top of page

অভ্যন্তরীণ আপত্তির পর নির্বাচন কমিশন এসআইআর-সংযুক্ত ফর্ম ৬-এর ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে।

Writer: Gobinda Biswas
Gobinda Biswas
1 day ago
6 min read
ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে একটি ভোটার নিবন্ধন ফর্ম হাতে ধরে থাকা একজন নাগরিক।
নির্বাচন কমিশন এসআইআর-সংযুক্ত ফর্ম ৬-এর ঘোষণা প্রত্যাহার

ভারতের নির্বাচন কমিশন ECINET পোর্টালে নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত Form 6 থেকে Special Intensive Revision বা SIR-সংযুক্ত একটি অতিরিক্ত ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে। এই ডিজিটাল ঘোষণাটি ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে যোগ করা হয়েছিল, কিন্তু পরে কমিশনের ভেতর থেকেই এর বৈধতা নিয়ে আপত্তি ওঠে।


ঘোষণাটিতে আবেদনকারীদের নিজেদের, অথবা তাঁদের বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদির নাম আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত করে তথ্য দিতে বলা হচ্ছিল। এর মধ্যে পুরনো বুথ, সিরিয়াল নম্বর এবং ভোটার তালিকার পূর্ববর্তী বিবরণের মতো তথ্য চাওয়া হয়েছিল। আপত্তির মূল জায়গা ছিল, সংবিধিবদ্ধ Form 6-এ এই ধরনের সংযোজন আনুষ্ঠানিক নিয়ম সংশোধন ছাড়া করা যায় কি না।



কী পরিবর্তন করা হয়েছিল


ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল দৃশ্যে একটি ভোটার নিবন্ধন ফর্ম হাতে ধরে থাকা একজন নাগরিক।
Form 6-এ ডিজিটাল পরিবর্তন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Form 6 হল নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত নির্ধারিত ফর্ম। সাধারণভাবে ১৮ বছর পূর্ণ করা নাগরিক, অথবা যাঁরা নতুন ঠিকানায় ভোটার হিসেবে নাম তুলতে চান, তাঁরা এই ফর্ম ব্যবহার করেন। নির্বাচন কমিশনের ECINET পোর্টালে এই ফর্মের ডিজিটাল সংস্করণে SIR-সংযুক্ত একটি অতিরিক্ত ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল।


এই ঘোষণার মাধ্যমে আবেদনকারীদের অতীত ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযোগ দেখাতে বলা হচ্ছিল। আবেদনকারীর নিজের নাম আগে কোনও ভোটার তালিকায় ছিল কি না, অথবা পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদির নাম পুরনো তালিকায় ছিল কি না, সেই তথ্য চাওয়া হচ্ছিল।


চাওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল:


  • আগের ভোটার তালিকার বিবরণ

  • পূর্ববর্তী বুথের তথ্য

  • সিরিয়াল নম্বর

  • পরিবারের সদস্যের ভোটার তালিকার সংযোগ

  • আবেদনকারীর সঙ্গে ওই সদস্যের সম্পর্ক


SIR বা Special Intensive Revision সাধারণত ভোটার তালিকা পর্যালোচনা ও সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য ভোটার তালিকার যথার্থতা পরীক্ষা করা, নতুন যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্য বা পুনরাবৃত্ত নাম বাদ দেওয়া। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে Form 6-এর ডিজিটাল ঘোষণাকে যুক্ত করার পদ্ধতি নিয়েই আপত্তি ওঠে।


মূল প্রশ্ন ছিল, একটি সংবিধিবদ্ধ ফর্মের কাঠামো কি শুধু ডিজিটাল পোর্টালে পরিবর্তন করে বদলানো যায়। কারণ Form 6 নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়মের অধীনে নির্ধারিত। এর শব্দবিন্যাস, তথ্যের ধরন এবং ঘোষণার অংশ সাধারণ প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে বদলানো যাবে কি না, তা নিয়ে কমিশনের ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হয়।


কমিশনের ভেতরে আপত্তি ওঠে


নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী এই সংযোজন নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, Form 6 একটি সংবিধিবদ্ধ নথি। তাই নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া তাতে নতুন ঘোষণা যুক্ত করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।


