top of page

কলকাতা অনূর্ধ্ব-১৩ জাতীয় র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে পশ্চিমবঙ্গের শাটলারদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
Sep 11
6 min read

কলকাতার কোর্টে এই মুহূর্তে শুধু ম্যাচ জেতা বা হারার গল্প নয়, গড়ে উঠছে ভবিষ্যতের ব্যাডমিন্টন যাত্রার প্রথম বড় অধ্যায়। অল ইন্ডিয়া সাব-জুনিয়র, অনূর্ধ্ব-১৩ র‍্যাঙ্কিং ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে পশ্চিমবঙ্গের তরুণ শাটলাররা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে নিজেদের মেপে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সেই তালিকায় বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ধ্রুব সিংহ এবং শুভ মিতা কর্মকারের অংশগ্রহণ।


এই বয়সের খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়। এটি চাপ সামলানোর শিক্ষা, নতুন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৌশল বুঝে ওঠার পরীক্ষা, এবং বড় মঞ্চে নিজের খেলাকে চিনে নেওয়ার সুযোগ। কলকাতার এই প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব সেই কারণেই রাজ্যের জুনিয়র ব্যাডমিন্টনের জন্য বড় খবর।


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে কলকাতার ইনডোর ব্যাডমিন্টন কোর্টে অনূর্ধ্ব-১৩ খেলোয়াড়রা ওয়ার্ম আপ করছে।
জাতীয় মঞ্চে নামার আগে প্রস্তুতির মুহূর্ত।

কলকাতায় জাতীয় র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ


অল ইন্ডিয়া সাব-জুনিয়র, অনূর্ধ্ব-১৩ র‍্যাঙ্কিং ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট জাতীয় জুনিয়র ব্যাডমিন্টন ক্যালেন্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের র‍্যাঙ্কিং, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।


কলকাতা এই টুর্নামেন্টের আয়োজক শহর হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ঘরের পরিবেশে জাতীয় মানের প্রতিযোগিতা খেলার সুবিধা থাকে, আবার চাপও থাকে বেশি। পরিচিত শহরে খেললেও প্রতিপক্ষ আসে ভিন্ন রাজ্য, ভিন্ন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং ভিন্ন খেলার ছন্দ নিয়ে।


এই টুর্নামেন্টে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, পাঞ্জাব এবং অসমের মতো রাজ্য থেকে খেলোয়াড়রা অংশ নিয়েছে। এই বৈচিত্র্যই প্রতিযোগিতাটিকে মূল্যবান করে তোলে।


একই বয়সের খেলোয়াড় হলেও প্রতিটি রাজ্যের ব্যাডমিন্টন সংস্কৃতি আলাদা। কেউ বেশি আক্রমণাত্মক র‍্যালি পছন্দ করে, কেউ লম্বা র‍্যালিতে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করতে চায়, কেউ আবার নেট প্লে এবং দ্রুত রিফ্লেক্সে এগিয়ে থাকে। অনূর্ধ্ব-১৩ স্তরে এই সব ধরনের খেলার সঙ্গে পরিচয় হওয়া ভবিষ্যতের জন্য বড় শিক্ষা।


West Bengal Shuttlers Shine at Kolkata U13 National Ranking Tournament কথাটি তাই শুধুমাত্র ফলাফলের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় মঞ্চে উপস্থিতি, এই তিনটি বিষয়ই এখানে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


ধ্রুব সিংহের জাতীয় মঞ্চে সুযোগ


টুর্নামেন্টের সরকারি এন্ট্রি রেকর্ড অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ধ্রুব সিংহ অনূর্ধ্ব-১৩ বয়েজ সিঙ্গলস কোয়ালিফাইং ফিল্ডে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই পর্যায়ে জায়গা পাওয়া নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ জাতীয় র‍্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচে চাপ থাকে এবং প্রতিটি পয়েন্ট খেলোয়াড়কে নতুন অভিজ্ঞতা দেয়।


