top of page

গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাঝে ব্রিকস সম্মেলনে মোদীর নৈশভোজ এড়িয়ে গেলেন শি জিনপিং।

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Sep 13
5 min read

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই নজর কাড়ল এক অপ্রত্যাশিত অনুপস্থিতি। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনে যোগ দিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করলেন, কিন্তু সন্ধ্যায় মোদীর আয়োজিত গালা ডিনারে উপস্থিত থাকলেন না।


ডিনারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সহ অন্য নেতারা উপস্থিত থাকায় শি-র অনুপস্থিতি আরও বেশি চোখে পড়ে। সরকারি ভাবে তাঁর না যাওয়ার কোনও কারণ জানানো হয়নি। সূত্রের ইঙ্গিত, তিনি সম্ভবত বিশ্রামের জন্য হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন। তবু দিনভর কূটনৈতিক আলোচনার পর এই অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে আলোকিত সম্মেলনকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন দেশের পতাকা দেখা যাচ্ছে।
নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে প্রথম দিন থেকেই কূটনৈতিক নজর ছিল তুঙ্গে।

গালা ডিনারে শি-র অনুপস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল


শি জিনপিংয়ের ডিনারে না যাওয়ার ঘটনাটি আলাদা করে গুরুত্ব পেয়েছে মূলত সময়ের কারণে। একই দিনে তিনি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।


দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে সীমান্ত উত্তেজনা, বাণিজ্যিক চাপ এবং কৌশলগত সন্দেহের কারণে জটিল হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোদী ও শি-র বৈঠককে ঘিরে আগ্রহ ছিল বেশি। বৈঠকের পরে সন্ধ্যার ডিনারে শি উপস্থিত থাকলে তা স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা যেত। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতি সেই ধারায় একটি আলাদা প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে।


তবে এখন পর্যন্ত কোনও সরকারি বক্তব্যে এই অনুপস্থিতিকে কূটনৈতিক বার্তা বা প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি। ভারতীয় বা চিনা পক্ষের তরফে এমন কোনও ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি যে শি-র ডিনারে না যাওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনও নতুন টানাপোড়েনের লক্ষণ।


এই কারণেই ঘটনাটিকে আপাতত একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যতক্ষণ না সরকারি কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসে।


মোদী-শি বৈঠকে সম্পর্ক উন্নতির বার্তা


দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত ছিল মোদী ও শি-র দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্ক উন্নত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। আলোচনার মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে।


প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ওপর জোর দেন। এই তিনটি বিষয় ভারত বহুদিন ধরেই চিনের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে আসছে।


সীমান্ত প্রশ্ন ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি ঘিরে উত্তেজনা কমানো এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, দুই দেশের ভবিষ্যৎ যোগাযোগের জন্য জরুরি। বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা যায়।


বাণিজ্যও আলোচনার বড় অংশ। ভারত ও চিনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিস্তৃত হলেও ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। বাজারে প্রবেশাধিকার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা দুই দেশের সম্পর্কের বাস্তব দিককে সামনে আনে।


এই বৈঠক থেকেই বোঝা যায়, দুই দেশ প্রকাশ্যে সংঘাতের ভাষা এড়িয়ে সংলাপের পথ খোলা রাখতে চাইছে। ব্রিকসের মতো মঞ্চ সেই যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে।


চোখের সমতল দৃশ্যে একটি শান্ত করিডরে সাজানো ভারতীয় শিল্পকর্ম ও ফুলের বিন্যাস দেখা যাচ্ছে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্যেও কূটনীতি নিজের ভাষা খুঁজে নেয়।

ডিনার ছিল ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতির অংশ


প্রধানমন্ত্রী মোদীর আয়োজিত গালা ডিনার ছিল শুধু আনুষ্ঠানিক ভোজ নয়। এটি ছিল ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতিরও অংশ। অতিথিদের সামনে ভারতীয় খাবার, শিল্প, সংগীত এবং ঐতিহ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল।


আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এমন ডিনার সাধারণত একটি নরম কূটনৈতিক পরিসর তৈরি করে। কঠিন আলোচনার বাইরে নেতারা সেখানে অনানুষ্ঠানিক ভাবে যোগাযোগ করেন। অনেক সময় আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বাইরে এই ধরনের পরিবেশে সম্পর্কের উষ্ণতা বা দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