তাঁদের আপত্তির মূল বক্তব্য ছিল, ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত করা কোনও অতিরিক্ত শর্ত বা ঘোষণা যদি মূল Form 6-এ না থাকে, তাহলে তা আবেদনকারীর ওপর অতিরিক্ত দায় তৈরি করতে পারে। এই ধরনের পদক্ষেপের জন্য নির্বাচন বিধির অধীনে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।


এই আপত্তিকে কেন্দ্র করে কমিশনের অভ্যন্তরীণ স্তরে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ছিল না। এটি ভোটার নিবন্ধনের আইনি কাঠামো, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং ডিজিটাল সিস্টেমের সীমারেখার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।


Form 6-এ কী থাকবে, তা নির্বাচন সংক্রান্ত বিধির অংশ। তাই কমিশনের কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত ঘোষণা দেখানো হলেও সেটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কি না, সেই প্রশ্ন সামনে আসে। সান্ধু ও জোশীর আপত্তির পর বিষয়টি কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পায়।


ক্লোজ-আপ দৃশ্যে একটি ট্যাবলেটে ভোটার নিবন্ধন পোর্টালের ফর্ম দেখা যাচ্ছে।
ECINET পোর্টালে Form 6-এর ডিজিটাল কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কেন এই ঘোষণাকে বিতর্কিত বলা হচ্ছে


বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু দুটি বিষয়। প্রথমটি হল আইনগত অনুমোদন। দ্বিতীয়টি হল ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকের ওপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত তথ্যভার।


Form 6-এ নতুন ভোটাররা সাধারণত নিজেদের পরিচয়, বয়স, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় ঘোষণার তথ্য দেন। কিন্তু SIR-সংযুক্ত ঘোষণায় অতীত ভোটার তালিকার সঙ্গে পারিবারিক সংযোগের তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। অনেক আবেদনকারীর পক্ষে এই ধরনের পুরনো তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যদি পরিবার বহু বছর আগে অন্য এলাকায় থাকত, অথবা পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার বিস্তারিত তাদের কাছে না থাকে।


পুরনো বুথ বা সিরিয়াল নম্বরের তথ্য সাধারণ নাগরিকের হাতে সব সময় থাকে না। পরিবারে আগের প্রজন্মের ভোটার তালিকার তথ্যও অনেক ক্ষেত্রে অজানা থাকে। ফলে প্রশ্ন ওঠে, এমন তথ্য না দিতে পারলে নতুন ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া কি জটিল হয়ে উঠবে।


নির্বাচন কমিশনের ভেতরের আপত্তি এই জায়গাতেই তাৎপর্যপূর্ণ। আপত্তিকারীরা মনে করেন, সংবিধিবদ্ধ ফর্মে অনুমোদনহীন সংযোজন নাগরিকের অধিকার সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই সেখানে কোনও অতিরিক্ত শর্ত আরোপের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে স্পষ্ট অনুমোদন জরুরি।


বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ এই পরিবর্তনটি কাগজের Form 6-এ আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন এনে করা হয়নি। এটি ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল। ফলে প্রশ্ন ওঠে, ডিজিটাল সংস্করণ কি সংবিধিবদ্ধ ফর্মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ঘোষণা চাইতে পারে।


প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কী বলছে


আভ্যন্তরীণ আপত্তির পর নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে SIR প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেই রাজ্যগুলিতে Form 6 থেকে SIR-সংযুক্ত অতিরিক্ত ঘোষণা সরিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ এসব রাজ্যে নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময় ECINET পোর্টালে ওই ঘোষণা আর থাকবে না।


তবে যেখানে SIR এখনও চলছে, সেখানে ঘোষণাটি প্রযোজ্য থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই অবস্থান দেখাচ্ছে, কমিশন একবারে সারাদেশে একই পদ্ধতিতে পরিবর্তনটি প্রত্যাহার করছে না। SIR-এর পর্যায়ভেদে বিভিন্ন রাজ্যে এর প্রয়োগ আলাদা হতে পারে।