সিঙ্গলসে একজন তরুণ শাটলারকে নিজের কোর্ট কভারেজ, স্ট্যামিনা, শট সিলেকশন এবং মানসিক স্থিরতার ওপর নির্ভর করতে হয়। কোচ সাইডলাইনে থাকলেও র‍্যালির সময় সিদ্ধান্ত নিতে হয় খেলোয়াড়কেই। কখন স্ম্যাশ করতে হবে, কখন ড্রপ খেলতে হবে, কখন লিফট দিয়ে সময় নিতে হবে, এই বোধ তৈরি হয় ম্যাচের মধ্যে।


ধ্রুব শুধু সিঙ্গলসেই নয়, বয়েজ ডাবলস কোয়ালিফাইং প্রতিযোগিতাতেও নাম নথিভুক্ত করেন। সেখানে তাঁর সঙ্গী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গেরই ধৈর্য সিংহ। ডাবলসে খেলার অভিজ্ঞতা সিঙ্গলসের থেকে আলাদা। এখানে কোর্টের জায়গা ভাগ করে নেওয়া, দ্রুত যোগাযোগ, সার্ভিস রিটার্নের পরিকল্পনা এবং পার্টনারের সঙ্গে বোঝাপড়া বড় ভূমিকা নেয়।


তরুণ বয়সে সিঙ্গলস ও ডাবলস দুই বিভাগেই অংশ নেওয়া খেলোয়াড়ের সামগ্রিক উন্নতিতে সাহায্য করে। সিঙ্গলসে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। ডাবলসে দলগত চিন্তা এবং দ্রুত সমন্বয় শেখা যায়। ধ্রুবের জন্য এই টুর্নামেন্ট তাই শুধু একটি এন্ট্রি নয়, বরং জাতীয় প্রতিযোগিতার পরিবেশ বোঝার মূল্যবান সুযোগ।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে এক তরুণ শাটলার সার্ভ করার আগে র‍্যাকেট ও শাটল ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
সার্ভের আগের কয়েক সেকেন্ডেই তৈরি হয় মনোযোগ।

শুভ মিতা কর্মকারের অংশগ্রহণ জুনিয়র ব্যাডমিন্টনের জন্য ইতিবাচক সংকেত


পশ্চিমবঙ্গের আরেক তরুণ প্রতিভা শুভ মিতা কর্মকার অনূর্ধ্ব-১৩ গার্লস সিঙ্গলস কোয়ালিফাইং ফিল্ডে তালিকাভুক্ত ছিলেন। মেয়েদের জুনিয়র ব্যাডমিন্টনে জাতীয় স্তরে অংশগ্রহণ রাজ্যের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আরও অনেক তরুণ খেলোয়াড়কে প্রতিযোগিতামূলক পথে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দেয়।


শুভ মিতা গার্লস ডাবলস প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেন। তাঁর ডাবলস সঙ্গী ছিলেন শরণ্যা গুপ্তা। অনূর্ধ্ব-১৩ স্তরে ডাবলস খেলা শুধু ম্যাচ প্র্যাকটিস নয়। এটি প্রতিক্রিয়ার গতি, কোর্টে অবস্থান, একে অন্যের সঙ্গে চোখের ইশারায় বোঝাপড়া এবং চাপের সময়ে শান্ত থাকার অনুশীলন।


মেয়েদের বিভাগে জাতীয় প্রতিযোগিতা বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে, কারণ অনেক খেলোয়াড় খুব অল্প বয়স থেকেই নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ফিটনেস রুটিন এবং টুর্নামেন্ট সার্কিটের অংশ হয়ে ওঠে। এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শুভ মিতার মতো খেলোয়াড়রা নিজেদের খেলার গতিপথ আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে।


কোন শটে পয়েন্ট আসছে, কোন জায়গায় র‍্যালি ভেঙে যাচ্ছে, কোন ধরনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমস্যা হচ্ছে, এই তথ্যগুলি কোচ ও খেলোয়াড়ের জন্য মূল্যবান। জাতীয় মঞ্চে হারের মধ্যেও শিক্ষা থাকে, আর প্রতিটি জেতা পয়েন্ট আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।


পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র ব্যাডমিন্টন কাঠামোর জন্য শুভ মিতার অংশগ্রহণ তাই এক ইতিবাচক সংকেত। রাজ্যে মেয়েদের ব্যাডমিন্টনে আগ্রহ এবং প্রতিযোগিতামূলক মান বাড়ছে, এমন ইঙ্গিত এই অংশগ্রহণ থেকে পাওয়া যায়।


জাতীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার আসল শিক্ষা


অনূর্ধ্ব-১৩ বয়সে খেলোয়াড়রা এখনও তৈরি হওয়ার পথে। এই সময় শুধুমাত্র ফলাফলের দিকে তাকালে পুরো ছবিটি দেখা যায় না। জাতীয় র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সবচেয়ে বড় লাভ হলো বিভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ।


একজন খেলোয়াড় নিজের রাজ্যে বারবার পরিচিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে পারে। তাতে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়, কিন্তু এক সীমার পর খেলার ধরন অনুমেয় হয়ে যায়। জাতীয় প্রতিযোগিতায় সেই আরাম ভেঙে যায়।


এখানে এমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয় যারা হয়তো বেশি দ্রুত, বেশি উচ্চতায় শট নেয়, নেটের কাছে বেশি আক্রমণাত্মক, বা লম্বা র‍্যালিতে বেশি ধৈর্যশীল। এই পরিস্থিতি তরুণ শাটলারকে দ্রুত ভাবতে বাধ্য করে।


জাতীয় স্তরের ম্যাচে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে:


  • ম্যাচের গতি

    স্থানীয় প্রতিযোগিতার তুলনায় র‍্যালির গতি অনেক সময় বেশি হয়। শাটল দ্রুত ফেরত আসে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমে যায়।


  • মানসিক চাপ

    র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচের মূল্য থাকে। একটি ভুল সার্ভ, একটি নেট টাচ, বা একটি বাইরে যাওয়া স্ম্যাশ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।


  • কোর্ট কভারেজ

    শক্তিশালী প্রতিপক্ষ কোর্টের চার কোণে খেলতে বাধ্য করে। এতে ফুটওয়ার্কের দুর্বলতা দ্রুত ধরা পড়ে।


  • পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা

    এক পয়েন্ট হারার পর পরের পয়েন্টে ফিরে আসা, এই অভ্যাস ছোট বয়সেই তৈরি করা জরুরি।


  • কৌশল বদলানোর দক্ষতা

    একই পরিকল্পনা কাজ না করলে দ্রুত নতুন পরিকল্পনা নিতে হয়। অনূর্ধ্ব-১৩ স্তরে এটিই বড় শিক্ষা।


এই অভিজ্ঞতা ধ্রুব সিংহ, শুভ মিতা কর্মকার এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিতে কাজে লাগতে পারে।


আই-লেভেল দৃশ্যে দুই তরুণ ডাবলস খেলোয়াড় নেটের কাছে র‍্যালির জন্য প্রস্তুত।
ডাবলসে বোঝাপড়া এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বড় ভূমিকা নেয়।

পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র ব্যাডমিন্টনের জন্য এর মানে কী


পশ্চিমবঙ্গে ব্যাডমিন্টন দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়, কিন্তু জাতীয় স্তরে ধারাবাহিক সাফল্য পেতে হলে বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত উপস্থিতি জরুরি। অনূর্ধ্ব-১৩ স্তর সেই পথের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলির একটি।


এই বয়সে খেলোয়াড়দের শুধু টেকনিক শেখানো যথেষ্ট নয়। তাদের প্রতিযোগিতার পরিবেশে অভ্যস্ত করতে হয়। সকালবেলার ম্যাচ, অপেক্ষার চাপ, ওয়ার্ম আপের সময়, স্কোরলাইন দেখে মানসিক ওঠানামা, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া, এই সবই একজন পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড় তৈরির অংশ।