এই কারণেই শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি নজরে আসে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্য নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফলে ডিনারের ছবিতে বা উপস্থিতির তালিকায় চিনা প্রেসিডেন্টের না থাকা কূটনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।


তবে সূত্রের দাবি অনুযায়ী, শি সম্ভবত বিশ্রামের জন্য হোটেলে ফিরে যান। দীর্ঘ বৈঠক, সফরসূচির চাপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কোনও নেতার নির্দিষ্ট কোনও অনুষ্ঠানে না যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ভারত-চিন সম্পর্কের সংবেদনশীলতার কারণে এই ঘটনা দ্রুত রাজনৈতিক তাৎপর্য পায়।


ব্রিকস সম্মেলনের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট


দুই দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশের নেতা এবং ১০টি অংশীদার দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ফলে এটি শুধু কয়েকটি দেশের বৈঠক ছিল না, বরং গ্লোবাল সাউথের নানা উদ্বেগ নিয়ে একটি বড় মঞ্চ হয়ে ওঠে।


আলোচনার প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে ছিল বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা, বাণিজ্য, শুল্কনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির ওপর চাপ তৈরি করা নানা অর্থনৈতিক সমস্যা।


ব্রিকস সাম্প্রতিক সময়ে নিজেকে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক কাঠামোর বিকল্প আলোচনামঞ্চ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। সদস্যসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গোষ্ঠীর ভেতরে মতের বৈচিত্র্যও বেড়েছে। ভারত, চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নতুন সদস্যদের রাজনৈতিক স্বার্থ সব সময় এক নয়। তবু বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা বাড়ছে।


ভারতের জন্য এই সম্মেলন ছিল একাধিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।


  • ব্রিকসের ভেতরে ভারতের অবস্থান শক্ত করা

  • গ্লোবাল সাউথের প্রশ্নে নেতৃত্বের দাবি তুলে ধরা

  • চিনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়া

  • রাশিয়া এবং অন্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা

  • বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন পথ খোঁজা


এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে শি-র ডিনারে অনুপস্থিতি আলোচিত হলেও, সম্মেলনের মূল রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে ভারতীয় থালায় পরিবেশিত নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার দেখা যাচ্ছে।
গালা ডিনার ছিল ভারতীয় খাবার ও ঐতিহ্য তুলে ধরার একটি আয়োজন।

ভারত-চিন সম্পর্কে সতর্ক আশাবাদ


মোদী ও শি-র বৈঠক থেকে কোনও বড় ঘোষণা আসেনি। তবু বৈঠক হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ কমে গেলে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়ে। সীমান্তের মতো সংবেদনশীল এলাকায় সেই ঝুঁকি আরও বেশি।


ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্ট। সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা না থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক গতিতে এগোতে পারে না। চিনও আঞ্চলিক প্রভাব, বাণিজ্য এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে ভারতের ভূমিকা উপেক্ষা করতে পারে না।


এই বাস্তবতার কারণেই দুই দেশ প্রতিযোগিতা এবং সংলাপ, দুটিই চালিয়ে যায়। তারা একদিকে সীমান্তে সতর্ক থাকে, অন্যদিকে ব্রিকস, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাশাপাশি বসে।


শি-র ডিনারে অনুপস্থিতি এই জটিল সম্পর্কের একটি ছোট কিন্তু দৃশ্যমান ঘটনা। এটি নিজে থেকেই সম্পর্কের অবনতি প্রমাণ করে না। বরং দিনের আগে হওয়া বৈঠক দেখায়, দুই দেশ এখনও কথোপকথনের পথ ব্যবহার করছে।


কূটনৈতিক সংকেত না কি সাধারণ সফরসূচির বিষয়


কূটনীতিতে উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, বসার ক্রম, যৌথ ছবি, এমনকি করমর্দনের মুহূর্তও কখনও কখনও বার্তা বহন করে। এই কারণেই শি জিনপিংয়ের গালা ডিনারে না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু প্রতিটি অনুপস্থিতির রাজনৈতিক অর্থ থাকে না।