এই সিদ্ধান্তের ফলে দুটি আলাদা বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। যেসব রাজ্যে SIR শেষ হয়েছে, সেখানে আবেদনকারীরা ওই অতিরিক্ত ঘোষণা ছাড়া Form 6 জমা দিতে পারবেন। অন্যদিকে, যেখানে SIR চলছে, সেখানে আবেদনকারীদের এখনও সেই তথ্য দিতে বলা হতে পারে।


এখানেই প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। একই জাতীয় ভোটার নিবন্ধন ফর্ম এক রাজ্যে একভাবে এবং অন্য রাজ্যে অন্যভাবে ব্যবহৃত হলে নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ECINET-এর মতো কেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থায় ফর্মের সংস্করণ ও শর্তের ধারাবাহিকতা জরুরি।


Form 6 একটি সংবিধিবদ্ধ নথি হওয়ায় তার ডিজিটাল সংস্করণেও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন, এই যুক্তিই কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তির কেন্দ্রে ছিল।

ECINET পোর্টাল কেন আলোচনার কেন্দ্রে


ECINET নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার অংশ, যার মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন, সংশোধন এবং অন্যান্য নির্বাচনী পরিষেবার কাজ করা হয়। ভোটারদের জন্য ডিজিটাল সুবিধা দ্রুততা ও সহজতা এনে দেয়। কিন্তু এই ঘটনা দেখিয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনও ফর্ম পরিবর্তনের আইনি সীমা স্পষ্ট থাকা দরকার।


ডিজিটাল পোর্টাল অনেক সময় প্রশাসনিক পরিবর্তন দ্রুত কার্যকর করতে পারে। কিন্তু ভোটার নিবন্ধনের মতো সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং আইনি অনুমোদনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। পোর্টালে কোনও নতুন ঘোষণা বা তথ্যক্ষেত্র যোগ করা সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে বাধ্যতামূলক মনে হতে পারে, এমনকি যদি তার আইনি ভিত্তি প্রশ্নের মুখে থাকে।


এই সিদ্ধান্ত তাই ECINET-এর ব্যবহার বা ডিজিটাল ভোটার পরিষেবার বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি দেখাচ্ছে, ডিজিটাল ব্যবস্থার নকশা আইনগত কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে চলতে হবে। প্রযুক্তি প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে, কিন্তু সংবিধিবদ্ধ ফর্মের বিষয়বস্তু বদলানোর বিকল্প হতে পারে না।


আই-লেভেল দৃশ্যে একটি জনসেবা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা যাচাই করছেন একজন নাগরিক।
ডিজিটাল ভোটার পরিষেবা সহজ হলেও আইনি সীমা স্পষ্ট থাকা দরকার।

ভোটারদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব


এই সিদ্ধান্তের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে নতুন ভোটার আবেদনকারীদের ওপর। Form 6 জমা দেওয়ার সময় অতিরিক্ত পারিবারিক ভোটার তালিকার তথ্য না চাইলে আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হবে। যাঁদের কাছে পুরনো বুথ বা সিরিয়াল সংক্রান্ত তথ্য নেই, তাঁদের জন্যও প্রক্রিয়াটি কম জটিল হবে।


তবে যেখানে SIR এখনও চলমান, সেখানে আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য দিতে বলা হতে পারে। এই অবস্থায় স্থানীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এবং পোর্টালে দেখানো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র অনুযায়ী আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।


এই ঘটনার পরে কয়েকটি ব্যবহারিক প্রশ্ন সামনে এসেছে:


  • আবেদনকারী অতীত ভোটার তালিকার তথ্য না জানলে কী হবে

  • পরিবারের পুরনো ভোটার তথ্য না থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য থাকবে কি না

  • ডিজিটাল ফর্মে দেখানো অতিরিক্ত ঘোষণার আইনি অবস্থান কী

  • SIR সম্পন্ন এবং SIR চলমান রাজ্যের জন্য আলাদা নিয়ম কীভাবে বোঝানো হবে


এসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবে জানানো হলে আবেদনকারীদের বিভ্রান্তি কমবে। ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক নাগরিক জীবনে প্রথমবার Form 6 ব্যবহার করেন।