ধ্রুব সিংহ এবং শুভ মিতা কর্মকারের অংশগ্রহণ দেখায়, পশ্চিমবঙ্গের তরুণ খেলোয়াড়রা জাতীয় সার্কিটে নিজেদের জায়গা খুঁজতে শুরু করেছে। তাদের সঙ্গে আরও অনেকে যখন এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, তখন রাজ্যের সামগ্রিক মান বাড়বে।


এখানে কোচ, অভিভাবক এবং স্থানীয় একাডেমিগুলির ভূমিকা বড়। ছোট বয়সে সঠিক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত ম্যাচ প্র্যাকটিস, ফিটনেসের ভিত্তি এবং চাপ সামলানোর শিক্ষা দিতে পারলে বেশি খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে উঠতে পারে।


রাজ্যের জন্য আরও একটি লাভ হলো, কলকাতায় জাতীয় প্রতিযোগিতা হলে স্থানীয় খেলোয়াড়রা কাছ থেকে উচ্চমানের ম্যাচ দেখতে পারে। যারা এখনও অংশ নিচ্ছে না, তারাও বুঝতে পারে জাতীয় স্তরে গতি, শৃঙ্খলা এবং প্রস্তুতির মান কেমন হওয়া দরকার।


কোয়ালিফাইং ড্রয়ের গুরুত্ব কম নয়


অনেক সময় মূল ড্রয়ের ম্যাচ নিয়ে বেশি আলোচনা হয়, আর কোয়ালিফাইং ড্রয়ের গুরুত্ব আড়ালে পড়ে যায়। বাস্তবে, অনূর্ধ্ব-১৩ স্তরে কোয়ালিফাইং রাউন্ডই অনেক খেলোয়াড়ের জন্য জাতীয় প্রতিযোগিতার প্রথম কঠিন পরীক্ষা।


কোয়ালিফাইং ফিল্ডে নামা মানে খেলোয়াড়কে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ দেওয়া। এখানে প্রতিপক্ষের মান অনিশ্চিত হতে পারে। কেউ প্রথমবার জাতীয় মঞ্চে এসেছে, কেউ ইতিমধ্যে কয়েকটি টুর্নামেন্ট খেলেছে। এই মিশ্র পরিবেশে প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত ধরা পড়ে।


ধ্রুব সিংহের বয়েজ সিঙ্গলস কোয়ালিফাইং এন্ট্রি এবং শুভ মিতা কর্মকারের গার্লস সিঙ্গলস কোয়ালিফাইং এন্ট্রি সেই কারণে গুরুত্বপূর্ণ। তারা এমন জায়গায় নামছেন যেখানে প্রতিটি ম্যাচ ভবিষ্যতের জন্য তথ্য দেয়।


ডাবলস কোয়ালিফাইং প্রতিযোগিতাও একইভাবে মূল্যবান। ধ্রুব সিংহ ও ধৈর্য সিংহের জুটি, এবং শুভ মিতা কর্মকার ও শরণ্যা গুপ্তার জুটি, দুটিই পশ্চিমবঙ্গের তরুণ ডাবলস সম্ভাবনাকে সামনে আনে।


ডাবলসে ছোট বয়স থেকেই ভালো অভ্যাস দরকার। সার্ভিসের পর কোথায় দাঁড়াতে হবে, পার্টনারের শটের পর কে সামনে যাবে, কে পিছনে থাকবে, মাঝের শাটল কে নেবে, এসব ছোট সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। জাতীয় প্রতিযোগিতা এই সিদ্ধান্তগুলিকে বাস্তব চাপের মধ্যে পরীক্ষা করে।


অংশগ্রহণ থেকে পারফরম্যান্সে যাওয়ার পথ


অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই শেষ লক্ষ্য নয়। জাতীয় মঞ্চে নিয়মিত উন্নতির জন্য খেলোয়াড়দের প্রতিটি টুর্নামেন্ট থেকে শিক্ষা নিয়ে ফিরে আসতে হয়।


একটি ম্যাচের পর কয়েকটি প্রশ্ন জরুরি হয়ে ওঠে।


কোন শটে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়েছে?

