” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল।


Section 24 সাধারণত এমন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে RTI আইনের সাধারণ প্রযোজ্যতা থেকে ছাড় দেয়, যেগুলি গোয়েন্দা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই ধারার লক্ষ্য সংবেদনশীল নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রে বিতর্কের মূল প্রশ্ন ছিল, গোটা আইনশৃঙ্খলা বিভাগকে এইভাবে RTI ছাড়ের আওতায় আনা কি যুক্তিযুক্ত।


সমালোচকদের বক্তব্য ছিল, আইনশৃঙ্খলা বিভাগ শুধু নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা তথ্যের ভাণ্ডার নয়। এই বিভাগ পুলিশ প্রশাসন, জনসমাবেশ, প্রতিবাদ, আটক, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, জাতিভিত্তিক সংঘর্ষ এবং অন্যান্য জনস্বার্থসংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাই পুরো বিভাগকে RTI-র বাইরে রাখলে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের তথ্যও অস্বচ্ছতার আড়ালে চলে যেতে পারে।


সরকার আদেশটি প্রত্যাহার করায় আগের অবস্থানই পুনরুদ্ধার হয়েছে। অর্থাৎ, নাগরিকরা আইন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক তথ্য চেয়ে RTI আবেদন করতে পারবেন। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ব্যতিক্রম থাকলেও, গোটা বিভাগকে blanket exemption বা সামগ্রিক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত আর কার্যকর থাকছে না।


কোন কোন তথ্য নাগালের বাইরে চলে যেতে পারত


বিতর্কিত আদেশ কার্যকর থাকলে আইনশৃঙ্খলা বিভাগের বহু নথি RTI আবেদনের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে যে ধরনের তথ্য সাধারণত জনস্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, সেগুলি নিয়েই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি ছিল।


সমালোচকদের মতে, নিম্নলিখিত তথ্যগুলি নাগরিক নজরদারি থেকে দূরে সরে যেতে পারত:


সম্ভাব্য তথ্যের ধরন

কেন তা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ

সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ সংক্রান্ত তথ্য

প্রশাসন কীভাবে উত্তেজনা মোকাবিলা করল, তা বোঝা যায়

জাতিভিত্তিক সংঘর্ষের নথি

প্রান্তিক গোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন জড়িত

পুলিশ ফায়ারিং সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট

বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল কি না, তা যাচাই করা যায়

হেফাজতে মৃত্যুর বিবরণ

পুলিশি জবাবদিহি এবং মানবাধিকার সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত

ছাত্র বা কৃষক আন্দোলন মোকাবিলার নথি

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ও প্রশাসনিক আচরণ বোঝা যায়

National Security Act-এর অধীনে আটক সংক্রান্ত তথ্য

ব্যক্তিস্বাধীনতা, আটক প্রক্রিয়া এবং আইনি নজরদারির প্রশ্ন ওঠে


এই ধরনের তথ্য শুধু প্রশাসনিক কাগজপত্র নয়। এগুলি সরকার, পুলিশ এবং নাগরিক অধিকারের সম্পর্ক বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনও এলাকায় সংঘর্ষ হলে প্রশাসন কত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়েছে কি না, ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ কীভাবে দেখা হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর অনেক সময় সরকারি নথিতেই থাকে।


RTI আইন সেই নথির ওপর নাগরিকের সীমিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশাধিকার তৈরি করে। ফলে আদেশটি কার্যকর থাকলে শুধু সাংবাদিক বা কর্মীরাই নয়, সাধারণ নাগরিক, ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারত।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে RTI আবেদনপত্র এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ফাইলের কাগজপত্র দেখা যাচ্ছে।
RTI আবেদন অনেক ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত বোঝার প্রধান নাগরিক হাতিয়ার।

কেন এত তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়


আদেশ প্রকাশের পর স্বচ্ছতা কর্মী, নাগরিক অধিকার সংগঠন, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং RTI ব্যবহারকারীদের একাংশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরিসর সংকুচিত করবে এবং পুলিশি কার্যকলাপের ওপর জননজর কমিয়ে দেবে।


RTI আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা আনা এবং নাগরিককে তথ্যের অধিকার দেওয়া। সরকারি অর্থে চলা প্রতিষ্ঠান, নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং জনজীবনে প্রভাব ফেলা সরকারি কার্যকলাপ সম্পর্কে নাগরিকের জানার অধিকারকে এই আইন স্বীকৃতি দেয়।


এই প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বিরোধীরা “জবাবদিহির পরিসর কমানো” হিসেবে দেখেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, পুলিশি ক্ষমতা যত বেশি, জননজরও তত বেশি জরুরি। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে নেওয়া সিদ্ধান্ত নাগরিক স্বাধীনতা, প্রতিবাদের অধিকার এবং সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।