আইনগত কাঠামোর প্রশ্ন সামনে এল


এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বাইরে একটি বড় প্রশ্ন তুলেছে। তা হল, সংবিধিবদ্ধ ফর্ম ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবহার করার সময় পরিবর্তনের সীমা কোথায়।


ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় Form 6, Form 7, Form 8-এর মতো ফর্মগুলির নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। এগুলির মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম যোগ করা, আপত্তি বা নাম বাদ দেওয়ার আবেদন, এবং তথ্য সংশোধনের কাজ হয়। এই ফর্মগুলির কাঠামো যদি নিয়মের অংশ হয়, তাহলে কোনও নতুন ঘোষণা যুক্ত করতে হলে সেই নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে।


কমিশনের ভেতরে আপত্তি ওঠার ফলে বোঝা যায়, বিষয়টি শুধু একটি অতিরিক্ত টিকবক্স বা অনলাইন ঘোষণা ছিল না। এটি একটি মৌলিক প্রশাসনিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যোগ করা কোনও ক্ষেত্র কি নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক হবে, যদি তা সংবিধিবদ্ধ ফর্মে অনুমোদিত না থাকে।


এই প্রশ্ন ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন যত বেশি ডিজিটাল পদ্ধতির ওপর নির্ভর করবে, তত বেশি দরকার হবে স্বচ্ছ পরিবর্তন প্রক্রিয়া। কোন পরিবর্তন প্রযুক্তিগত, আর কোন পরিবর্তন আইনি সংশোধন দাবি করে, এই সীমারেখা স্পষ্ট করতে হবে।


কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের তাৎপর্য


নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কমিশনারের মধ্যে মতভিন্নতা নতুন নয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে মতবিরোধ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ভোটার তালিকার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত বৈধতার প্রশ্ন তুলেছে।


সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীর আপত্তি দেখিয়েছে, কমিশনের ভেতরে সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুমোদনহীন সংযোজন বৈধ নয়। এই আপত্তির পর কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে, অন্তত সেই রাজ্যগুলিতে যেখানে SIR সম্পন্ন হয়েছে।


এতে একটি প্রশাসনিক বার্তাও যায়। ডিজিটাল ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব হলেও, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন পরিবর্তনকে আইন, বিধি ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির সঙ্গে মেলাতে হয়। ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এই সাবধানতা জরুরি।


উপরের দিক থেকে দৃশ্যে একটি ব্যালট বাক্সের পাশে রাখা ভোটার নিবন্ধন ফর্ম।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আস্থা জড়িয়ে থাকে।

এরপর কী হতে পারে


নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরে নজর থাকবে কয়েকটি বিষয়ের দিকে। প্রথমত, SIR সম্পন্ন রাজ্যগুলিতে ECINET পোর্টালে Form 6-এর পরিবর্তন কত দ্রুত প্রতিফলিত হয়। দ্বিতীয়ত, যেখানে SIR চলছে, সেখানে অতিরিক্ত ঘোষণার প্রয়োগ কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। তৃতীয়ত, কমিশন ভবিষ্যতে Form 6 বা অন্য কোনও সংবিধিবদ্ধ ফর্মে ডিজিটাল পরিবর্তনের জন্য আলাদা নির্দেশিকা দেয় কি না।


এই ঘটনায় ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার প্রয়োজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম সহজবোধ্য হওয়া দরকার। একই সঙ্গে কমিশনের জন্য জরুরি, ফর্মে যে তথ্য চাওয়া হচ্ছে তার আইনি ভিত্তি পরিষ্কার করা।


EC Withdraws SIR Linked Form 6 Declaration After Internal Objection ঘটনাটি তাই শুধু একটি ডিজিটাল ঘোষণা প্রত্যাহারের খবর নয়। এটি দেখাচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও আইনগত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া যায় না।


ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় আস্থা অনেকটাই নির্ভর করে নিয়মের স্পষ্টতা, প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা এবং নাগরিকের সহজ অংশগ্রহণের ওপর। Form 6 নিয়ে নেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই তিনটি বিষয়কেই আবার আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।


Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating
bottom of page