প্রতিপক্ষের কোন পরিকল্পনা সমস্যায় ফেলেছে?

দীর্ঘ র‍্যালিতে শরীর কতটা সাড়া দিয়েছে?

চাপের সময়ে সার্ভিসের মান একই ছিল কি?

স্কোর পিছিয়ে থাকলে খেলার ধরণ বদলেছে কি?


এই প্রশ্নের উত্তরই পরের অনুশীলন পরিকল্পনা তৈরি করে। অনূর্ধ্ব-১৩ খেলোয়াড়দের জন্য কোচের বিশ্লেষণ, ভিডিও রিভিউ যেখানে সম্ভব, এবং ম্যাচের পর সরল আলোচনা খুব উপকারী হতে পারে।


অভিভাবকদের ভূমিকাও এখানে সংবেদনশীল। ছোট বয়সে ফলাফলের চাপ বেশি দিলে খেলোয়াড়ের আনন্দ কমে যেতে পারে। আবার শুধু অংশগ্রহণে সন্তুষ্ট থাকলেও উন্নতির গতি থেমে যেতে পারে। সঠিক ভারসাম্য দরকার, যেখানে প্রচেষ্টা, শেখা এবং ধৈর্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।


পশ্চিমবঙ্গের তরুণ শাটলাররা যদি নিয়মিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, তবে রাজ্যের ব্যাডমিন্টন পরিকাঠামোও আরও লক্ষ্যভিত্তিক হতে পারে। কোন বয়সে কত ম্যাচ দরকার, কোন দক্ষতায় বেশি কাজ করতে হবে, ফিটনেসের কোন স্তর প্রয়োজন, এসব পরিষ্কার হয় বাস্তব প্রতিযোগিতা থেকেই।


লো-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে ইনডোর কোর্টের পাশে রাখা ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট ও শাটলকক দেখা যাচ্ছে।
প্রতিটি ম্যাচের পেছনে থাকে নিয়মিত অনুশীলনের ভিত্তি।

কলকাতার টুর্নামেন্ট ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিচ্ছে


কলকাতায় অনুষ্ঠিত এই অনূর্ধ্ব-১৩ জাতীয় র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট পশ্চিমবঙ্গের শাটলারদের জন্য শুধু ঘরের কোর্টে খেলার সুযোগ নয়। এটি দেশের ব্যাডমিন্টন মানের সঙ্গে সরাসরি পরিচয়ের ক্ষেত্র।


ধ্রুব সিংহ, শুভ মিতা কর্মকার, ধৈর্য সিংহ এবং শরণ্যা গুপ্তার মতো তরুণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ দেখায় যে রাজ্যে জুনিয়র স্তরে আগ্রহ আছে, প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতি আছে, এবং জাতীয় সার্কিটে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও আছে।


এই বয়সে প্রতিটি অভিজ্ঞতা জমা হয়। কখনও সেটি একটি ভালো র‍্যালি, কখনও কঠিন হার, কখনও প্রথম জাতীয় ম্যাচের চাপ, কখনও নতুন পার্টনারের সঙ্গে বোঝাপড়া। সময়ের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতাই খেলোয়াড়কে পরিণত করে।


পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র ব্যাডমিন্টনের জন্য সবচেয়ে বড় বার্তা হলো, পথ তৈরি হচ্ছে। এখন দরকার ধারাবাহিকতা, স্থানীয় প্রতিযোগিতা থেকে জাতীয় মঞ্চে সেতুবন্ধন, এবং তরুণ খেলোয়াড়দের ধৈর্য নিয়ে গড়ে তোলা।


ধ্রুব সিংহ ও শুভ মিতা কর্মকারের অংশগ্রহণ সেই বড় ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলাফল যাই হোক, কলকাতার এই জাতীয় টুর্নামেন্ট তাদের মতো তরুণ শাটলারদের সামনে একটি পরিষ্কার বার্তা রাখছে, বড় মঞ্চে নামতে হলে এখন থেকেই শিখতে হবে, লড়তে হবে, এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকে আরও ভালো হয়ে ফিরতে হবে।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page