এই বিতর্ক জাতীয় স্তরেও নজর কাড়ে। নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনায় ঘটনাটি Tamil Nadu RTI Row নামে পরিচিতি পায়। বিশেষ করে প্রশ্ন ওঠে, যদি কোনও রাজ্য গোটা আইনশৃঙ্খলা বিভাগকে নিরাপত্তা সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে RTI-এর বাইরে রাখে, তা হলে অন্য রাজ্যেও একই ধারা অনুসরণের ঝুঁকি তৈরি হবে কি না।


সমালোচকরা আরেকটি দিক তুলে ধরেন। RTI আইনে ইতিমধ্যেই এমন কিছু ধারা রয়েছে, যার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা, তদন্তের স্বার্থ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি থাকলে নির্দিষ্ট তথ্য না দেওয়ার সুযোগ আছে। অর্থাৎ, সংবেদনশীল তথ্য রক্ষার ব্যবস্থা আইনের মধ্যে রয়েছে। সেই অবস্থায় পুরো বিভাগকে ছাড় দেওয়া প্রয়োজনীয় কি না, সেটাই বিতর্কের কেন্দ্রে আসে।


Section 24 নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু


RTI আইনের Section 24 গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের কথা বলে। সাধারণভাবে এই ধারার আওতায় থাকা সংস্থাগুলির কাছ থেকে RTI-র মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায় না। তবে দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইন কিছু সীমিত পথ রেখে দিয়েছে।


তামিলনাড়ুর আদেশকে ঘিরে আপত্তি ছিল এই জায়গাতেই। আইনশৃঙ্খলা বিভাগ কি মূলত গোয়েন্দা বা নিরাপত্তা সংস্থা, নাকি এটি একটি প্রশাসনিক বিভাগ যার কাজের বড় অংশই জনজীবন ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত, এই প্রশ্ন সামনে আসে।


আইনশৃঙ্খলা বিভাগ সাধারণত পুলিশের নীতি, জননিরাপত্তা, শান্তি বজায় রাখা, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নানা দিক সামলায়। এর মধ্যে কিছু অংশ সংবেদনশীল হতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, সংবেদনশীল অংশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আইনে পৃথক ব্যবস্থা আছে। তাই পুরো বিভাগকে RTI ছাড় দেওয়া স্বচ্ছতা নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


বিরোধীরা দাবি করেন, এই ধরনের blanket exemption ভবিষ্যতে হেফাজতে নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমন বা সংঘর্ষ মোকাবিলায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার তথ্য চাপা রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারত। সরকার শেষ পর্যন্ত আদেশ প্রত্যাহার করায় এই আশঙ্কা আপাতত কমেছে।


আই-লেভেল দৃশ্যে সরকারি নোটিস বোর্ডের সামনে কয়েকজন নাগরিক কাগজপত্র পড়ছেন।
জনচাপ ও নাগরিক আপত্তি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে বড় ভূমিকা নেয়।

সরকার কী করল এবং তার তাৎপর্য কী


বিতর্ক বাড়ার পর তামিলনাড়ু সরকার আদেশটি প্রত্যাহার করে। এর ফলে Public (Law and Order) Department-কে RTI আইনের Section 24-এর অধীনে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে না।


সরকারি প্রত্যাহারের তাৎপর্য কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ।


একদিকে, এটি স্বচ্ছতা আইন নিয়ে জনমতের গুরুত্ব দেখিয়েছে। RTI শুধু একটি প্রশাসনিক পদ্ধতি নয়, এটি নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির সঙ্গে যুক্ত। কোনও সিদ্ধান্ত সেই অধিকার সীমিত করলে নাগরিক সমাজ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, এই ঘটনা তা আবার সামনে এনেছে।


অন্যদিকে, বিষয়টি রাজ্য সরকারের জন্যও একটি বার্তা। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকলে তা মোকাবিলার আইনসম্মত পদ্ধতি আছে। কিন্তু স্বচ্ছতার মূল কাঠামোকে দুর্বল করার মতো পদক্ষেপ বড় রাজনৈতিক ও জনপরিসরের বিতর্ক তৈরি করতে পারে।


এই প্রত্যাহার RTI ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তির। বিশেষ করে যাঁরা পুলিশি পদক্ষেপ, আটক, সংঘর্ষ বা মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য চান, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়াটি আগের মতোই খোলা থাকছে। অবশ্যই RTI আইনের অন্যান্য ব্যতিক্রম ও সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য থাকবে। কিন্তু পুরো বিভাগকে একসঙ্গে ছাড় দেওয়ার দরজা আপাতত বন্ধ হয়েছে।