এখানে কয়েকটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার।


প্রথমত, শি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি বৈঠক এড়িয়ে যাননি। মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও হয়েছে।


দ্বিতীয়ত, কোনও পক্ষ প্রকাশ্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়নি। সরকারি ব্যাখ্যার অনুপস্থিতি জল্পনা বাড়ালেও তা নিজে থেকেই কূটনৈতিক অপমানের প্রমাণ নয়।


তৃতীয়ত, সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী বিশ্রামের কারণটি সম্ভব। আন্তর্জাতিক সফরে নেতাদের সময়সূচি অত্যন্ত ঘন থাকে। নিরাপত্তা, প্রোটোকল এবং স্বাস্থ্যগত চাপও থাকে।


চতুর্থত, ব্রিকস সম্মেলনের মূল আলোচনায় চিন অংশ নিয়েছে। ফলে বহুপাক্ষিক স্তরে চিনের অংশগ্রহণ অটুট ছিল।


এই সব কারণে পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, ঘটনাটিকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যার দিকে না নিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তবু ভারত-চিন সম্পর্কের ইতিহাসের কারণে এমন ঘটনা সহজে নজর এড়ায় না।


গ্লোবাল সাউথের আলোচনায় ভারতের ভূমিকা


নয়াদিল্লির সম্মেলনে গ্লোবাল সাউথের বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলি ঋণ, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি মূল্য, জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি প্রবেশাধিকারের মতো চাপের মুখে আছে। ভারত এই প্রশ্নগুলিতে নিজেকে এক বাস্তববাদী কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরতে চায়।


ব্রিকস মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য দ্বিমুখী। একদিকে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের দাবি সামনে আনা। এই ভারসাম্য ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।


চিনও গ্লোবাল সাউথের ভাষা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়াতে চায়। ফলে ব্রিকসের ভেতরে ভারত ও চিনের মধ্যে সহযোগিতা যেমন আছে, তেমন প্রতিযোগিতাও আছে। একই মঞ্চে দুই দেশের উপস্থিতি তাই শুধু সৌজন্যের বিষয় নয়, প্রভাবের লড়াইয়েরও অংশ।


বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি নিয়ে আলোচনায় এই প্রতিযোগিতার ছাপ দেখা যায়। কোনও দেশই অন্যের জন্য পুরো জায়গা ছাড়তে চায় না। তবু জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এবং উন্নয়ন অর্থায়নের মতো বিষয় দুই দেশকে একই টেবিলে রাখে।


উপর থেকে দেখা দৃশ্যে সম্মেলনস্থলের বাইরে সারিবদ্ধ প্রদীপ ও ফুলের সাজ দেখা যাচ্ছে।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়েও নজর ছিল আনুষ্ঠানিকতার বাইরে থাকা কূটনৈতিক বার্তায়।

এখন নজর থাকবে সরকারি ব্যাখ্যার দিকে


এখন পর্যন্ত শি জিনপিংয়ের ডিনারে অনুপস্থিতি নিয়ে কোনও নিশ্চিত সরকারি ব্যাখ্যা নেই। তাই ঘটনাটিকে কূটনৈতিক অস্বস্তির স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। একই দিনে তাঁর সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং মোদীর সঙ্গে বৈঠক বরং দেখায়, চিন ব্রিকসের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।


তবু এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিল, ভারত-চিন সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল। সীমান্ত, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে ছোট প্রোটোকল ঘটনাও বড় আলোচনার জন্ম দেয়।


পরবর্তী পর্যায়ে নজর থাকবে দুই দিকের সরকারি বিবৃতি, সীমান্ত আলোচনার অগ্রগতি এবং ব্রিকসের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর। যদি কোনও নতুন ব্যাখ্যা না আসে, তবে শি-র গালা ডিনারে অনুপস্থিতি সম্ভবত সফরসূচি বা বিশ্রামজনিত একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই থেকে যাবে।


তবে এই দিনের মূল বার্তা অন্য জায়গায়। নয়াদিল্লিতে মোদী ও শি কথা বলেছেন। তারা মতভেদ মুছে ফেলেননি, কিন্তু সংলাপ চালু রেখেছেন। ভারত-চিন সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সংকেত।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page