বিরোধী দল ও কর্মীদের অবস্থান


বিরোধী দলগুলি এই আদেশকে শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে তোলে। তাদের বক্তব্য ছিল, সরকার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যের আড়ালে পুলিশি জবাবদিহি সীমিত করতে চাইছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিবাদ, কৃষক আন্দোলন, ছাত্র বিক্ষোভ বা সামাজিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তের নথি নাগরিকের কাছে পৌঁছানো জরুরি বলে তারা দাবি করে।


স্বচ্ছতা কর্মীদের অবস্থানও প্রায় একই ছিল। তাঁদের মতে, RTI আইনের শক্তি হলো সাধারণ মানুষকে সরকারি নথির সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া। একজন নাগরিক, সাংবাদিক, গবেষক বা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য প্রশাসনের কাছে তথ্য চাইতে পারেন। এই প্রক্রিয়া অসংখ্য ক্ষেত্রে ভুল, বিলম্ব, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রকাশ করেছে।


এই কারণেই আইনশৃঙ্খলা বিভাগের ওপর RTI ছাড় আরোপের চেষ্টা বেশি উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ এই ক্ষেত্রটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত। কোথায় ১৪৪ ধারা জারি হলো, কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ গুলি চালাল, কোন ভিত্তিতে কাউকে আটক করা হলো, এই সব তথ্য নাগরিক স্বাধীনতার মূল প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।


প্রত্যাহারের পরও যে প্রশ্নগুলি রয়ে গেল


আদেশ প্রত্যাহার হলেও বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বরং কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে, যা আগামী দিনে RTI এবং নিরাপত্তা প্রশাসন নিয়ে আলোচনায় প্রাসঙ্গিক থাকবে।


প্রথম প্রশ্ন, সরকার কীভাবে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার মধ্যে ভারসাম্য রাখবে। সব তথ্য প্রকাশযোগ্য নয়, এটি আইনও স্বীকার করে। কিন্তু কোন তথ্য সত্যিই সংবেদনশীল, আর কোন তথ্য জনস্বার্থে প্রকাশযোগ্য, তার সিদ্ধান্ত যেন অতিরিক্ত বিস্তৃত না হয়।


দ্বিতীয় প্রশ্ন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আদেশ জারির আগে কি বৃহত্তর পরামর্শ দরকার। স্বচ্ছতা আইন, মানবাধিকার এবং পুলিশি জবাবদিহির সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধান্তে নাগরিক সমাজ, আইন বিশেষজ্ঞ এবং তথ্য কমিশনের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


তৃতীয় প্রশ্ন, RTI ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে রাজ্য সরকারগুলি কতটা প্রস্তুত। শুধু আইন থাকা যথেষ্ট নয়। সময়মতো উত্তর, স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানের কারণ, আপিল ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং তথ্য সংরক্ষণের সুশৃঙ্খল পদ্ধতিও প্রয়োজন।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে জনআর্কাইভের তাকভরা ফাইল ও রেকর্ড দেখা যাচ্ছে।
সরকারি নথিতে নাগরিকের প্রবেশাধিকারই RTI ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় শক্তি।

সামনে কী হতে পারে


আদেশ প্রত্যাহারের ফলে তাৎক্ষণিক সংকট কাটলেও সরকার এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে নজরদারি চলবে। আগামী দিনে আইনশৃঙ্খলা বিভাগের RTI আবেদনে কীভাবে উত্তর দেওয়া হয়, কোন ক্ষেত্রে তথ্য অস্বীকার করা হয় এবং সেই অস্বীকার কতটা আইনসম্মত, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


তথ্য কমিশন, আদালত এবং নাগরিক সমাজ এ ধরনের বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি কোনও আবেদনকারী তথ্য না পান, তিনি RTI আইনের অধীনে আপিল করতে পারেন। সেই প্রক্রিয়া তথ্যের অধিকারকে বাস্তবে কার্যকর রাখার অন্যতম উপায়।


তামিলনাড়ুর এই ঘটনা একটি বৃহত্তর বার্তা দিয়েছে। নিরাপত্তা প্রশাসন যতই সংবেদনশীল হোক, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেটি সম্পূর্ণভাবে জননজরবিহীন থাকতে পারে না। বিশেষ করে যেখানে নাগরিকের অধিকার, পুলিশের ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত একসঙ্গে জড়িত, সেখানে স্বচ্ছতার দাবি আরও শক্তিশালী হয়।


সরকারের আদেশ প্রত্যাহার তাই শুধু একটি প্রশাসনিক পিছু হটা নয়। এটি RTI আইনের গুরুত্ব, জনচাপের প্রভাব এবং সরকারি জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে আনল। তামিলনাড়ুর সিদ্ধান্ত এখন অন্য রাজ্যের জন্যও একটি সতর্ক সংকেত, নিরাপত্তার যুক্তি ব্যবহার করা গেলেও স্বচ্ছতার ভিত্তি দুর্বল করলে তা সহজে মেনে নেওয়া হবে না।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page